বাংলা ১ম পত্র • নিরীহ বাঙালি
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
মাহফুজ এ বছর এম.এ. পাস করেছে। চাকরির কোনো চেষ্টা না করে সে বন্ধুদের বলে বেড়ায়, “আমার মতো ছেলের জন্য অনেক বড়োলোক পরিবার থেকে প্রস্তাব আসবে। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে গাড়ি আর ফ্ল্যাট তো পাবই।” তার বাবা বহুবার বলেছেন, নিজে কিছু করে দাঁড়াতে। কিন্তু মাহফুজ মনে করে, কষ্ট করে উপার্জনের চেয়ে শ্বশুরের সম্পদেই জীবন সহজে কাটানো যায়।
- ক)(1)
‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে বাঙালির অন্যতম ব্যবসায় কোনটি?
- খ)(2)
“এম.এ. পাশ অমূল্যরত্ন, ইহা যে সে ক্রেতার ক্রেয় নহে।”— কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের মাহফুজের মনোভাব ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের কোন দিকটিকে তুলে ধরে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের মাহফুজ ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে বর্ণিত পাস বিক্রেতার বাস্তব প্রতিচ্ছবি।”— উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে বাঙালির অন্যতম ব্যবসায় হলো পাস বিক্রয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখিকা এখানে ব্যঙ্গ করে বুঝিয়েছেন, উচ্চ ডিগ্রিধারী পাত্রকে বিয়ের বাজারে পণ্যের মতো দেখা হয়। এম.এ. পাস করা পাত্রের দাম এত বেশি ধরা হয় যে সাধারণ কেউ তাকে কিনতে পারে না। অর্থাৎ ‘বর’ বিক্রেতা আর কন্যাপক্ষের ‘শ্বশুর’ ক্রেতা। পাত্রের ডিগ্রি এখানে যোগ্যতার চেয়ে বেশি দরকষাকষির মূলধন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মাহফুজের মনোভাব ‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধের শ্রমবিমুখতা ও শ্বশুরের সম্পদে নির্ভরশীলতার দিকটিকে তুলে ধরে।
প্রবন্ধে লেখিকা বলেছেন, বাঙালি পুরুষ ‘পাস বিক্রয়’কে ব্যবসায় বানিয়ে নিয়েছে। এখানে ‘বর’ নিজেকে বিক্রি করে, আর ‘শ্বশুর’ তার ক্রেতা। তাদের ধারণা, সশরীরে পরিশ্রম করে অর্থ আয় করার চেয়ে শ্বশুরের সর্বস্ব হাতিয়ে নেওয়া সহজ।
উদ্দীপকে মাহফুজ এম.এ. পাস করেও চাকরির চেষ্টা করে না। সে যৌতুক হিসেবে গাড়ি ও ফ্ল্যাট পাওয়ার আশায় থাকে এবং বাবার পরামর্শও মানে না। তার এই ভাবনা প্রবন্ধে বর্ণিত শ্রমকাতর বাঙালি পুরুষের মানসিকতার সঙ্গে মিলে যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ।
‘নিরীহ বাঙালি’ প্রবন্ধে লেখিকা দেখিয়েছেন, শিক্ষিত পাত্র নিজের ডিগ্রিকে পণ্য বানিয়ে বিয়ের বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে। এতে তার কায়িক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয় না। এ কারণেই লেখিকা একে ‘পাস বিক্রয়’ ব্যবসায় বলেছেন।
১. ডিগ্রিকে মূলধন করা: মাহফুজ এম.এ. পাস করেছে এবং সেই পাসের জোরেই ভালো পরিবারের প্রস্তাব ও যৌতুকের আশা করছে। প্রবন্ধেও এম.এ. পাস পাত্রকে ‘অমূল্যরত্ন’ বলে বিক্রির বস্তু দেখানো হয়েছে।
২. শ্রমের প্রতি অনীহা: মাহফুজ উপার্জনের কষ্ট এড়িয়ে শ্বশুরের সম্পদে জীবন কাটাতে চায়। প্রবন্ধেও বলা হয়েছে, সশরীরে পরিশ্রম করার চেয়ে শ্বশুরের সর্বস্ব লুণ্ঠন করা বাঙালির কাছে সহজ মনে হয়।
৩. পারিবারিক উপদেশ উপেক্ষা: বাবার পরামর্শ সত্ত্বেও সে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে না। এতে আলস্য ও দায়িত্বহীনতা প্রকাশ পায়, যা প্রবন্ধের ব্যঙ্গের মূল লক্ষ্য।
সুতরাং মাহফুজের আচরণে প্রবন্ধের পাস বিক্রেতার স্বরূপই ফুটে উঠেছে। উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও