সাহিত্য পাঠ • অর্ধাঙ্গী
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
কৃষক আলম মিয়ার ধান বোঝাই গরুর গাড়ির একটি চাকা নতুন ও বড়, অন্যটি পুরোনো ও অনেক ছোট। গাড়িটি সামনে এগোতে পারে না, উঠানের মধ্যেই ঘুরপাক খায়। প্রতিবেশী বৃদ্ধ হাশেম চাচা বললেন, “চাকা দুটো সমান না করলে এ গাড়ি কোনোদিন হাটে পৌঁছাবে না।” আলম মিয়া ভাবল, বড় চাকা দিয়েই তো কাজ চলছে, ছোটটা নিয়ে মাথা ঘামিয়ে কী লাভ!
- ক)(1)
‘শুককেশ’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“তবেই মাথাটা সোজা থাকিতে পারে না”—কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের গরুর গাড়ির সঙ্গে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের কোন চিত্রের মিল আছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“তাই ভারতবাসী উন্নতির পথে অগ্রসর হইতে পারিতেছেন না।”—উদ্দীপকের আলম মিয়ার মনোভাবের আলোকে উক্তিটির কারণ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘শুককেশ’ শব্দের অর্থ শুভ্র বা সাদা চুল বিশিষ্ট, অর্থাৎ পক্বকেশ।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখক পাঠককে একটি বৃহৎ দর্পণের সামনে দাঁড় করিয়ে কল্পনা করতে বলেছেন, যেখানে দেহের ডান অংশ পুরুষ ও বাম অংশ স্ত্রী। সেখানে ডান কাঁধ পাঁচ ফুট, বাম কাঁধ চার ফুট উঁচু। দুই কাঁধের উচ্চতায় এই অসমতার কারণে মাথা বাম দিকে ঝুঁকে পড়ে। এভাবে লেখক নারী-পুরুষের অসম অবস্থানের কারণে সমাজদেহের বিকৃত রূপ দেখিয়েছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের গরুর গাড়ির সঙ্গে ‘অর্ধাঙ্গী’ প্রবন্ধের দ্বিচক্র শকটের চিত্রের মিল আছে। প্রবন্ধে লেখক সাংসারিক জীবনকে দুই চাকার গাড়ির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার এক চাকা পতি ও অপর চাকা পত্নী। তিনি বলেছেন, যে শকটের এক চাকা বড় (পতি) এবং অন্য চাকা ছোট (পত্নী), সে শকট অধিক দূর এগোতে পারে না, গৃহকোণেই ঘুরতে থাকে। উদ্দীপকে আলম মিয়ার গাড়ির একটি চাকা বড় ও অন্যটি ছোট হওয়ায় গাড়িটি এগোতে না পেরে উঠানেই ঘুরপাক খায়। এখানে বড় চাকা পুরুষের এবং ছোট চাকা নারীর অবস্থানের প্রতীক। সুতরাং উভয় ক্ষেত্রেই অসম চাকার কারণে গতিহীনতার চিত্রটি অভিন্ন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রোকেয়া দেখিয়েছেন, সমাজ-শকটের পুরুষরূপ চাকা বড় ও নারীরূপ চাকা ছোট হওয়ায় সমাজ গতিশীল হতে পারছে না। এর মূল কারণ নারীকে শিক্ষা ও অনুশীলনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত রাখা। স্বামী যখন জ্ঞান-বিজ্ঞানের জগতে বিচরণ করেন, স্ত্রী তখন রান্নাঘর ও সেলাইয়ে সীমাবদ্ধ থাকেন। ফলে স্বামী-স্ত্রীর সুখ-দুঃখ, চিন্তা ও জীবনের পথ আলাদা হয়ে যায়।
উদ্দীপকের আলম মিয়া মনে করে, বড় চাকা দিয়েই কাজ চলবে, ছোট চাকা নিয়ে ভাবার দরকার নেই। এই মনোভাব প্রবন্ধে বর্ণিত পুরুষের সেই দৃষ্টিভঙ্গির মতো, যেখানে নারীর অনগ্রসরতাকে গুরুত্বহীন ভাবা হয়। অথচ হাশেম চাচার কথামতো চাকা সমান না হলে গাড়ি গন্তব্যে পৌঁছায় না; তেমনি নারী পিছিয়ে থাকলে সমাজও এগোতে পারে না। জাতির অর্ধেক শক্তি অকর্মণ্য থাকলে সামগ্রিক উন্নতি অসম্ভব। তাই উন্নতির জন্য নারীকে পুরুষের সমান সুযোগ দিয়ে ‘চাকা সমান’ করাই লেখকের বক্তব্য। সুতরাং আলম মিয়ার মনোভাবের মতো সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিই ভারতবাসীর অগ্রগতি না হওয়ার কারণ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও