জীববিজ্ঞান • সমন্বয় (co-ordination)
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর স্নায়ুকোষের গঠন সম্পর্কে একটি ছক তৈরি করেছে:
| অংশ | বৈশিষ্ট্য |
|---|---|
| A | কোষদেহের চারদিকে ছোট ছোট শাখাযুক্ত প্রলম্বিত অংশ, যা অন্য কোষ থেকে তাড়না গ্রহণ করে |
| B | কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তন্তু, যার ওপর স্নেহ পদার্থের স্তরে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর ফাঁক আছে |
| C | একটি কোষের B-এর শেষ প্রান্ত ও পরবর্তী কোষের A-এর মধ্যবর্তী সূক্ষ্ম ফাঁকা সংযোগস্থল |
মানুষের মস্তিষ্কের একেকটি স্নায়ুকোষ এরূপ সংযোগের মাধ্যমে হাজার হাজার কোষের সাথে যুক্ত থাকে।
- ক)(1)
নিউরন কী?
- খ)(2)
র্যানভিয়ারের পর্ব বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের A ও B অংশের নাম লেখ এবং এদের গঠন ও কাজ বর্ণনা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের C অংশের মধ্য দিয়ে স্নায়ু তাড়না কীভাবে সঞ্চালিত হয় এবং এর বৈশিষ্ট্যের কারণে স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমে কী সুবিধা হয় তা বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নিউরন হলো স্নায়ুকলার গঠন ও কার্যক্রমের একক, অর্থাৎ স্নায়ুকোষ। এটি স্নায়ু তাড়না বহন করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যাক্সনের চারদিকে মায়েলিন স্তরটি অবিচ্ছিন্ন নয়। নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর এটি বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকে। মায়েলিনবিহীন এই বিচ্ছিন্ন অংশে নিউরিলেমার সাথে অ্যাক্সনের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শ ঘটে। মায়েলিনবিহীন এই অংশগুলোকেই র্যানভিয়ারের পর্ব (Node of Ranvier) বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর A অংশটি ডেনড্রন বা ডেনড্রাইট এবং B অংশটি অ্যাক্সন।
A (ডেনড্রন/ডেনড্রাইট): কোষদেহের চারদিকে সৃষ্ট শাখাযুক্ত ক্ষুদ্র প্রলম্বিত অংশকে ডেনড্রন বলে এবং এর শাখাগুলোকে ডেনড্রাইট বলে। একটি নিউরনে ডেনড্রনের সংখ্যা শূন্য থেকে শতাধিক হতে পারে। ডেনড্রাইট অন্য নিউরন থেকে স্নায়ু তাড়না গ্রহণ করে।
B (অ্যাক্সন): এটি কোষদেহ থেকে উৎপন্ন বেশ লম্বা তন্তু। এর চারদিকে পাতলা আবরণ নিউরিলেমা এবং নিউরিলেমা ও অ্যাক্সনের মাঝে স্নেহ পদার্থের মায়েলিন স্তর থাকে। অ্যাক্সনের শেষ মাথা অ্যাক্সন টার্মিনালে বিভক্ত। এর কাজ হলো সিন্যাপস মারফত অন্য নিউরনের ডেনড্রাইটে স্নায়ু তাড়না প্রেরণ করা। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের C অংশটি হলো সিন্যাপস (Synapse), অর্থাৎ পর পর অবস্থিত দুটি নিউরনের সন্ধিস্থল।
সঞ্চালন প্রক্রিয়া: একটি নিউরনের অ্যাক্সন টারমিনালের সাথে পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইট সরাসরি যুক্ত থাকে না, মাঝে একটি সূক্ষ্ম ফাঁক থাকে। এই ফাঁকে নিউরোহিউমার নামক তরল পদার্থ থাকে। স্নায়ু তাড়না একটি নিউরনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে অ্যাক্সন টার্মিনালে পৌঁছালে তড়িৎ রাসায়নিক (Electro chemical) পদ্ধতিতে সিন্যাপস অতিক্রম করে পরবর্তী নিউরনের ডেনড্রাইটে যায়।
বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা:
১. একমুখী প্রবাহ: সিন্যাপসের মধ্য দিয়ে স্নায়ু তাড়না একদিকে, অর্থাৎ অ্যাক্সন থেকে ডেনড্রাইটের দিকে পরিবাহিত হয়। ফলে তাড়না নির্দিষ্ট পথে সঠিক গন্তব্যে পৌঁছায় এবং এলোমেলো হয় না।
২. বহুসংযোগ: মানুষের মস্তিষ্কে প্রায় একশত বিলিয়ন নিউরন আছে এবং প্রতিটি নিউরন অন্য সাত থেকে দশ হাজার নিউরনের সাথে সিন্যাপস সংযোগ করে। এর ফলে অসংখ্য নিউরনের জটিল জালিকা গঠিত হয়, যা তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ে সহায়তা করে।
৩. সমন্বয় সাধন: সিন্যাপসের মাধ্যমে সংবেদী, সংযোগকারী ও আজ্ঞাবাহী নিউরন যুক্ত হয়ে গ্রাহক অঙ্গ থেকে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে এবং সেখান থেকে কার্যকরী অঙ্গে উদ্দীপনা পৌঁছে দেয়।
অতএব, সিন্যাপস নিউরনগুলোকে যুক্ত করে স্নায়ু তাড়নাকে নির্ভুল ও একমুখী পথে সঞ্চালন করে দেহের বিভিন্ন কাজের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও