সাহিত্য পাঠ • ভুলের মূল্য

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

রফিক সাহেব জানেন, জুয়ার আসর তাঁর সংসার ও সম্মান দুটিই নষ্ট করছে। প্রতিবারই রাতে অনুশোচনায় তিনি শপথ করেন আর যাবেন না। কিন্তু সন্ধ্যা হলেই নেশা তাঁকে টেনে নেয়। হারানো টাকা ফেরত পেতে তিনি ধার করেন, ধার শোধ করতে মিথ্যা বলেন, আর একটি মিথ্যা ঢাকতে আরও মিথ্যার আশ্রয় নেন। নিজের কাজের পক্ষে এখন তিনি নানা যুক্তিও দাঁড় করান।

  1. ক)

    প্রবৃত্তির হাতে কীসের নিগ্রহকে লেখক মানুষের দুর্বলতার প্রধান পরিচয় বলেছেন?

    (1)
  2. খ)

    “একটা ভুল ঢাকতে গিয়ে আরও দশটার আশ্রয় নিতে হয়”—কথাটি ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের রফিক সাহেবের আচরণে ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধে বর্ণিত মানুষের কোন দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রফিক সাহেব ভুল পথ চিনেও তা থেকে ফিরতে পারছেন না—‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধের আলোকে এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রবৃত্তির হাতে বিবেকের নিগ্রহকে লেখক মানুষের দুর্বলতার প্রধান পরিচয় বলেছেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষ অনেক সময় এমন ঘটনার ঘূর্ণিপাকে পড়ে যায় যে সে নিরুপায় হয়ে পড়ে। একটি ভুল করার পর সেটি প্রকাশ পেলে তার পরিণতির ভয়ে মানুষ তা লুকাতে চায়। লুকাতে গিয়ে তাকে নতুন নতুন ভুল কাজ বা মিথ্যার আশ্রয় নিতে হয়। এভাবে ভুলের শৃঙ্খল দীর্ঘ হতে থাকে এবং মানুষ খেলার পুতুলের মতো একটার পর একটা ভুল করে যায়। লেখক এ কথার মাধ্যমে ভুলের এই জটিল চক্র বোঝাতে চেয়েছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রফিক সাহেবের আচরণে প্রবৃত্তির কাছে বিবেকের পরাজয় নামক মানবিক দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে।

    ‘ভুলের মূল্য’ প্রবন্ধে লেখক বলেছেন, প্রতারক, দস্যু, মাতাল বা ঘোড়দৌড়ের খেলোয়াড় সবাই জানে তার কাজ ঠিক হচ্ছে না; তার বিবেক দংশন করে, কিন্তু প্রবৃত্তি বশ মানে না। ক্রমে বিবেক-বুদ্ধি শিথিল হয়ে যায় এবং সে নিজের কাজের পক্ষে যুক্তি বের করে বিবেকের উগ্রতাকে প্রশমিত করে নেয়।

    উদ্দীপকে রফিক সাহেব জানেন জুয়া তাঁর সর্বনাশ করছে এবং অনুশোচনায় শপথও করেন। কিন্তু সন্ধ্যায় নেশার টানে আবার ফিরে যান। শেষে তিনি নিজের কাজের পক্ষেও নানা যুক্তি দাঁড় করান। এটি প্রবন্ধে বর্ণিত বিবেকের ওপর প্রবৃত্তির জয়ের দুর্বলতারই প্রকাশ।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রফিক সাহেবের ভুল পথ থেকে না ফেরার পেছনে প্রবন্ধে উল্লিখিত একাধিক কারণের প্রতিফলন দেখা যায়।

    প্রথমত, লেখকের মতে মানুষ দুর্বল, সর্বদা পারিপার্শ্বিক অবস্থার সাথে সংগ্রামে জয়ী হতে পারে না। রফিক সাহেবও নেশার কাছে দুর্বল। দ্বিতীয়ত, প্রবৃত্তি বিবেককে নিগ্রহ করে। রফিক সাহেবের বিবেক তাঁকে অনুশোচনায় দগ্ধ করে, কিন্তু প্রবৃত্তির জোরের কাছে তা টেকে না। তৃতীয়ত, প্রবন্ধে বলা হয়েছে, মানুষ নিজের কাজের সার্থক যুক্তি বের করে বিবেকের উগ্রতাকে শান্ত করে নেয়; ফলে বিবেক-বুদ্ধি ক্রমে শক্তিহীন হয়ে পড়ে। রফিক সাহেব এখন নিজের কাজের পক্ষে যুক্তি দাঁড় করান। চতুর্থত, ঘটনার ঘূর্ণিপাকে পড়ে মানুষকে একটা ভুল ঢাকতে আরও ভুল করতে হয়। ধার, মিথ্যা ও আরও মিথ্যার চক্রে রফিক সাহেব আটকে গেছেন।

    অতএব, দুর্বলতা, প্রবৃত্তির প্রাবল্য, যুক্তি দিয়ে বিবেককে ঠান্ডা করা এবং ভুলের চক্রে জড়িয়ে পড়া—এই কারণগুলোই তাঁকে ফিরতে দিচ্ছে না, যা প্রবন্ধের বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও