সাহিত্য পাঠ • সাহিত্যে খেলা
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির ছাত্র তানভীর কোচিং সেন্টারে যায়। সেখানে স্যার কবিতার প্রতিটি লাইনের শব্দার্থ, ভাবার্থ ও সম্ভাব্য প্রশ্নোত্তর বলে দেন এবং ছাত্রদের তা মুখস্থ করতে বলেন। তানভীর পরীক্ষায় ভালো নম্বর পায়, কিন্তু কবিতা পড়ে কোনো আনন্দ পায় না। কবিতার বই দেখলেই তার বিরক্তি লাগে।
- ক)(1)
লেখকের মতে কাব্য কী নয়?
- খ)(2)
“শিক্ষা হচ্ছে সেই বস্তু যা লোকে নিতান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও গলাধঃকরণ করতে বাধ্য হয়।”— ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের স্যারের কর্মপদ্ধতিতে ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে বর্ণিত স্কুলমাস্টারের ভূমিকা কীভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
তানভীরের কবিতার প্রতি অনীহার কারণ ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখকের মতে কাব্য সংবাদপত্র নয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রমথ চৌধুরী শিক্ষা ও সাহিত্যের পার্থক্য বোঝাতে গিয়ে উক্তিটি করেছেন। শিক্ষার্থীকে পাঠ্যবিষয় অনেক সময় ইচ্ছার বিরুদ্ধে, পরীক্ষা বা অন্য প্রয়োজনে পড়তে হয়। তাই এতে বাধ্যবাধকতা থাকে, আনন্দ থাকে না। অপরদিকে কাব্যরস মানুষ নিজের ইচ্ছায় ও আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে। এ কারণে শিক্ষা ও সাহিত্যকে এক করে দেখা যায় না। উক্তিটিতে শিক্ষার এই বাধ্যতামূলক স্বরূপই বোঝানো হয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রমথ চৌধুরী ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে বলেছেন, কাব্য পড়বার ও বোঝাবার জিনিস, কিন্তু স্কুলমাস্টারের কাজ বই পড়ানো ও বোঝানো। তাঁর মতে শিক্ষক কাব্যকে আগে বধ করেন, তারপর শবচ্ছেদ করে তার তত্ত্ব আবিষ্কার ও প্রচার করেন। ফলে ছাত্ররা কাব্যের রস না পেয়ে কেবল তার গুণ ও টীকা-ভাষ্য শোনে। উদ্দীপকের স্যারও কবিতার প্রতিটি লাইনের শব্দার্থ, ভাবার্থ ও প্রশ্নোত্তর বলে দিয়ে কবিতাকে পরীক্ষার উপকরণে পরিণত করেছেন। তিনি ছাত্রকে কবিতার রসের মুখোমুখি না করে মুখস্থ করতে বাধ্য করেন। এভাবে লেখক-পাঠকের মাঝে মধ্যস্থ হয়ে স্যার প্রবন্ধে বর্ণিত স্কুলমাস্টারের ভূমিকাই পালন করছেন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানভীরের কবিতার প্রতি অনীহার প্রধান কারণ কাব্যপাঠকে পরীক্ষার পাঠ্যে পরিণত করা, যা ‘সাহিত্য খেলা’ প্রবন্ধে লেখক তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন। প্রবন্ধে বলা হয়েছে, শিক্ষা মানুষ অনিচ্ছায় গ্রহণ করে, কিন্তু কাব্যরস গ্রহণ করে স্বেচ্ছায় ও আনন্দে। উদ্দীপকে তানভীরকে কবিতা পড়তে হয় নম্বরের জন্য, আনন্দের জন্য নয়; ফলে কবিতা তার কাছে বাধ্যতামূলক বোঝা হয়ে উঠেছে। লেখকের মতে শিক্ষার উদ্দেশ্য মনকে বিশ্বের খবর জানানো, আর সাহিত্যের উদ্দেশ্য মনকে জাগানো। কিন্তু স্যার কবিতার তথ্য ও ব্যাখ্যা মুখস্থ করিয়ে মনকে জাগানোর সুযোগই বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রবন্ধে আরও বলা হয়েছে, স্কুলের মাস্টাররা কাব্য সম্পর্কে নিগূঢ় তত্ত্ব শেখান, কিন্তু কাব্য কী বস্তু তা চেনান না। এ কারণেই তানভীর নম্বর পেলেও কবিতার রসের স্বাদ পায়নি। লেখকের ভাষায়, কাব্যরসরূপ অমৃতে অরুচির জন্য এ যুগের স্কুল ও মাস্টারই দায়ী। তানভীরের ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও