বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের নদ-নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদ
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি শীতের ছুটিতে গাজীপুরের ভাওয়াল এলাকার একটি বনে বেড়াতে গিয়ে দেখল, বনটির প্রধান গাছ শাল এবং শীতকালে গাছগুলোর সব পাতা ঝরে গেছে। তার বন্ধু সাদিয়া খুলনার উপকূলের একটি বনে গিয়ে দেখল, জোয়ার-ভাটার লোনা ও স্যাঁতসেঁতে মাটিতে সুন্দরী, গেওয়া ও কেওড়া গাছ জন্মেছে। ফিরে এসে তারা জানতে পারল, বাংলাদেশে বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম এবং তা ক্রমেই আরও কমছে।
- ক)(1)
বনভূমি কাকে বলে?
- খ)(2)
ক্রান্তীয় চিরহরিৎ বনভূমিকে চিরসবুজ বন বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রাফির দেখা বনভূমিটির বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শেষ বাক্যে উল্লেখিত সমস্যাটির কারণ বিশ্লেষণ করো এবং বন রক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বৃক্ষরাজি যে ভূমিতে সমারোহ ঘটায় অর্থাৎ যে ভূমি গাছপালায় আচ্ছাদিত থাকে, তাকে বনভূমি বলে। এই বন থেকে কাঠ, মধু, মোম ইত্যাদি বনজসম্পদ পাওয়া যায়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বের পাহাড়ি অঞ্চলের জলবায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র এবং সেখানে সারা বছর প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এই পরিবেশে নানা প্রজাতির গাছপালা, তরুলতা, ঝোপঝাড় ও গুল্ম জন্মায়। এসব গাছের পাতা একসঙ্গে ফোটেও না, একসঙ্গে ঝরেও না। ফলে বনটি সারা বছর সবুজ থাকে। এ কারণেই এ বনকে চিরহরিৎ বা চিরসবুজ বনভূমি বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাফির দেখা বনভূমিটি ক্রান্তীয় পাতাঝরা বা পত্রপতনশীল অরণ্য। এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো:
১. অবস্থান: ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, গাজীপুর, দিনাজপুর ও রংপুর জেলায় এ বনভূমি দেখা যায়। ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরের বনকে মধুপুর-ভাওয়াল বনভূমি এবং দিনাজপুর অঞ্চলের বনকে বরেন্দ্র অঞ্চলের বনভূমি বলা হয়।
২. পাতা ঝরা: এ বনের গাছের পাতা শীতকালে একবার সম্পূর্ণরূপে ঝরে যায়। উদ্দীপকে রাফি শীতকালে গাছের পাতা ঝরে যেতে দেখেছে, যা এই বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়।
৩. প্রধান বৃক্ষ: এ বনে শাল বা গজারি গাছই প্রধান, তাই একে শালবনও বলা হয়। এছাড়া কড়ই, বহেরা, হিজল, শিরীষ, হরীতকী, কাঁঠাল, নিম ইত্যাদি গাছও জন্মায়।
অতএব রাফির দেখা বনভূমিটি ক্রান্তীয় পাতাঝরা বনভূমি, যার প্রধান বৈশিষ্ট্য শীতকালে পাতা ঝরে যাওয়া ও শাল গাছের প্রাধান্য। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাংলাদেশের বনভূমি প্রয়োজনের তুলনায় কম এবং ক্রমেই কমে যাচ্ছে বলে উল্লেখ আছে।
সমস্যার কারণ: একটি দেশের মোট আয়তনের ২০-২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন, কিন্তু বাংলাদেশে আছে মাত্র প্রায় ১৭ শতাংশ। জনসংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ফলে ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র নির্মাণে মূল্যবান কাঠের চাহিদা বাড়ছে। এ কাঠ বনভূমি থেকেই সরবরাহ করা হয়, তাই বন কমে যাচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন মানবীয় কর্মকাণ্ড, উন্নয়ন প্রকল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং কিছু লোভী ও অসাধু মানুষের অপতৎপরতাও বনের ক্ষতি করছে।
স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ভূমিকা: বনের পাশে বসবাসকারী মানুষই বনের ক্ষতি সবার আগে দেখতে পায় এবং তা ঠেকাতে পারে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজ যৌথভাবে অবৈধ গাছ কাটা ও বন দখলের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে পারে। তারা বনের গুরুত্ব সম্পর্কে অন্যদের জানাতে পারে এবং অসাধু ব্যক্তিদের তৎপরতা প্রশাসনের নজরে আনতে পারে। এভাবে সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে বনভূমি রক্ষা সম্ভব।
মূল্যায়ন: বন শুধু বনজসম্পদের উৎস নয়, আলো-বাতাস ও সবুজ প্রকৃতির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত জীবনের জন্যও জরুরি। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া বন রক্ষা সম্ভব নয়। তাই জনসম্পৃক্ততাই বনভূমি রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও