জীববিজ্ঞান • জীবকোষ ও টিস্যু

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

জীববিজ্ঞান ল্যাবে শিক্ষক দুটি কোষের বৈশিষ্ট্য বোর্ডে লিখলেন। কোষ A-তে নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত নয় এবং নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো; অঙ্গাণু হিসেবে কেবল রাইবোজোম আছে। কোষ B-র নিউক্লিয়াস সুগঠিত। এই কোষ B-র একটি ধরন বহুকোষী জীবের দেহ গঠনে অংশ নেয় ও মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়। অন্য ধরনটি মিয়োসিস পদ্ধতিতে উৎপন্ন হয়ে মিলনের মাধ্যমে নতুন জীবের সূচনা করে।

  1. ক)

    জাইগোট কী?

    (1)
  2. খ)

    জননকোষে ক্রোমোসোম সংখ্যা জনন মাতৃকোষের অর্ধেক হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের কোষ A-এর বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা কর।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের কোষ B-র দুটি ধরনের ভূমিকা জীবদেহের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ? মূল্যায়ন কর।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনের ফলে সৃষ্ট প্রথম কোষটিকে জাইগোট (Zygote) বলে। এই কোষ বারবার বিভাজিত হয়ে জীবদেহ গঠন করে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জননকোষ উৎপন্ন হয় মিয়োসিস পদ্ধতিতে জনন মাতৃকোষের বিভাজনের মাধ্যমে। এই বিভাজনে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়, ফলে অপত্য জননকোষে মাতৃকোষের অর্ধেক ক্রোমোসোম থাকে। পুং ও স্ত্রী জননকোষ মিলিত হলে জাইগোটে ক্রোমোসোম সংখ্যা আবার পূর্ণ হয়। এভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ক্রোমোসোম সংখ্যা স্থির থাকে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের কোষ A হলো আদিকোষ বা প্রাককেন্দ্রিক কোষ (Prokaryotic cell)। এর বৈশিষ্ট্যগুলো নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
    ১. এ কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিও-বস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানো থাকে।
    ২. মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না, কেবল রাইবোজোম থাকে।
    ৩. ক্রোমোসোমে শুধু DNA থাকে।
    ৪. ব্যাকটেরিয়া ও নীলাভ সবুজ শৈবালে এ ধরনের কোষ পাওয়া যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোষ B হলো প্রকৃত বা সুকেন্দ্রিক কোষ। এর প্রথম ধরনটি দেহকোষ এবং দ্বিতীয় ধরনটি জননকোষ। জীবদেহের জন্য উভয়ের ভূমিকা অপরিহার্য, যা নিচে মূল্যায়ন করা হলো।
    ১. দেহকোষের ভূমিকা: দেহকোষ মাইটোসিস পদ্ধতিতে বিভাজিত হয়ে সংখ্যায় বাড়ে, ফলে জীবদেহের বৃদ্ধি ঘটে। এই কোষগুলোই বিভিন্ন তন্ত্র ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠন করে। দেহকোষ না থাকলে জীবের দেহ গঠিত হতো না।
    ২. জননকোষের ভূমিকা: জননকোষ মিয়োসিসের মাধ্যমে উৎপন্ন হয় এবং এতে ক্রোমোসোম সংখ্যা অর্ধেক থাকে। পুং ও স্ত্রী জননকোষের মিলনে জাইগোট সৃষ্টি হয়, যা বারবার বিভাজিত হয়ে নতুন জীবের দেহ গঠন করে। ফলে বংশধারা টিকে থাকে।
    ৩. পারস্পরিক সম্পর্ক: দেহকোষ ছাড়া জীবদেহ গড়ে ওঠে না, আবার জননকোষ ছাড়া নতুন প্রজন্ম সৃষ্টি হয় না।
    অতএব, দেহকোষ জীবের বৃদ্ধি ও টিকে থাকার জন্য এবং জননকোষ বংশরক্ষার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও