বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহ ও বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রকৃতি

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

কুষ্টিয়ার আলু চাষি করিম এ বছর ভালো ফলন পেয়েছে। কিন্তু গ্রামে হিমাগার নেই, মহাজনের যোগসাজসে দালালরা কম দামে আলু কিনে নিল। শহরে নিতে পরিবহন খরচও বেশি। কৃষিঋণ নিতে গেলে ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ঘুষ চাইলেন, ফলে করিম ঋণ পেল না। তার দাদু বললেন, 'আমাদের এই অঞ্চলের তাঁতের কাপড় এক সময় সারা পৃথিবীতে সমাদৃত ছিল। পলাশীর যুদ্ধের পর সব ধ্বংস হয়ে গেল।' বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও এ ধরনের পরিবেশে আসতে চায় না।

  1. ক)

    পলাশীর যুদ্ধ কত সালে সংঘটিত হয়?

    (1)
  2. খ)

    ঔপনিবেশিক শাসনে বাংলার বস্ত্রশিল্প ধ্বংস হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে করিমের আলু বিক্রির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কৃষির কোন প্রতিবন্ধকতা প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    করিমদের এসব সমস্যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রসরতার পথে কীভাবে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়? সুশাসন, কৃষি অবকাঠামো ও ঐতিহাসিক পটভূমির আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পলাশীর যুদ্ধ ১৭৫৭ সালে সংঘটিত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুসলিম শাসনআমলে বাংলার বস্ত্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সমাদৃত ছিল। ব্রিটিশ শাসনে ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লব ঘটে এবং যন্ত্রযুগের শুরু হয়। সেখানকার বড়ো কলে কম খরচে উৎপাদিত বস্ত্র দিয়ে ইংরেজরা বাংলার বাজার দখল করে নেয়। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে বাংলার বিশ্বখ্যাত বস্ত্রশিল্প ও অন্যান্য শিল্প ধ্বংস হয় এবং বাংলাদেশ ইংল্যান্ডের শিল্পজাত পণ্যের বাজারে পরিণত হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে করিমের আলু বিক্রির ক্ষেত্রে কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ ও সংরক্ষণের প্রতিবন্ধকতা প্রকাশ পেয়েছে।

    পণ্য বাজারজাত করতে পরিবহনের উচ্চ ব্যয় এবং সংরক্ষণ ও গুদামজাত করার সুবিধার অভাবে উৎপাদন কমে যায়। উদ্দীপকে গ্রামে হিমাগার না থাকায় করিম আলু সংরক্ষণ করে ভালো দামের জন্য অপেক্ষা করতে পারেনি, আবার শহরে নিতে পরিবহন খরচও বেশি। এর ওপর উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য থাকে। উদ্দীপকে দালালরা কম দামে আলু কিনে নিয়েছে। ফলে প্রকৃত উৎপাদক করিম ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে কৃষকরা উৎপাদনের উৎসাহ হারান এবং নতুন উদ্যোগ নিতে আগ্রহী হন না।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সমস্যাগুলো বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রসরতার তিনটি প্রধান প্রতিবন্ধকতার প্রতিফলন।

    ১. সুশাসনের অভাব ও দুর্নীতি: সুশাসনের দুই স্তম্ভ জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা অনুপস্থিত থাকলে দুর্নীতি বিস্তার লাভ করে। উদ্দীপকে ঋণ দিতে ঘুষ চাওয়া তারই উদাহরণ। এতে করিমের মতো কৃষক উন্নত সেবা ও সুলভ ঋণ থেকে বঞ্চিত হন। দুর্নীতির উপস্থিতিতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হয় না, ফলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয়।

    ২. কৃষি খাতের অবকাঠামোগত ও বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতা: কৃষিক্ষেত্রে অগ্রসরতার সবচেয়ে বড়ো বাধা অবকাঠামোর দুর্বলতা। প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার অভাবে কৃষিঋণ সুলভ হয় না। সংরক্ষণ ও পরিবহন সুবিধা না থাকায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষক ন্যায্যমূল্য পান না। কৃষি দেশের ভিত্তিস্বরূপ খাত বলে এর দুর্বলতা পুরো অর্থনীতির গতি কমিয়ে দেয়।

    ৩. ঐতিহাসিক কারণ: দাদুর বক্তব্যে ঔপনিবেশিক শোষণের ইঙ্গিত আছে। ১৭৫৭-১৯৭১ পর্যন্ত ব্রিটিশ ও পাকিস্তানি শাসনে শোষণ ও বৈষম্যের ফলে বস্ত্রশিল্প ধ্বংস হয়, বাংলাদেশ কাঁচামাল রপ্তানিকারক ও শিল্পপণ্যের বাজারে পরিণত হয় এবং অর্থনীতির ভিত্তি ধ্বংস হয়। স্বাধীনতার পর পরনির্ভর অর্থনীতির উত্তরাধিকার পেয়ে উন্নয়নের ভিত্তি তৈরিতেই দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে।

    সমস্যাগুলোর মধ্যে ঐতিহাসিক কারণ অতীতের সৃষ্টি হলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং হিমাগার, পরিবহন ও ঋণ সুবিধার মতো অবকাঠামো উন্নয়ন বর্তমান প্রজন্মের হাতে। এগুলোর সমাধান করা গেলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, বিনিয়োগ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক অগ্রসরতা ত্বরান্বিত হবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও