সহপাঠ • টীকা ও চরিত্র-পরিচিতি

সহপাঠ প্রশ্ন

নিঃসন্তান শাহিনা বেগম বোনের ছেলে রাকিবকে পোষ্যপুত্র হিসেবে নেন এবং আশা করেন, সে সম্পত্তির মালিক হলে তিনিই সংসারের কর্তৃত্ব পাবেন। কিন্তু রাকিব অল্প বয়সে রোগে মারা গেলে তিনি হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর তিনি রাকিবের ভাই সাজিদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। ম্যানেজারের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে তিনি সাজিদকে সম্পত্তির মালিকানা থেকে সরাতে চান। সাজিদ ষড়যন্ত্র জেনে ফেলে তাঁর চাবি ও টাকাপয়সা নিজের হাতে নিয়ে নেয় এবং তাঁকে একটি ঘরে প্রায় বন্দি অবস্থায় রাখে। তবুও শাহিনা বেগম গোপনে সাজিদের শত্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে থাকেন।

  1. ক)

    ঘসেটি বেগমের স্বামীর নাম কী?

    (1)
  2. খ)

    ঘসেটি বেগম একরামউদ্দৌলাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের শাহিনা বেগমের সঙ্গে ঘসেটি বেগমের সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “উদ্দীপকের সাজিদের পদক্ষেপ এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার গৃহীত পদক্ষেপ ষড়যন্ত্র দমনে যথেষ্ট ছিল না।”— টীকা-অংশের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ঘসেটি বেগমের স্বামীর নাম নওয়াজিস মোহাম্মদ (শাহামৎ জঙ্গ)।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ঘসেটি বেগমের কোনো সন্তান ছিল না। তাই তিনি ছোট বোন আমিনা বেগমের ছেলে একরামউদ্দৌলাকে পোষ্যপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। তাঁর প্রত্যাশা ছিল, একরামউদ্দৌলা নবাব হলে তিনি নবাব-মাতা হিসেবে রাজকার্য পরিচালনার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শাহিনা বেগমের সঙ্গে ঘসেটি বেগমের পোষ্যপুত্রের মৃত্যুতে হতাশা এবং ক্ষমতাধর আত্মীয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দিকে সাদৃশ্য রয়েছে। ঘসেটি বেগম বোনের ছেলে একরামউদ্দৌলাকে পোষ্যপুত্র নিয়েছিলেন নবাব-মাতা হওয়ার আশায়। কিন্তু একরামউদ্দৌলা বসন্ত রোগে অকালে মারা গেলে তিনি নৈরাশ্যে আক্রান্ত হন এবং সিরাজউদ্দৌলার প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। তিনি রাজা রাজবল্লভের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সিরাজকে সিংহাসনচ্যুত করতে চেয়েছিলেন। উদ্দীপকের শাহিনা বেগমও পোষ্যপুত্র রাকিবের মৃত্যুর পর হতাশ হয়ে তার ভাই সাজিদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হন এবং ম্যানেজারের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেন। তাই দুজনের আচরণে স্পষ্ট মিল রয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “সাজিদের পদক্ষেপ এবং নবাব সিরাজউদ্দৌলার গৃহীত পদক্ষেপ ষড়যন্ত্র দমনে যথেষ্ট ছিল না”—মন্তব্যটি যথার্থ।

    সিরাজউদ্দৌলা ঘসেটি বেগমের ষড়যন্ত্রের কথা জেনে যান এবং তা নস্যাৎ করে দেন। তিনি ঘসেটি বেগমকে মতিঝিল প্রাসাদ থেকে সরিয়ে রাজপ্রাসাদে প্রায় বন্দি অবস্থায় রাখেন এবং তাঁর সমস্ত টাকাকড়ি, গয়নাগাটি ও সোনাদানা বাজেয়াপ্ত করেন। উদ্দীপকের সাজিদও শাহিনা বেগমের ষড়যন্ত্র জেনে তাঁর চাবি ও টাকাপয়সা নিজের হাতে নেয় এবং তাঁকে ঘরে প্রায় বন্দি অবস্থায় রাখে। দুজনের ক্ষেত্রেই ষড়যন্ত্রকারীর আর্থিক ও চলাচলের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

    তবে এ পদক্ষেপ ষড়যন্ত্র সম্পূর্ণ থামাতে পারেনি। ঘসেটি বেগমের ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি; তিনি নানা কৌশলে নবাবের বিশ্বাসঘাতক অমাত্য ও ইংরেজদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেছিলেন। উদ্দীপকের শাহিনা বেগমও গোপনে সাজিদের শত্রুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। কারণ ষড়যন্ত্রের মূল উৎস, অর্থাৎ প্রতিহিংসা ও ক্ষমতার লোভ এবং তাদের সহযোগী চক্র অক্ষত ছিল। পলাশির যুদ্ধে সিরাজের পতন ঘটলে ঘসেটি বেগম ও তাঁর দলই বিজয়ী হয়।

    অতএব, শুধু বন্দি করা ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাই ষড়যন্ত্র দমনে যথেষ্ট ছিল না; মূল ষড়যন্ত্রকারী চক্রকে নিষ্ক্রিয় করা প্রয়োজন ছিল। মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও