কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • কৃষি জলবায়ু
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
ফারুক সিলেটের লালখানে এবং তার বন্ধু রাজু নাটোরের লালপুরে বাস করে। ফারুকদের এলাকায় বছরে প্রায় ৬৮০ সে.মি. বৃষ্টি হয়, চারদিকে ঘন বনভূমি ও পাহাড় রয়েছে এবং দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু জলীয় বাষ্প নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে। অন্যদিকে রাজুদের এলাকায় বছরে মাত্র প্রায় ১৯৮ সে.মি. বৃষ্টি হয়। সেখানে রবি মৌসুমে সেচের সুযোগও সীমিত।
- ক)(1)
বৃষ্টিপাত কী?
- খ)(2)
যেখানে গাছপালা বেশি, সেখানে বৃষ্টিপাতও বেশি হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ফারুকের এলাকায় অধিক বৃষ্টিপাতের কারণ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
রাজুর এলাকার কৃষকরা রবি মৌসুমে কোন ধরনের ফসল চাষ করলে বেশি লাভবান হবেন? উদ্দীপকের আলোকে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বায়ুমণ্ডলের ভাসমান জলীয় বাষ্প ঠান্ডা বায়ুর সংস্পর্শে এসে ঘনীভূত হয়ে ভারী জলফোঁটায় পরিণত হয়ে ভূপৃষ্ঠে পতিত হওয়াকে বৃষ্টিপাত বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্ভিদ মাটি থেকে প্রচুর পানি শোষণ করে এর মাত্র ১-৩ ভাগ দেহে ব্যবহার করে এবং বাকি অংশ প্রস্বেদনের মাধ্যমে বায়ুতে ছেড়ে দেয়। যে এলাকায় গাছপালা বেশি, সেখানকার বায়ুতে প্রস্বেদনের কারণে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাতও বেশি হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিভিন্ন কারণে বৃষ্টিপাতের তারতম্য হয়। উদ্দীপকের ফারুকের এলাকায় অধিক বৃষ্টির পেছনে নিম্নলিখিত কারণগুলো কাজ করেছে—
১. বায়ুপ্রবাহ: দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু সমুদ্র থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প বয়ে এনে ঐ এলাকায় প্রবেশ করে। জলাধারের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু প্রচুর বৃষ্টি ঘটায়।
২. পর্বতের অবস্থান: জলীয় বাষ্পপূর্ণ বায়ু পাহাড়ের গায়ে বাধা পেয়ে উপরে উঠে ঠান্ডা হয় এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায়।
৩. উদ্ভিদের উপস্থিতি: ঘন বনভূমি থাকায় প্রস্বেদনের মাধ্যমে বায়ুতে জলীয় বাষ্প বেশি থাকে, ফলে বৃষ্টিও বেশি হয়।এই তিনটি কারণের সমন্বিত প্রভাবে ফারুকের এলাকায় বছরে প্রায় ৬৮০ সে.মি. বৃষ্টিপাত হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাজুর এলাকা অর্থাৎ নাটোরের লালপুরে বছরে মাত্র প্রায় ১৯৮ সে.মি. বৃষ্টিপাত হয়, যা দেশের গড় বৃষ্টিপাত (প্রায় ২৩০ সে.মি.) থেকে কম। উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের তুলনায় কম। আবার রবি মৌসুমে বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত নেই বললেই চলে, কারণ শীতকালে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু শুষ্ক। উদ্দীপক অনুযায়ী সেখানে সেচের সুযোগও সীমিত।
এই পরিস্থিতিতে বেশি পানি লাগে এমন ফসল, যেমন— বোরো ধান, ইক্ষু চাষ করলে সেচের খরচ ও ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। তাই রাজুর এলাকার কৃষকদের কম পানির প্রয়োজন হয় এমন ফসল চাষ করা বেশি লাভজনক হবে। যেমন— ছোলা, মসুর, মাষকলাই, মটর, খেসারি ও চীনাবাদাম। বাস্তবেও যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, ফরিদপুর ও রাজশাহীর মতো কম বৃষ্টির অঞ্চলে রবি মৌসুমে এসব ফসলের ব্যাপক আবাদ হয়।
এভাবে স্থানীয় বৃষ্টিপাত অনুযায়ী ফসল নির্বাচন করলে সেচ ও উৎপাদন খরচ কমবে এবং ফলন নিশ্চিত হবে। তাই কম পানির ফসল নির্বাচনই রাজুর এলাকার কৃষকদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী সিদ্ধান্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও