সহপাঠ • ১৯৭১

সহপাঠ প্রশ্ন

জব্বার মাস্তান নামে পরিচিত লোকটি এলাকায় ত্রাস। দোকানদারদের চাঁদা না দিলে সে তাদের দোকান ভেঙে দেয়। অথচ বাড়ি ফিরে সে অন্ধ মায়ের জন্য ওষুধ নিয়ে যায় এবং মায়ের পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে। একদিন কেউ তার নিষ্ঠুরতার সমালোচনা করলে সে বলে, ‘টিকে থাকতে হলে এসব করতেই হয়। আমার জায়গায় তোমরা থাকলে তোমরাও এমনই করতে।’

  1. ক)

    মেজর এজাজ আহমেদের বৃদ্ধ বাবা কোন গ্রামে থাকেন?

    (1)
  2. খ)

    ‘পৃথিবীর সব মানুষই আসলে এক রকম।’—উক্তিটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জব্বারের চরিত্রে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের মেজর এজাজের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের জব্বারের যুক্তি এবং ‘১৯৭১’ উপন্যাসে মেজর এজাজের ‘সারভাইভালের প্রশ্ন’ ও ‘বাঙালি সৈন্য হলেও একই করত’ যুক্তি কতটা গ্রহণযোগ্য? তোমার মতামত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেজর এজাজ আহমেদের বৃদ্ধ বাবা রেশোবা গ্রামে থাকেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর নীলগঞ্জের অন্ধ মীর আলির অসহায়তা দেখে মেজর এজাজ তাঁর অন্ধ বাবার কথা বলেছেন। তখন রফিক এ উক্তি করে। এর অর্থ হলো, জাতি বা ভাষা যা-ই হোক, মানুষের স্নেহ, মমতা ও অসহায়তা একই রকম। যে মেজর বাঙালিদের ওপর নিষ্ঠুর নির্যাতন চালান, তাঁরও অন্ধ বাবার প্রতি টান আছে। রফিক এভাবে ইঙ্গিত করেছে, বাঙালিরাও তাঁর মতোই মানুষ এবং তাদের প্রতি নির্মমতা অন্যায়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের জব্বারের চরিত্রে ‘১৯৭১’ উপন্যাসের মেজর এজাজের দ্বৈত সত্তা বা নিষ্ঠুরতা ও কোমলতার সহাবস্থানের দিকটি ফুটে উঠেছে। উপন্যাসে মেজর এজাজ নির্মম অফিসার। তিনি ইমাম সাহেবকে চড় মারেন, আজিজ মাস্টারকে নগ্ন করে অপমান করতে চান এবং কৈবর্তপাড়ায় আগুন দেওয়ান। অথচ তিনিই অন্ধ মীর আলিকে সালাম জানান, কারণ তাঁর অন্ধ বাবার কথা মনে পড়ে। উদ্দীপকের জব্বারও এলাকায় নিষ্ঠুরতা চালায়, আবার অন্ধ মায়ের প্রতি যত্নবান। এভাবে দুজনের মধ্যেই কঠোরতা ও পারিবারিক কোমলতার বৈপরীত্য প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জব্বার ও মেজর এজাজের যুক্তি দুটিই মূলত নিজেদের অন্যায়কে বৈধ করার চেষ্টা, তাই গ্রহণযোগ্য নয়। ১. একই ধরনের আত্মপক্ষ সমর্থন: জব্বার বলে টিকে থাকতে হলে এমন করতেই হয়। মেজরও বলেন, যুদ্ধে সারভাইভালের প্রশ্ন, তাই অন্যায় হবেই। দুজনেই নিজের দায় সবার ওপর চাপিয়ে দিতে চেয়েছে। ২. রফিকের প্রতিবাদ: মেজর যখন বলেন, বাঙালি সৈন্যরাও একই অন্যায় করত, রফিক স্পষ্ট জবাব দেয়, ‘না’। নীলগঞ্জের মানুষ কাউকে আক্রমণ করেনি, বরং নিজেদের দেশ রক্ষার জন্য লড়া সৈন্যদের খাবার ও আশ্রয় দিয়েছে। ৩. নিষ্ঠুরতা প্রয়োজনের বেশি: মেজর আজিজ মাস্টারকে ইট ঝুলিয়ে ঘোরানোর আদেশে ‘হিউমার’ খুঁজেছেন এবং ইমাম সাহেবকে তিনবার চড় মেরেছেন। এগুলো টিকে থাকার জন্য জরুরি ছিল না। ৪. নৈতিক দায়: জব্বারের চাঁদাবাজির পেছনে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। মেজর এ দেশ দখলকারী সেনা, বাঙালি নিপীড়ক। সুতরাং মায়ের প্রতি স্নেহ বা কথিত বাধ্যবাধকতা কোনোটাই এই অত্যাচারকে ন্যায্য করে না। দুজনের যুক্তিই অগ্রহণযোগ্য।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও