জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব শারীরতত্ত্ব: সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণ
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
রান্নাঘরে সাহায্য করার সময় রাফির আঙুলে হঠাৎ গরম খুন্তির ছ্যাঁকা লাগায় সে সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নেয়। আঙুলের গ্রাহক থেকে সংবেদন বহনকারী নিউরন P-এর কোষদেহ স্পাইনাল গ্যাংলিয়ায় অবস্থিত। প্রাথমিক অবস্থায় এর কোষদেহ থেকে দুটি প্রলম্বিত অংশ সৃষ্টি হলেও বৃদ্ধির সাথে সাথে তারা মিলিত হয়ে একটি অংশে পরিণত হয়েছে। রাফির সুষুম্নাকাণ্ডের ভেতরে Q নামক বহুপ্রবর্ধকযুক্ত নিউরন সংবেদন গ্রহণ করে R নিউরনকে সংকেত দেয়, যা সুষুম্নাকাণ্ড থেকে হাতের পেশিতে নির্দেশ পৌঁছে দেয়।
- ক)(1)
নিউরন কাকে বলে?
- খ)(2)
র্যানভিয়ারের পর্ব বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের P নিউরনটি কোন ধরনের নিউরন? এর অবস্থান ও গঠন ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের P, Q ও R নিউরনের কাজের প্রকৃতি ও সংবেদন পরিবহনের দিক অনুসারে শ্রেণি উল্লেখ করে রাফির হাত সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এদের ভূমিকা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের গঠন ও কার্যকর একককে নিউরন বলে। এটি কোষদেহ ও প্রলম্বিত অংশ (ডেনড্রাইট ও অ্যাক্সন) নিয়ে গঠিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যাক্সন মায়েলিন সিথ ও নিউরিলেমা দিয়ে আবৃত থাকে। অ্যাক্সনের বিভিন্ন স্থানে মায়েলিন সিথ অনুপস্থিত থাকে এবং সেখানে নিউরিলেমা অ্যাক্সনের প্রত্যক্ষ সংস্পর্শে চলে আসে। অ্যাক্সনের এই মায়েলিনবিহীন ফাঁকা স্থানগুলোকেই র্যানভিয়ারের পর্ব (node of Ranvier) বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের P নিউরনটি সিউডোইউনিপোলার (ছদ্মমেরুযুক্ত) নিউরন।
গঠন: এ ধরনের নিউরনের প্রাথমিক অবস্থায় কোষদেহ থেকে দুটি প্রলম্বিত অংশ থাকে। বৃদ্ধির সাথে সাথে অংশ দুটি মিলিত হয়ে একটিতে পরিণত হয়। ফলে দেখতে ইউনিপোলার মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি বাইপোলার নিউরন থেকে সৃষ্ট।
অবস্থান: এ ধরনের নিউরন স্পাইনাল গ্যাংলিয়া ও করোটিক স্নায়ুর গ্যাংলিয়ায় অবস্থান করে। উদ্দীপকের P নিউরনের কোষদেহও স্পাইনাল গ্যাংলিয়ায় থাকায় এটি সিউডোইউনিপোলার নিউরন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কাজের প্রকৃতি ও সংবেদন পরিবহনের দিক অনুসারে উদ্দীপকের নিউরনগুলো নিম্নরূপ:
১. P নিউরন: কাজের প্রকৃতি অনুসারে সংবেদী (sensory) এবং পরিবহনের দিক অনুসারে অন্তর্মুখী (afferent) নিউরন। আঙুলের গ্রাহক অঙ্গ থেকে গরমের সংবেদন সংগ্রহ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে (সুষুম্নাকাণ্ডে) পৌঁছে দেয়।
২. Q নিউরন: কাজের প্রকৃতি অনুসারে মিশ্র বা সমন্বয়ক (adjustor) এবং পরিবহনের দিক অনুসারে আন্তঃনিউরন (inter neuron)। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ভেতরে সংবেদী ও চেষ্টীয় নিউরনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে এবং সংবেদনকে সঠিক নিউরনে পাঠায়।
৩. R নিউরন: কাজের প্রকৃতি অনুসারে চেষ্টীয় (motor) এবং পরিবহনের দিক অনুসারে বহির্মুখী (efferent) নিউরন। এটি কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র থেকে নির্দেশ বহন করে হাতের পেশিতে পৌঁছে দেয়।ভূমিকা: ছ্যাঁকা লাগার সংবেদন প্রথমে P নিউরনের মাধ্যমে সুষুম্নাকাণ্ডে পৌঁছায়। সেখানে Q নিউরন তা R নিউরনের সাথে যুক্ত করে। R নিউরন পেশিতে সংকোচনের নির্দেশ পাঠালে রাফি হাত সরিয়ে নেয়। এই তিন ধরনের নিউরনের ক্রমিক সমন্বিত কাজের ফলেই দ্রুত সাড়া প্রদান সম্ভব হয়েছে। এদের কোনোটি অকার্যকর হলে সাড়া প্রদান ব্যাহত হতো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও