জীববিজ্ঞান ১ম পত্র • জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ
জীববিজ্ঞান ১ম পত্র প্রশ্ন
সুনামগঞ্জের একটি হাওরে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন আছে। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনকে জুপ্ল্যাঙ্কটন ও মলা মাছ খায়। জুপ্ল্যাঙ্কটনকেও মলা মাছ খায়। মলা মাছ ও শোল মাছের পোনাকে মাছরাঙা খায়। শোল মাছ মলাকে খায়। স্থানীয় মানুষ মলা ও শোল দুটিই খায়। হাওরের আশপাশের ধানক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে নিচের তথ্য পাওয়া গেল:
| জীব | কীটনাশকের ঘনত্ব (ppm) |
|---|---|
| ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন | ০.০২ |
| জুপ্ল্যাঙ্কটন | ০.৩ |
| মলা মাছ | ১.৮ |
| শোল মাছ | ৯.৫ |
| মাছরাঙা | ২৪ |
| গত কয়েক বছরে হাওরে মাছরাঙার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। |
- ক)(1)
ট্রফিক লেভেল কী?
- খ)(2)
মানুষকে সর্বভুক বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।
- গ)(3)
উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী হাওরের খাদ্য জালটি তীর চিহ্নের সাহায্যে সাজিয়ে সেকেন্ডারি ও টারশিয়ারি খাদক চিহ্নিত কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের তথ্যের আলোকে হাওরে মাছরাঙার সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণ এবং মানুষের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর খাদ্য শৃঙ্খলের বিভিন্ন খাদ্যস্তরকে ট্রফিক লেভেল (Trophic level) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর খাদ্য শৃঙ্খলে মানুষ একাধিক খাদ্যস্তরের জীবকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। যেমন মানুষ Spirulina খায়, যা উৎপাদক, আবার মলা মাছ খায়, যা সেকেন্ডারি খাদক এবং শোল, গজার, বোয়াল মাছও খায়, যা টারশিয়ারি খাদক। অর্থাৎ মানুষ উৎপাদক ও বিভিন্ন স্তরের খাদক সবই খায়। তাই মানুষকে সর্বভুক বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো ইকোসিস্টেমে একাধিক খাদ্য শৃঙ্খল পরস্পর যুক্ত থাকার অবস্থাকে খাদ্য জাল বলে। উদ্দীপকের তথ্য অনুযায়ী খাদ্য জালে নিচের শৃঙ্খলগুলো আছে (তীর খাদ্য থেকে খাদকের দিকে শক্তির প্রবাহ নির্দেশ করে):
শৃঙ্খল-১: ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন → জুপ্ল্যাঙ্কটন → মলা → শোল → মাছরাঙা
শৃঙ্খল-২: ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন → মলা → মাছরাঙা
শৃঙ্খল-৩: ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন → জুপ্ল্যাঙ্কটন → মলা → মানুষ
শৃঙ্খল-৪: মলা → শোল → মানুষ
এখানে ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন উৎপাদক, জুপ্ল্যাঙ্কটন প্রাথমিক খাদক, মলা মাছ সেকেন্ডারি খাদক এবং শোল মাছ টারশিয়ারি খাদক। মাছরাঙা শৃঙ্খল-২-এ মলা খেয়ে টারশিয়ারি খাদক, আর শৃঙ্খল-১-এ শোল খেয়ে সর্বোচ্চ খাদক। মানুষ ও মাছরাঙা এখানে একাধিক শৃঙ্খলের সাথে যুক্ত। পরীক্ষার খাতায় এই শৃঙ্খলগুলো একত্রিত করে তীরচিহ্নসহ একটি খাদ্য জালের চিত্র আঁকতে হবে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ছকে দেখা যায়, খাদ্য শৃঙ্খলের নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরে কীটনাশকের ঘনত্ব ক্রমান্বয়ে বেড়েছে: ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনে ০.০২ ppm, জুপ্ল্যাঙ্কটনে ০.৩, মলা মাছে ১.৮, শোল মাছে ৯.৫ এবং মাছরাঙায় ২৪ ppm। খাদ্য শৃঙ্খলে নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তরের জীবদেহে বিষাক্ত পদার্থের ঘনত্ব এভাবে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ার প্রক্রিয়াকে বায়োলজিক্যাল ম্যাগনিফিকেশন বলে।
মাছরাঙার সংখ্যা কমার কারণ: মাছরাঙা খাদ্য শৃঙ্খলের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করে এবং মলা ও শোলের মাধ্যমে বিষ গ্রহণ করে। ফলে এর দেহে ঘনত্ব ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের তুলনায় প্রায় ১২০০ গুণ (২৪ ÷ ০.০২) হয়েছে। এই উচ্চমাত্রার বিষক্রিয়ায় মাছরাঙা মারা যাচ্ছে, তাই এর সংখ্যা কমছে। আমেরিকায় ১৯৫০-এর দশকে DDT প্রয়োগের ফলে খাদ্য শৃঙ্খলের সর্বোচ্চ স্তরের ঈগল প্রায় নিশ্চিহ্ন হতে বসেছিল, যা এর সাথে মিলে যায়।
মানুষের ওপর প্রভাব: মানুষ মলা ও শোল মাছ খায়। এই মাছে বিষের ঘনত্ব আগেই অনেক বেড়ে গেছে, ফলে এসব মাছ নিয়মিত খেলে বিষাক্ত পদার্থ মানুষের দেহেও জমতে পারে এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে।
প্রতিকার: ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার কমানো বা নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন, যেমন আমেরিকা DDT নিষিদ্ধ করেছে। এতে খাদ্য শৃঙ্খলের সর্বোচ্চ স্তরের জীব এবং মানুষ সুরক্ষিত থাকবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও