বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের স্বাধীনতা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

নীলগঞ্জ যুব সংঘের নির্বাচনে ‘সবুজ পরিষদ’ প্যানেল প্রায় সব পদে জয়ী হয়। কিন্তু বিদায়ী কমিটির সভাপতি বিজয়ী প্যানেলের নেতার সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই ঘোষণা করেন, নতুন কমিটির প্রথম সভা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। এতে সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন। পরদিন বিজয়ী প্যানেলের নেতা এক বিশাল সমাবেশে সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে এবং আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হতে আহ্বান জানান।

  1. ক)

    ইউনেস্কো কত সালে ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়?

    (1)
  2. খ)

    জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে বর্ণিত পরিস্থিতির সাথে সংগতিপূর্ণ ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের ঘটনাপ্রবাহ বর্ণনা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের নেতার আহ্বান ও শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ কি একই ভূমিকা রেখেছিল? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ইউনেস্কো ২০১৭ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ বা বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল, তাই জনগণ আশা করেছিল ক্ষমতা তাদের নেতার হাতে আসবে। কিন্তু ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে কোনো আলোচনা না করেই ৩রা মার্চের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। এতে বাঙালিরা বুঝতে পারে, ক্ষমতা হস্তান্তরে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করছে। এই প্রতারণার ফলেই জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নির্বাচনে জয়ী হয়েও সভা স্থগিত হওয়ার ঘটনাটি ১৯৭১ সালের মার্চের ঘটনার সাথে সংগতিপূর্ণ।

    ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে চক্রান্ত শুরু করে। ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করেন। জুলফিকার আলী ভুট্টো ঢাকায় অধিবেশনে যোগ দিতে অস্বীকার করেন এবং অন্য সদস্যদেরও হুমকি দেন। এই অজুহাতে ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ ৩রা মার্চের অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেন। এর প্রতিবাদে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ ও শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারা দেশে হরতাল পালিত হয়। ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলিত হয় এবং ৩রা মার্চ পল্টনের সমাবেশে ছাত্রনেতা শাহজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এভাবে ভুট্টো-ইয়াহিয়ার ষড়যন্ত্রের ফলে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে এগিয়ে যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নেতার আহ্বান আন্দোলনের প্রস্তুতির ডাক দিয়েছে, ৭ই মার্চের ভাষণও তেমনি জাতিকে সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত করেছিল, তবে ভাষণের ভূমিকা ছিল আরও ব্যাপক ও ঐতিহাসিক।

    ১. পটভূমি তুলে ধরা: শেখ মুজিবুর রহমান ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস, নির্বাচনে জয়ের পর বাঙালির সাথে প্রতারণা এবং বাঙালির রাজনৈতিক ইতিহাসের পটভূমি তুলে ধরেন।

    ২. দিকনির্দেশনা: তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।’ এতে জনগণ যুদ্ধের নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা পায়।

    ৩. লক্ষ্য স্পষ্ট করা: ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ – এই ঘোষণায় আন্দোলনের লক্ষ্য স্বাধিকার ও স্বাধীনতা বলে স্পষ্ট হয়।

    ৪. ঐক্য ও সাড়া: ভাষণের কর্মসূচিতে সাড়া দিয়ে সকল স্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়।

    ৫. স্বীকৃতি: ২০১৭ সালে ইউনেস্কো এই ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

    উদ্দীপকের নেতার আহ্বান শুধু একটি সংঘের সদস্যদের প্রস্তুতির কথা বলেছে। কিন্তু ৭ই মার্চের ভাষণ একটি জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের দিকে পরিচালিত করেছিল। সুতরাং দুটির মূল উদ্দেশ্য ঐক্যবদ্ধ করা হলেও ভাষণের ভূমিকা ও তাৎপর্য অনেক বেশি।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও