রসায়ন • এসিড-ক্ষারক সমতা (Balance of Acid-Base)

রসায়ন প্রশ্ন

তুষার স্কুলের রসায়ন ল্যাবে সহকারীর কাজ করে। সে তিনটি বোতল দেখতে পেল। বোতল P-তে গাঢ় হাইড্রোক্লোরিক এসিড, বাদামি রঙের কাচের বোতল Q-তে গাঢ় নাইট্রিক এসিড এবং বোতল R-তে গাঢ় সালফিউরিক এসিড। P ও Q-এর মুখ খুললেই হালকা কুয়াশার মতো গ্যাস বের হয় ও ঝাঁজালো গন্ধ পাওয়া যায়। একদিন তুষার মাস্ক, গ্লাভস বা গগলস ছাড়াই P-এর বোতল খুলে ফেলল এবং বোতলের এসিডের উপর একবারে অনেকটা পানি ঢেলে দিল। এসিডের কিছু অংশ তার হাতে লেগে গেল।

  1. ক)

    গাঢ় এসিড কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    গাঢ় নাইট্রিক এসিড বাদামি রঙের বোতলে রাখা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের Q ও R এসিড দুটি ল্যাবরেটরিতে কীভাবে প্রস্তুত করা হয়? সংশ্লিষ্ট সমীকরণসহ লেখো।

    (3)
  4. ঘ)

    গাঢ় এসিড ব্যবহারে তুষারের কাজগুলোর ভুলগুলো বিশ্লেষণ করো এবং নিরাপদে কাজ করার সঠিক পদ্ধতি ও হাতে এসিড লেগে গেলে করণীয় ব্যাখ্যা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে এসিডে পানির পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে অর্থাৎ এসিডের পরিমাণ বেশি থাকে, তাকে গাঢ় এসিড বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাইট্রিক এসিড আলোর উপস্থিতিতে ভেঙে যায়। বোতলে আলো প্রবেশ করলে এসিডটি বিয়োজিত হয়ে নষ্ট হয়ে যাবে। বাদামি রঙের বোতলে আলো সহজে প্রবেশ করতে পারে না। তাই আলোর প্রভাবে ভেঙে যাওয়া রোধ করার জন্য গাঢ় HNO3HNO_3 বাদামি বোতলে রাখা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর Q (গাঢ় নাইট্রিক এসিড): নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইড (NO2NO_2) গ্যাসকে কম পরিমাণ পানিতে অধিক পরিমাণে দ্রবীভূত করলে গাঢ় নাইট্রিক এসিড পাওয়া যায়।
    3NO2+H2O→2HNO3+NO3NO_2 + H_2O \rightarrow 2HNO_3 + NO
    R (গাঢ় সালফিউরিক এসিড): সালফার ট্রাইঅক্সাইড (SO3SO_3) গ্যাসকে কম পরিমাণ পানিতে অধিক পরিমাণে দ্রবীভূত করলে গাঢ় সালফিউরিক এসিড তৈরি হয়।
    SO3+H2O→H2SO4SO_3 + H_2O \rightarrow H_2SO_4

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তুষারের ভুল:
    ১. সে মাস্ক ছাড়া P-এর বোতল খুলেছে। গাঢ় HClHCl-এর বোতলের মুখ খুললে কুয়াশার মতো ঝাঁজালো গ্যাস বের হয়, যা নাক-মুখের জন্য ক্ষতিকর।
    ২. সে গ্লাভস, গগলস ও অ্যাপ্রোন ছাড়া কাজ করেছে। গাঢ় এসিড হাতে, চোখে, মুখে বা শরীরে লাগলে ক্ষতের সৃষ্টি হয়, চোখ নষ্ট হতে পারে এবং কাপড় ক্ষয় হয়।
    ৩. সে একবারে অনেক পানি ঢেলে দ্রবণ তৈরি করেছে। সঠিক পদ্ধতি হলো পানির মধ্যে গাঢ় এসিড অল্প অল্প করে যোগ করে লঘু দ্রবণ তৈরি করা।
    সঠিক পদ্ধতি: কাজের আগে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, গগলস ও অ্যাপ্রোন পরে সতর্কভাবে কাজ করতে হবে; পানির মধ্যে এসিড অল্প অল্প করে যোগ করতে হবে।
    হাতে এসিড লাগলে করণীয়: অবিলম্বে ওই স্থান পানি দিয়ে বারবার ধুতে হবে এবং এরপর শিক্ষককে জানাতে হবে।
    সিদ্ধান্ত: গাঢ় এসিড ক্ষয়কারী পদার্থ, তাই এর ব্যবহারে সব সুরক্ষা ব্যবস্থা মেনে চলা অপরিহার্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও