সাহিত্য পাঠ • বিলাসী

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

গ্রামের বিধবা রোকেয়া অসুস্থ পথিক আনিসকে আশ্রয় দিয়ে মাসের পর মাস সেবা করে সুস্থ করে তোলেন। আনিস ভিন্ন সমাজের মানুষ হওয়ায় গ্রামের মাতব্বর গনি সাহেব ঘোষণা করেন, ‘ওর বাড়িতে কেউ যাবে না, সমাজের মান গেল।’ এক বছর পর রোকেয়া মারা গেলে কেউ জানাজায় এল না। এদিকে গনি সাহেব রোকেয়ার জমিটুকু দখল করে নিয়ে অত্যন্ত বিজ্ঞের মতো বলে বেড়াতে লাগলেন, ‘এমন মেয়েমানুষের এই পরিণতিই হওয়ার কথা।’

  1. ক)

    খুড়া মশাই কী দখল করে নিয়েছিলেন?

    (1)
  2. খ)

    ‘অন্নপাপ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের গনি মাতব্বর ‘বিলাসী’ গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? যুক্তি দাও।

    (3)
  4. ঘ)

    “বিলাসীর আত্মহত্যার জন্য সমাজের অনুদারতা অনেকাংশে দায়ী।”—উদ্দীপক ও ‘বিলাসী’ গল্পের আলোকে আলোচনা করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর খুড়া মশাই ষোল আনা বাগান দখল করে নিয়েছিলেন।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘অন্নপাপ’ বলতে সামাজিক বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করে নিম্ন বা ভিন্ন সমাজের কারও হাতে অন্ন গ্রহণের পাপকে বোঝানো হয়েছে। মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর হাতে খেয়েছিল বলে গ্রামের লোক একে অন্নপাপ বলেছে। তাদের বিশ্বাস, এই পাপের ফলেই মৃত্যুঞ্জয়ের অকালমৃত্যু হয়েছে এবং এর কোনো প্রায়শ্চিত্ত নেই। এখানে সমাজের জাতপাত ও কুসংস্কারের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের গনি মাতব্বর ‘বিলাসী’ গল্পের মৃত্যুঞ্জয়ের খুড়া মশাইয়ের প্রতিনিধিত্ব করে। গনি সাহেব সমাজের মান রক্ষার নামে রোকেয়াকে একঘরে করেছেন, আবার তার জমি দখল করে সুবিধাও নিয়েছেন। গল্পে খুড়া মশাইও মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর ষোল আনা বাগান দখল করেছেন এবং বিজ্ঞের মতো সবার কাছে বলে বেড়িয়েছেন, ‘হাতে খেয়ে মরতে মরতে গেল কেন?’ তিনি মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুতে বেদনার বদলে নিজের মাথা হেট হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং পিণ্ডি না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। উভয়েই সমাজের আচার-সংস্কারের নামে নিজের স্বার্থ হাসিল করেছেন এবং মানবিকতার চেয়ে নিয়মকে বড় করেছেন। তাই গনি মাতব্বরকে খুড়া মশাইয়ের প্রতিনিধি বলা যায়।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যুক্তিসংগত। উদ্দীপকে রোকেয়ার সেবা ও মানবিকতাকে সমাজ স্বীকৃতি দেয়নি; উল্টো মাতব্বর তাকে একঘরে করেছে, জানাজায় কেউ আসেনি এবং তার সম্পত্তি দখল হয়েছে। ‘বিলাসী’ গল্পেও একই চিত্র দেখা যায়। মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ের মেয়ে বিলাসীর হাতে খেয়েছিল বলে গ্রামের লোক একবাক্যে একে অন্নপাপ বলেছে। মৃত্যুঞ্জয়ের মৃত্যুর পর খুড়া মশাই ষোল আনা বাগান দখল করেছেন এবং বলেছেন, সে আগুন, পিণ্ড বা ভোজ্য উচ্ছগ্য কিছুই পায়নি। সমাজ মৃত্যুঞ্জয়ের অকালমৃত্যুকে দুঃখজনক ঘটনার বদলে পাপের শাস্তি বলেছে। বিলাসীকে সবাই পরিহাস করেছে এবং বলেছে সে নিশ্চয় নরকে গেছে। যে বিলাসী সেবা ও ভালোবাসা দিয়ে মৃত্যুঞ্জয়কে জয় করেছিল, তার জন্য সমাজে সহানুভূতির জায়গা ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর শোক, আশ্রয়হীনতা ও চারদিকের তাচ্ছিল্য তাকে বেঁচে থাকার ইচ্ছা থেকে বঞ্চিত করেছে। তবে মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি গভীর ভালোবাসাও আত্মহত্যার একটি কারণ। তাই বলা যায়, প্রেমের তীব্রতার পাশাপাশি সমাজের অনুদারতা ও নিষ্ঠুরতা বিলাসীর আত্মহত্যার জন্য অনেকাংশে দায়ী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও