বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
তন্ময়ের দাদা ছিলেন একটি অঞ্চলের বিশাল ভূসম্পত্তির মালিক, যার অধীনে কৃষক, কামার, তাঁতি ও জেলেরা কাজ করত। দাদার সম্পত্তি পরে সরকারের অধীনে চলে যায় এবং দেশে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। স্বাধীনতার পর তন্ময়ের বাবা দেখেন, তাদের এলাকার বড় পাটকলটি রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কিছুদিন পর সেটি লোকসানে পড়ে। বর্তমানে তন্ময় দেখছেন, একই এলাকায় বেসরকারি কারখানা বাড়ছে, আবার কিছু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সরকার চালাচ্ছে।
- ক)(1)
ভূস্বামী কাকে বলে?
- খ)(2)
স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয়করণকৃত শিল্প কারখানা লোকসানের সম্মুখীন হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে তন্ময়ের দাদার সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের ধারা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকে বর্ণিত বর্তমান অর্থব্যবস্থায় আয় বৈষম্য কমানোর জন্য তোমার পরামর্শ যুক্তিসহ উপস্থাপন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভূমির মালিককে ভূস্বামী বলা হয়। ব্রিটিশ শাসনামলে এঁদের জমিদার বলা হতো।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর পাকিস্তান আমলে কলকারখানা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই অবাঙালি মালিকদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্বাধীনতার পর তাঁরা দেশ ত্যাগ করলে ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া যুদ্ধে দক্ষ প্রশাসক, ব্যবস্থাপক ও উদ্যোক্তাসহ মানবসম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি ও অবকাঠামোর সংকট মোকাবিলায় সরকারকেও সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হয়। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়নি এবং সেগুলো লোকসানে পড়ে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের ধারা ফুটে উঠেছে।
১. সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা: তন্ময়ের দাদার সময় ছিল ভূমিকেন্দ্রিক সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা। ভূস্বামী বা জমিদার নিজ এলাকার সকল বৃত্তি ও পেশার মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতেন।
২. ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা: পাকিস্তান আমলে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হয়ে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থান করে নেয় এবং শেষদিকে তা প্রাধান্য লাভ করে।
৩. সমাজতন্ত্র অভিমুখী উদ্যোগ: স্বাধীনতার পর সমাজতন্ত্র অভিমুখী ব্যবস্থার উদ্যোগে বড় কলকারখানা, ব্যাংক, বিমা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়া হয়। কিন্তু ব্যবস্থাপনার সমস্যায় এগুলো লোকসানে পড়ে।
৪. বর্তমান ব্যবস্থা: এরপর বেসরকারি খাত ও ব্যক্তি উদ্যোগ সম্প্রসারিত হয় এবং বিরাষ্ট্রীয়করণ শুরু হয়। বর্তমানে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রাধান্যসহ মিশ্র অর্থব্যবস্থা বিদ্যমান, যেখানে সেবাখাতের কিছু প্রতিষ্ঠান সরকার চালায়। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে বর্তমান অর্থব্যবস্থা ধনতান্ত্রিক প্রাধান্যসহ মিশ্র ব্যবস্থা। এখানে অর্থনীতির অধিকাংশ খাত বেসরকারি নিয়ন্ত্রণে। ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতো শ্রমিকদের মজুরির হার নিম্ন এবং উদ্যোক্তাদের মুনাফার হার উচ্চ। জাতীয় আয়ের বৃহত্তর অংশ অল্পসংখ্যক মানুষ ভোগ করে। সুশাসনের অভাব ও অল্প মানুষের হাতে সম্পদের পুঞ্জিভবনও বৈষম্যের কারণ।
আয় বৈষম্য কমানোর জন্য আমার পরামর্শ হলো:
১. সরকারি খাতে শ্রমিকদের মতো বেসরকারি খাতেও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, কারণ সরকারি খাতে নিয়ন্ত্রণ থাকায় ন্যায্য মজুরি তুলনামূলকভাবে নিশ্চিত হয়।
২. সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা, যাতে সম্পদ অল্প মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত না হয়।
৩. স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো সেবামূলক খাতে সরকারি ভূমিকা বজায় রাখা, যাতে সাধারণ মানুষ সুযোগ পায়।
৪. ইসলামি অর্থব্যবস্থার মতো জাকাত, সদকা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা।
এসব পদক্ষেপ নিলে শ্রমিকের জীবনযাত্রার মান বাড়বে এবং আয় বৈষম্য কমে সম্পদের সুষম বণ্টন সম্ভব হবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও