সাহিত্য পাঠ • প্রত্যাবর্তনের লজ্জা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কোচিংয়ের শেষ ব্যাচে যোগ দিতে না পেরে বাড়ি ফিরেছে। ভয়ে ভয়ে সে ঘরে ঢোকে। বাবা চশমার ফাঁক দিয়ে একবার তাকিয়ে আবার খবরের কাগজে মন দেন, কিছুই বলেন না। মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে বলেন, ‘ভালোই হয়েছে, ঘর ফাঁকা লাগছিল। হাত-মুখ ধুয়ে আয়।’ অন্যদিকে প্রতিবেশী রেজা সাহেবের ছেলে একই কারণে ফিরে এলে তিনি সবার সামনে তাকে বকাঝকা করেন।

  1. ক)

    প্রত্যাবর্তিত কবিকে দেখে আম্মা কী করে ফেলবেন?

    (1)
  2. খ)

    “তুই না থাকলে ঘরবাড়ি একেবারে কেমন শূন্য হয়ে যায়।”—কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    আরিফের বাবার আচরণে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার কোন চরিত্রের কোন দিক প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    রেজা সাহেব ও আরিফের বাবা-মার আচরণের মধ্যে কোনটি ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার বাবা-মার দৃষ্টিভঙ্গির অধিক নিকটবর্তী এবং কেন? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রত্যাবর্তিত কবিকে দেখে আম্মা হেসে ফেলবেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবিতায় আম্মা ছেলের ফিরে আসাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে এই কথাটি বলেছেন। এর দ্বারা সন্তানের প্রতি মায়ের গভীর মমতা ও টানকে বোঝানো হয়েছে। সন্তান বাড়ি না থাকলে মায়ের কাছে ঘরবাড়ি ফাঁকা ও প্রাণহীন মনে হয়। তাই ছেলের ব্যর্থতা নয়, তার উপস্থিতিই মায়ের কাছে বড়। এভাবে মা ছেলের লজ্জা ও সংকোচ দূর করার চেষ্টা করেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আরিফের বাবার আচরণে ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার আব্বার নীরব সংযমী ও আড়ম্বরহীন আচরণের দিকটি প্রকাশ পেয়েছে।

    কবিতায় ট্রেন হারিয়ে ফিরে আসা কবিকে দেখে আব্বা বৈঠকখানা থেকে একবার তাকে দেখে নেন এবং মুখ নিচু করে কুরআনের আয়াত ‘ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজিবান’ পড়তে থাকেন। তিনি তিরস্কার করেন না, কোনো প্রশ্নও করেন না। তাঁর নীরবতার মধ্যে সন্তানের প্রতি সহনশীলতা ও বিশ্বাস ফুটে উঠেছে। আরিফের বাবাও একবার তাকিয়ে খবরের কাগজে মন দেন, কিছু না বলে ছেলের অস্বস্তিকে সম্মান জানান। এভাবে দুজন পিতার আচরণেই সংযম ও নীরব সমর্থন প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর আরিফের বাবা-মার আচরণই ‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতার বাবা-মার দৃষ্টিভঙ্গির অধিক নিকটবর্তী। রেজা সাহেবের আচরণ কবিতার সঙ্গে মেলে না।

    কবিতায় যাত্রার সময় আব্বা তাড়া দিয়ে বলেছিলেন, ‘তুই আবার গাড়ি পাবি’ এবং আম্মা বলেছিলেন, ‘আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক’। এতে বোঝা যায়, তাঁরা সন্তানের ভুল বা ব্যর্থতাকে বড় করে দেখেন না। ফিরে এলে আব্বা কোনো তিরস্কার না করে নীরবে নিজের পাঠে মগ্ন থাকেন, আর আম্মা হেসে বলেন, ‘ভালোই হলো তোর ফিরে আসা।’ তাঁদের কাছে সন্তানের উপস্থিতিই মূল্যবান।

    উদ্দীপকে আরিফের বাবা কিছু না বলে খবরের কাগজ পড়েন এবং মা বলেন, ‘ঘর ফাঁকা লাগছিল। হাত-মুখ ধুয়ে আয়।’ এই নীরব সহনশীলতা ও স্নেহ কবিতার বাবা-মার মনোভাবের সঙ্গে প্রায় অভিন্ন। পক্ষান্তরে রেজা সাহেব একই ঘটনায় সবার সামনে ছেলেকে বকাঝকা করেন, ফলে ছেলের লজ্জা ও গ্লানি আরও বাড়ে। কবিতায় লজ্জা মুছে যায় মায়ের স্নেহে, আর রেজা সাহেবের আচরণে সেই আশ্রয় অনুপস্থিত।

    অতএব, আরিফের বাবা-মার আচরণই কবিতার বাবা-মার সহমর্মী দৃষ্টিভঙ্গির নিকটবর্তী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও