জীববিজ্ঞান • জীবের পরিবেশ

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

একটি গ্রামে ফসলের পোকামাকড় মারতে কৃষকেরা ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহার করছিলেন। ফলে মাঠের ব্যাঙ ধ্বংস হয়ে যায়। পরে গ্রামবাসীরা মনে করল পেঁচা অপয়া পাখি, তাই তারা পেঁচা মেরে ফেলতে শুরু করল। এক বছর পর দেখা গেল ফসলে পোকার আক্রমণ আগের চেয়ে বেড়েছে এবং গ্রামের ঘরে ঘরে ইঁদুরের উৎপাত শুরু হয়েছে। একজোড়া ইঁদুর বিনা বাধায় বংশ বিস্তার করলে বছর শেষে ইঁদুরের সংখ্যা দাঁড়ায় 440 টিতে। একটি পেঁচা দিনে কমপক্ষে তিনটি ইঁদুর খেয়ে হজম করতে পারে।

  1. ক)

    প্রজাতি কী?

    (1)
  2. খ)

    কোনো জীবকেই অপ্রয়োজনীয় বলা যায় না কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ব্যাঙ ধ্বংস হওয়ায় পরিবেশে কী প্রভাব পড়বে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পেঁচার ভূমিকা গাণিতিক হিসাবসহ বিশ্লেষণ করো এবং বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতায় জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেসব জীবের দৈহিক ও জননসংক্রান্ত চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য পারস্পরিক সাদৃশ্যযুক্ত এবং যারা একই পূর্বপুরুষ থেকে উদ্ভূত, তাদের সমষ্টিকে প্রজাতি বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরিবেশের উপাদানগুলো পরস্পরের সাথে অঙ্গাঙ্গিভাবে সম্পর্কযুক্ত। যেসব জীবকে এক সময় অপ্রয়োজনীয় ও অবাঞ্ছিত মনে করা হতো, তারা পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন শকুন, চিল ও কাক প্রকৃতির জঞ্জাল পরিষ্কার করে, পেঁচা ইঁদুর খেয়ে এদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যাঙ ক্ষতিকর পোকামাকড় খায়। কোনো একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হলে বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়। তাই কোনো জীবকেই অপ্রয়োজনীয় বলা যায় না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ব্যাঙ পরিবেশের একটি উপকারী প্রাণী। একটি পূর্ণবয়স্ক ব্যাঙ একদিনে তার ওজনের সমপরিমাণ পোকামাকড় খেয়ে ফেলতে পারে। এই পোকামাকড় আমাদের ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। উদ্দীপকে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে ব্যাঙ ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্যাঙ না থাকায় পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে যাবে এবং ফসলের ক্ষতি বাড়বে। এছাড়া ব্যাঙ খাদ্যশিকলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কড়ি হওয়ায় তাকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণকারী সাপ ইত্যাদি প্রাণীও খাদ্যসংকটে পড়বে। ফলে খাদ্যজাল ও বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হবে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপক অনুযায়ী একজোড়া ইঁদুর বছর শেষে বংশবিস্তার করে 440টিতে পরিণত হয়। একটি পেঁচা দিনে অন্তত 3টি ইঁদুর খায়।
    একটি পেঁচা দিনে 3টি ইঁদুর খেলে 440টি ইঁদুর খেতে সময় লাগবে = 4403≈147\frac{440}{3} \approx 147 দিন।
    ধরা যাক, ইঁদুরগুলোকে 30 দিনের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। একটি পেঁচা 30 দিনে খায় = 3×303 \times 30 = 90টি ইঁদুর।
    তাহলে প্রয়োজনীয় পেঁচার সংখ্যা = 44090≈4.9\frac{440}{90} \approx 4.9, অর্থাৎ প্রায় 5টি।
    এ হিসাব থেকে বোঝা যায় অল্পসংখ্যক পেঁচাই ইঁদুরের সংখ্যা সহজে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। কিন্তু উদ্দীপকে পেঁচা মেরে ফেলায় ইঁদুরের এই প্রাকৃতিক নিয়ন্ত্রক থাকেনি, ফলে ইঁদুর বিনা বাধায় বংশ বিস্তার করে ঘরে ঘরে উৎপাত করছে এবং ফসল ও খাদ্যের ক্ষতি করছে।
    উদ্দীপকের ঘটনা থেকে স্পষ্ট যে, পরিবেশ থেকে একটি প্রজাতি বিলুপ্ত হলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে খাদ্যজালে ভারসাম্যহীনতা দেখা দেয়। ব্যাঙ ধ্বংস হওয়ায় পোকামাকড় বেড়েছে, পেঁচা ধ্বংস হওয়ায় ইঁদুর বেড়েছে। অতএব, প্রতিটি প্রজাতি বাস্তুতন্ত্রে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা পেলেই বাস্তুতন্ত্রের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও