বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের স্বাধীনতা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা বিদ্যালয়ের দেয়ালিকার জন্য একটি লেখা তৈরি করছে। সে জানতে পারে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যখন নির্বিচারে গণহত্যা চলছিল, তখন বিশ্বশান্তি রক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। অন্যদিকে একটি বৃহৎ রাষ্ট্র ওই সংস্থায় পাকিস্তানের পক্ষে আনা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব বাতিল করে দেয় এবং সেই রাষ্ট্রের পত্র-পত্রিকা ও প্রচার মাধ্যম নির্যাতনের কাহিনী বিশ্বের কাছে তুলে ধরে।
- ক)(1)
ভারত কত তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে?
- খ)(2)
মুক্তিযুদ্ধের সময় জাতিসংঘকে ‘নীরব দর্শক’ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত বৃহৎ রাষ্ট্রটি মুক্তিযুদ্ধে যে ভূমিকা রেখেছিল তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘মুক্তিযুদ্ধে আন্তর্জাতিক সংস্থার তুলনায় বিভিন্ন রাষ্ট্র ও প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা অধিক কার্যকর ছিল’— উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ভারত ১৯৭১ সালের ৬ই ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্য। কিন্তু ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খান নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা না দিয়ে বাঙালি নিধনে নামলেও জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ও মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখেও সংস্থাটি কেবল দর্শকের মতো ঘটনা প্রত্যক্ষ করে। ‘ভেটো’ ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচটি বৃহৎ শক্তির বাইরে এর নিজস্ব উদ্যোগের সুযোগও সীমিত ছিল। তাই এ সময় জাতিসংঘকে নীরব দর্শক বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত রাষ্ট্রটি অধুনা বিলুপ্ত সোভিয়েত ইউনিয়ন, যা স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের পর সর্বাধিক অবদান রাখে। মুক্তিযুদ্ধে দেশটির ভূমিকা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো।
১. সোভিয়েত রাষ্ট্রপ্রধান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারী ধর্ষণসহ সব মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ করতে এবং জনপ্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে আহ্বান জানান।
২. সোভিয়েত পত্র-পত্রিকা ও প্রচার মাধ্যম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কাহিনী ও মুক্তিযুদ্ধের অগ্রগতি প্রচার করে বিশ্বজনমত সৃষ্টিতে সহায়তা করে।
৩. জাতিসংঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধবন্ধের যে প্রস্তাব দেয়, সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘ভেটো’ প্রদান করে তা বাতিল করে দেয়।
এভাবে সোভিয়েত ইউনিয়ন কূটনৈতিক ও প্রচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামকে শক্তিশালী সমর্থন জুগিয়েছিল। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে আন্তর্জাতিক সংস্থা জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তা এবং একটি বৃহৎ রাষ্ট্রের সক্রিয় সহায়তার চিত্র ফুটে উঠেছে। পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা যায়।
জাতিসংঘের ভূমিকা: গণহত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মুখেও জাতিসংঘ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি। ভেটো ক্ষমতাধর পাঁচটি বৃহৎ শক্তির বাইরে তার নিজস্ব উদ্যোগের পরিসর সীমিত থাকায় সে নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল।
রাষ্ট্র ও প্রচার মাধ্যমের ভূমিকা: ভারত ২৫শে মার্চের হত্যাকাণ্ড বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরে, লাখ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রশিক্ষণ, অস্ত্র ও চিকিৎসা দেয় এবং ৬ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দিয়ে যৌথ কমান্ড গড়ে তোলে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেটো দিয়ে যুদ্ধবন্ধের প্রস্তাব বাতিল করে। ব্রিটেনের বিবিসি ও পত্র-পত্রিকা বিশ্বজনমত জাগ্রত করে, লন্ডন প্রচারের প্রধান কেন্দ্র হয় এবং জর্জ হ্যারিসন, রবি শংকর ও আলী আকবর খান নিউইয়র্কে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ আয়োজন করেন। অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জাপানসহ আরও অনেক দেশের প্রচার মাধ্যমও পাশে দাঁড়ায়।
মূল্যায়ন: জাতিসংঘ যেখানে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নিতে পারেনি, সেখানে বিভিন্ন রাষ্ট্র সামরিক, কূটনৈতিক, মানবিক ও প্রচারের মাধ্যমে সরাসরি সহায়তা করেছে। এই সহায়তাই বিশ্বজনমত গড়ে তুলেছে এবং বিজয় ত্বরান্বিত করেছে। অতএব উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও