সহপাঠ • বহিপীর
সহপাঠ প্রশ্ন
রুবেলের বাড়ির লাইব্রেরির তাকে চারটি নাটকের বই সাজানো আছে: নুরুল মোমেনের ‘নয়া খানদান’, মুনীর চৌধুরীর ‘কবর’, সৈয়দ শামসুল হকের ‘নুরলদীনের সারা জীবন’ এবং মামুনুর রশীদের ‘ওরা কদম আলি’। রুবেলের বন্ধু বলল, ‘এই চারটি বই একসঙ্গে পড়লে ভারত বিভাগের পর থেকে আমাদের দেশের নাটক কীভাবে এগিয়েছে, তা বোঝা যায়।’
- ক)(1)
মুনীর চৌধুরীর রচিত একটি নাটকের নাম লেখো।
- খ)(2)
১৯৪৭ সালের পর ঢাকাকে কেন্দ্র করে নাট্যচর্চা গড়ে ওঠে কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকে উল্লিখিত নাট্যকারদের মধ্যে কে বাংলাদেশের আধুনিক ধারার নাট্যচর্চার অগ্রণী? তাঁর সম্পর্কে যা জানো লেখো।
- ঘ)(4)
“চারটি বই একসঙ্গে পড়লে ভারত বিভাগের পর থেকে এ দেশের নাটকের পথচলা বোঝা যায়”— রুবেলের বন্ধুর এই বক্তব্যের যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মুনীর চৌধুরীর রচিত একটি নাটকের নাম ‘কবর’। (‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ ও ‘চিঠি’ও তাঁর নাটক।)
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলা নাট্যচর্চার প্রাণকেন্দ্র ছিল মূলত কলকাতা। ভারত বিভাগের পর পূর্ববঙ্গ আলাদা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ে যুক্ত হলে ঢাকা এ অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। ফলে ঢাকাকে কেন্দ্র করে নাট্যচর্চা গড়ে ওঠে। এই নাট্যচর্চায় স্বাভাবিকভাবেই এ অঞ্চলের সমাজবাস্তবতা চিত্রিত হতে থাকে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে উল্লিখিত নাট্যকারদের মধ্যে মুনীর চৌধুরী বাংলাদেশের আধুনিক ধারার নাট্যচর্চার অগ্রণী নাট্যকার। তিনি ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৭১ সালে মৃত্যুবরণ করেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর সঙ্গে তিনি এ ধারার পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত। তাঁর রচিত নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘রক্তাক্ত প্রান্তর’ (১৯৬২), ‘কবর’ (১৯৬৬) ও ‘চিঠি’ (১৯৬৬)। উদ্দীপকের ‘কবর’ নাটকটি তাঁর রচনা। এসব নাটকের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের নাটককে আধুনিক রূপ দিতে ভূমিকা রেখেছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বন্ধুর বক্তব্যটি অনেকাংশে যথার্থ। কারণ উদ্দীপকের নাট্যকাররা বাংলাদেশের নাটকের ভিন্ন ভিন্ন পর্বের প্রতিনিধি। ১. নুরুল মোমেন (১৯০৬-১৯৮৯) ভারত বিভাগের পর পূর্ববঙ্গের নাট্যচর্চার প্রথম ধারার নাট্যকার। এ ধারায় এ অঞ্চলের সমাজবাস্তবতা, বিশেষ করে বাঙালি মুসলমানের সমাজচিত্র বেশি ফুটে উঠেছে। তাঁর ‘নয়া খানদান’ সেই ধারার নাটক। ২. মুনীর চৌধুরী (১৯২৫-১৯৭১) আধুনিক ধারার অগ্রণী নাট্যকার। ‘কবর’ (১৯৬৬)-এর মাধ্যমে তিনি নাটককে আধুনিক রূপ দিয়েছেন। ৩. সৈয়দ শামসুল হক (১৯৩৫-২০১৬) পরবর্তী প্রজন্মের নাট্যকার; তাঁর ‘নুরলদীনের সারা জীবন’, ‘চারদিকে যুদ্ধ’ প্রভৃতি নাটক এই ধারাকে এগিয়ে নিয়েছে। ৪. মামুনুর রশীদ (জন্ম ১৯৪৮) আরও পরবর্তী সময়ের নাট্যকার; তাঁর ‘ওরা কদম আলি’, ‘ইবলিশ’ প্রভৃতি নাটক সমকালীন ধারার পরিচয় বহন করে। এভাবে চারজন নাট্যকারের মাধ্যমে প্রথম পর্ব থেকে সমকাল পর্যন্ত নাট্যচর্চার ধারাবাহিক বিকাশ দেখা যায়। তবে বাংলাদেশের নাটকের পরিধি আরও বিস্তৃত; আলাউদ্দিন আল আজাদ, সেলিম আল দীন, আবদুল্লাহ আল মামুনসহ আরও অনেক নাট্যকার রয়েছেন। তাই চারটি বই পথচলার একটি স্পষ্ট ধারণা দিলেও পূর্ণ চিত্র দেয় না।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও