সাহিত্য পাঠ • বিলাসী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

চরভাঙা গ্রামের রফিক ও তার বন্ধুরা প্রতিদিন কাদাভরা মেঠো পথ ধরে প্রায় ছয় কিলোমিটার হেঁটে উপজেলা সদরের কলেজে যায়। বর্ষায় পায়ের নিচে কাদা আর গ্রীষ্মে মাথার ওপর কড়া রোদ—এই পথ পেরিয়ে ক্লাসে পৌঁছাতেই তাদের শক্তি ফুরিয়ে যায়, পড়ায় মন বসে না। এ কারণে রফিকের দুই বড় ভাই অনেক আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছে। আবার যাদের সামর্থ্য আছে, তারা ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্য পরিবার নিয়ে শহরে চলে গেছে। গ্রামে এখন শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা হাতে গোনা।

  1. ক)

    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন?

    (1)
  2. খ)

    “তাঁদের চার ক্রোশ হাঁটা বিদ্যার তেজ আত্মপ্রকাশ করিবেই করিবে”—ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কোন দিকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকে ‘বিলাসী’ গল্পের শিক্ষাসংক্রান্ত সমালোচনার পূর্ণ রূপ প্রতিফলিত হয়নি”—বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৯৩৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি লাভ করেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পল্লিগ্রামের ছেলেদের প্রতিদিন চার ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। বর্ষায় কাদা আর গ্রীষ্মে ধুলা ও রোদের কষ্টে তারা ঠিকমতো শিক্ষা অর্জন করতে পারে না। কথক ব্যঙ্গ করে বলেছেন যে এভাবে অর্জিত অসম্পূর্ণ বিদ্যা নিয়ে তারা বড় হয়ে গ্রামে থাকলে বা জীবিকার জন্য অন্যত্র গেলে সেই অজ্ঞতা ও অসম্পূর্ণতা নানাভাবে প্রকাশ পাবেই। এর মাধ্যমে তৎকালীন পল্লিগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রফিক ও তার বন্ধুদের দীর্ঘ পথ হেঁটে কলেজে যাওয়ার কষ্ট এবং শিক্ষিত ও সচ্ছল মানুষের গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে যাওয়ার দিকটি ‘বিলাসী’ গল্পের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।

    ‘বিলাসী’ গল্পে কথক জানিয়েছেন যে তাঁদের পাকা দুই ক্রোশ পথ হেঁটে স্কুলে যেতে হয়, অর্থাৎ যাতায়াতে চার ক্রোশ। বর্ষায় মাথায় বৃষ্টি আর পায়ে এক হাঁটু কাদা এবং গ্রীষ্মে রোদ ও ধুলার মধ্য দিয়ে এই পথ পাড়ি দিতে হয়। উদ্দীপকেও কাদা ও রোদের কষ্ট সহ্য করে ছয় কিলোমিটার হেঁটে কলেজে যাওয়ার কথা আছে। আবার গল্পে বলা হয়েছে, যাঁদের সামর্থ্য আছে সেই ভদ্রলোকেরা চার ক্রোশ হাঁটার জ্বালায় ছেলেপুলে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। উদ্দীপকেও সামর্থ্যবান পরিবারগুলো শহরে চলে গেছে। সুতরাং পথের কষ্ট ও তার ফলে গ্রামের মানুষের গ্রামত্যাগ—এই দুই দিকে উদ্দীপক ও গল্পের মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে কেবল শিক্ষার্থীদের পথের কষ্ট ও তার ফলে শিক্ষা ছেড়ে দেওয়া বা গ্রাম ত্যাগের কথা এসেছে। ‘বিলাসী’ গল্পে কথক পল্লিগ্রামের শিক্ষাব্যবস্থার আরও গভীর ও বহুমাত্রিক সমালোচনা করেছেন। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

    গল্পে দেখা যায়, দীর্ঘ পথের কষ্টের কারণে ছেলেরা প্রকৃত বিদ্যা অর্জন করতে পারে না। পথে কার বাগানে আম পাকছে, কার গাছে কাঁঠাল পেকেছে, কার পুকুরপাড়ে খেজুর কাটলে ধরা পড়ার ভয় কম—এসব খবর নিতেই তাদের সময় চলে যায়। ফলে তারা এডেন-কে ‘পারশিয়ার বন্দর’ এবং হুমায়ুনের বাপের নাম ‘তোগলক খাঁ’ লিখে আসে। চল্লিশের কোঠা পার হয়েও তাদের এসব বিষয়ের ধারণা একই থাকে। প্রমোশনের দিন মুখ ভার করে ফিরে তারা মাস্টারকে ঠ্যাঙানো বা স্কুল ছেড়ে দেওয়ার মতলব করে। অর্থাৎ গল্পে শিক্ষার ব্যর্থতার পেছনে পথের কষ্টের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অমনোযোগ ও শিক্ষার প্রতি অনীহাও চিত্রিত হয়েছে।

    উদ্দীপকে এসব বিষয়ের কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে সমস্যাটি শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগ ও গ্রামে শিক্ষিত মানুষের অভাবে সীমাবদ্ধ। গল্পের ব্যঙ্গাত্মক সুরও উদ্দীপকে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপক ‘বিলাসী’ গল্পের শিক্ষাসংক্রান্ত সমালোচনার একটি অংশকেই ধারণ করেছে, পূর্ণ রূপকে নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও