কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • কৃষি জলবায়ু
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
পটুয়াখালীর কৃষক করিম প্রতি বছর চৈত্র-বৈশাখ মাসে দক্ষিণ দিক থেকে আসা উষ্ণ আর্দ্র বায়ু ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা শুষ্ক শীতল বায়ুর সংঘর্ষে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে দেখেন। ঐ বৃষ্টির পর তিনি জমি চাষ করেন ও খরিফ ফসল বপন শুরু করেন। কিন্তু গত অক্টোবর মাসে এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে তার জমি লোনা পানিতে ডুবে যায়, গবাদিপশু ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
- ক)(1)
কালবৈশাখী কোন কোন মাসে বেশি সংঘটিত হয়?
- খ)(2)
বাংলাদেশের কৃষির জন্য কালবৈশাখীর বৃষ্টি অপরিহার্য কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে করিমের জমিতে অক্টোবর মাসের ঘটনায় কৃষি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট কোন কোন ক্ষেত্র কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের প্রথম ঘটনাটি কীভাবে সংঘটিত হয় তা বিশ্লেষণ করো এবং বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনে এর ভূমিকা মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মার্চ থেকে মে মাস (চৈত্র-বৈশাখ) পর্যন্ত কালবৈশাখী প্রায়ই সংঘটিত হয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কালবৈশাখীর সঙ্গে যে বৃষ্টিপাত হয় তা শুষ্ক মাটিকে নরম করে। এতে জমি চাষ করা সহজ হয়। এছাড়া এ সময় থেকেই খরিফ শস্য বপন শুরু হয়। বৃষ্টির পানি বীজের অঙ্কুরোদগমে সহায়তা করে এবং সেচের প্রয়োজন কমায়। তাই কালবৈশাখীর বৃষ্টি বাংলাদেশের কৃষির জন্য অপরিহার্য।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অক্টোবর-নভেম্বর মাসে উপকূলীয় এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাইক্লোন ও জলোচ্ছ্বাস হয়। জলোচ্ছ্বাসে সাগরের লোনা পানি স্বাভাবিকের চেয়ে উঁচু হয়ে অল্প সময়ে স্থলভাগ প্লাবিত করে।
উদ্দীপকে এর ফলে নিম্নলিখিত ক্ষেত্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—
১. কৃষি ফসল: লোনা পানিতে জমি ডুবে গিয়ে ফসল নষ্ট হয়েছে এবং মাটির লবণাক্ততা বেড়ে পরবর্তী চাষ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
২. গবাদিপশু: ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে গবাদিপশু মারা গেছে বা আহত হয়েছে।
৩. এছাড়া বসতবাড়ি, মৎস্য সম্পদ ও রাস্তাঘাটও এ ধরনের দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ২.৮৫ মিলিয়ন হেক্টর জমি প্রতি বছর ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের প্রথম ঘটনাটি হলো কালবৈশাখী।
সংঘটনের প্রক্রিয়া: মার্চ থেকে মে মাসে দক্ষিণ দিক থেকে প্রবাহিত উষ্ণ ও জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু উত্তর-পূর্বে পৌঁছলে পাহাড়ের গা বেয়ে উপরে উঠতে থাকে। এই বায়ুর ঠিক ওপর দিয়ে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক ও শীতল বায়ু প্রবাহিত হয়। এই দুই বিপরীতগামী বায়ুপ্রবাহের সন্ধিস্থলে বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে বজ্রপাতসহ ঝড়-বৃষ্টি হয়, যাকে কালবৈশাখী বলে। এটি পশ্চিমাঞ্চলের চেয়ে পূর্বাঞ্চলে বেশি হয়।
কৃষি উৎপাদনে ভূমিকা: গ্রীষ্মের শুরুতে মাটি শুষ্ক ও শক্ত থাকে। কালবৈশাখীর বৃষ্টিতে মাটি নরম হয়, ফলে জমি চাষ সহজ হয় এবং খরিফ শস্য বপন শুরু করা যায়। করিমও এ কারণে বৃষ্টির পর জমি চাষ ও বপন শুরু করেন। এতে সেচের খরচ কমে এবং সময়মতো ফসল রোপণ সম্ভব হয়। তাই কালবৈশাখী যদিও কখনো কখনো ঝড়ের ক্ষতি করে, সামগ্রিকভাবে এটি আমাদের কৃষির জন্য অত্যন্ত উপকারী ও অপরিহার্য।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও