বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের সামাজিক সমস্যা ও প্রতিকার

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

মিনা একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। কয়েক দিন ধরে রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে একদল বখাটে যুবক তাকে অশ্লীল মন্তব্য করে উত্ত্যক্ত করছে। ভয় ও লোকলজ্জার কারণে মিনা বিষয়টি পরিবার বা কারখানার কাউকে জানায়নি। অন্যদিকে বখাটেদের সাহস দিন দিন বাড়ছে এবং এলাকার অন্য মেয়েরাও চলাফেরায় ভয় পাচ্ছে।

  1. ক)

    ইভটিজিং কী?

    (1)
  2. খ)

    যৌন হয়রানিকে একটি সামাজিক বিপর্যয় বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    নারীর প্রতি সহিংসতার ধারণার আলোকে উদ্দীপকে মিনার প্রতি ঘটে যাওয়া আচরণটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    মিনার মতো নারীরা প্রতিবাদ করতে পারে না কেন? এ নীরবতা ভাঙতে কোন কোন প্রতিষ্ঠান ভূমিকা রাখছে এবং নীরবতার পরিণতি কী হতে পারে? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর লোকসমাগমপূর্ণ স্থানে পুরুষ কর্তৃক নারীদের নিগ্রহ বা উত্ত্যক্ত করাকে ইভটিজিং (Eve-Teasing) বলে। এটি যৌন হয়রানির ইংরেজি প্রতিশব্দ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যৌন হয়রানি নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ের ফল। বর্তমানে কিশোরী, তরুণী এমনকি বিবাহিত নারী এবং শিশুরাও এর শিকার হচ্ছে। এর ফলে নারীর নিরাপদ চলাফেরা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সমাজে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে এটি অন্যতম সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব কারণে যৌন হয়রানিকে সামাজিক বিপর্যয় বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পুরুষ বা নারী কর্তৃক যেকোনো বয়সের নারীর প্রতি শুধু নারী হওয়ার কারণে যে সহিংস আচরণ করা হয়, তাই নারীর প্রতি সহিংসতা। নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক বা মানসিকভাবে এ নির্যাতন চালানো হয় এবং বাড়ি, রাস্তাঘাট, কর্মক্ষেত্রসহ যেকোনো স্থানে তা ঘটতে পারে।

    উদ্দীপকে মিনা কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে বখাটেদের অশ্লীল মন্তব্যের শিকার হচ্ছে। এটি তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন এবং শুধু নারী হওয়ার কারণেই সে এর শিকার। রাস্তায় লোকসমাগমপূর্ণ স্থানে পুরুষ কর্তৃক নারীকে উত্ত্যক্ত করা যৌন হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের উদাহরণ। অতএব মিনার প্রতি আচরণটি নারীর প্রতি সহিংসতার যৌন হয়রানি ধরনের অন্তর্ভুক্ত।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে মিনা ভয় ও লোকলজ্জার কারণে ঘটনাটি কাউকে জানায়নি। বাংলাদেশের নারীরা অনেক সময় লোকলজ্জা, পারিবারিক ও সামাজিক মর্যাদা হারানোর ভয়সহ নানা কারণে নির্যাতনের কথা প্রকাশ করতে বা প্রতিবাদ করতে পারে না। পোশাকশিল্পের নারী শ্রমিকরা রাতে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে থাকে।

    এ নীরবতা ভাঙতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন সাহায্যকারী সংস্থা কাজ করছে। যেমন আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ পুলিশের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এবং ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স। এছাড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ অনুযায়ী যৌন হয়রানির শাস্তি সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড।

    নীরবতার পরিণতি ভয়াবহ। নারী ও শিশু প্রতিবাদ না করায় সহিংস ঘটনা আরও বেড়ে যায়, যা উদ্দীপকে বখাটেদের সাহস বাড়ার মধ্যে দেখা যায়। নির্যাতিত নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়, কখনো সে আত্মহত্যা পর্যন্ত করে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না। এতে অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    অতএব নীরবতা ভাঙতে পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা, আইনি সহায়তা কেন্দ্রের প্রচার এবং অপরাধীর বিরুদ্ধে সামাজিক চাপ গড়ে তোলা প্রয়োজন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও