বাংলা ১ম পত্র • অন্ধবধূ
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
নবম শ্রেণির ছাত্রী সুমি জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন। পাড়ার প্রতিবেশীরা তাকে দেখে বলে, “আহা, বেচারির জীবনটাই বৃথা।” এতে সুমির মা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “আমার মেয়ে নিজের কষ্টের কথাও মুখ ফুটে বলতে পারে না, কেবল চুপচাপ বসে থাকে।” সুমির শিক্ষক মাহবুব স্যার অভিভাবকদের বোঝালেন, সুমি লেখাপড়ায় ভালো, তাকে সুযোগ দিলে সে অনেক দূর যেতে পারবে। তিনি ব্রেইল বইয়ের ব্যবস্থা করে দিলেন।
- ক)(1)
যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জন্ম কত খ্রিষ্টাব্দে?
- খ)(2)
“কাঁদার সুখ যে বারণ তাহার—ছাই!”—কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের প্রতিবেশীদের মনোভাবে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার পাঠ-পরিচিতির কোন বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটেছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশে মাহবুব স্যারের ভূমিকা ‘অন্ধবধূ’ কবিতার বার্তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।”—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যতীন্দ্রমোহন বাগচীর জন্ম ১৮৭৮ খ্রিষ্টাব্দে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষ কাঁদলে মনের দুঃখ-শোক কিছুটা কমে যায়। এটিই ‘কাঁদার সুখ’। ‘চোখ গেল’ পাখির কথা বলতে গিয়ে বধূ বলেছে, যার জন্ম থেকেই চোখ নেই, কাঁদার সুযোগও তার নেই। অর্থাৎ অন্ধজনের পক্ষে কেঁদে বুক হালকা করার এই সান্ত্বনাও সহজ নয়। এতে তার গভীর বেদনা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রতিবেশীদের মনোভাবে ‘অন্ধবধূ’ কবিতার পাঠ-পরিচিতির সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে—এই বক্তব্যের প্রতিফলন ঘটেছে। পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, সমাজ দৃষ্টিহীনদের অবজ্ঞা করে এবং তারা নিজেরাও নিজেদের অসহায় ভাবে। উদ্দীপকে প্রতিবেশীরা সুমিকে দেখে বলে, তার জীবনটাই বৃথা। এতে তারা সুমিকে করুণা ও অবজ্ঞার চোখে দেখেছে, তার সম্ভাবনাকে মূল্য দেয়নি। কবিতায়ও বধূ নিজেকে অসহায় ভেবে বলে, অন্ধ চলে গেলে তেমন ক্ষতি হবে না; এটি পাঠ-পরিচিতির বক্তব্যেরই প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। ‘অন্ধবধূ’ কবিতায় কবি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের প্রতি সংবেদনশীল ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন এবং দেখিয়েছেন, ইন্দ্রিয়সচেতনতা ও অন্তদৃষ্টি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। ১. সহমর্মিতা: কবিতায় অন্ধবধূর বেদনা, তার কাঁদতে না পারার কষ্ট ও একাকিত্ব সহানুভূতির সঙ্গে ফুটে উঠেছে। মাহবুব স্যারও সুমির প্রতি সমবেদনা দেখিয়ে তার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। ২. সম্ভাবনার স্বীকৃতি: কবিতায় বধূ অনুভবে জগৎকে চেনে। স্যারও বুঝেছেন সুমি লেখাপড়ায় ভালো, সুযোগ পেলে এগিয়ে যেতে পারবে। ৩. বাস্তব সহায়তা: কবিতা সহমর্মিতার বার্তা দেয়; স্যার ব্রেইল বইয়ের ব্যবস্থা করে সেই বার্তাকে কাজে পরিণত করেছেন। অতএব, স্যারের ভূমিকা কবিতার মানবিক বার্তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও