সহপাঠ • বহিপীর

সহপাঠ প্রশ্ন

মাহবুব সাহেবের পারিবারিক কারখানাটি ব্যাংকের ঋণের দায়ে পরের দিন নিলামে উঠবে। টাকার জোগাড় করতে না পেরে তিনি রাতভর মনমরা হয়ে বসে আছেন। তাঁর প্রতিবেশী ধনী ব্যবসায়ী আজহার সাহেব নিজে এসে বললেন, ‘আমি টাকা দেব, তবে আপনার মেয়ে রুমাকে আমার ছেলের সঙ্গে বিয়ে দিতে হবে।’ মাহবুব সাহেব কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন, ‘মেয়ের জীবনের বিনিময়ে কারখানা বাঁচাব না। কারখানা যায় যাক।’

  1. ক)

    হাতেম আলির জমিদারি কখন নিলামে উঠবে?

    (1)
  2. খ)

    হাতেম আলি স্ত্রী ও ছেলের কাছে অসুখের মিথ্যা কথা বলেছিলেন কেন? বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের মাহবুব সাহেবের সিদ্ধান্তে ‘বইপীর’ নাটকের হাতেম আলির যে দিকটি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘উদ্দীপকের আজহার সাহেবের শর্ত এবং বহিপীরের শর্ত একরকম নয়।’—‘বইপীর’ নাটকের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাতেম আলির জমিদারি পরের দিন, অর্থাৎ ‘কাল’ নিলামে উঠবে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হাতেম আলি জমিদারি রক্ষার জন্য টাকা জোগাড় করতে শহরে এসেছিলেন। কিন্তু এ কথা জানালে স্ত্রী ও ছেলে দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়বে বলে তিনি তা গোপন রেখেছিলেন। তাই তিনি বলেছিলেন যে অসুখের দাওয়াই করতে শহরে এসেছেন। আসলে সর্বস্বান্ত হওয়ার কথা তাদের বলার সাহস পর্যন্ত তাঁর ছিল না। এই মিথ্যার আড়ালে তাঁর গভীর যন্ত্রণা ও পরিবারের প্রতি মমতা প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের মাহবুব সাহেবের সিদ্ধান্তে হাতেম আলির আত্মমর্যাদাবোধ ও নীতিনিষ্ঠার দিকটি ফুটে উঠেছে। নাটকে জমিদারি নিলামে ওঠার আগের রাতে বহিপীর টাকা কর্জ দেওয়ার প্রস্তাব দেন, তবে শর্ত থাকে তাহেরাকে তাঁর সঙ্গে ফিরে যেতে হবে। তাহেরা রাজি হলেও হাতেম আলি পরিবারের সর্বস্ব যাওয়ার ঝুঁকি নিয়েও বলেন, ‘আমি এভাবে টাকা নিতে পারব না। যায় যাক জমিদারি।’ উদ্দীপকে মাহবুব সাহেবও কারখানা বাঁচানোর বিনিময়ে মেয়ের জীবনকে শর্ত হিসেবে মেনে নেননি। দুজনেই সম্পত্তির চেয়ে মানবিক মূল্যবোধকে বড় করে দেখেছেন। এখানেই হাতেম আলির সঙ্গে মাহবুব সাহেবের মিল।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। দুজনেই টাকার বিনিময়ে একটি নারীকে শর্ত হিসেবে চেয়েছেন, তাই বাইরে থেকে মিল দেখা গেলেও উদ্দেশ্য, প্রকৃতি ও পরিণতিতে বড় পার্থক্য আছে। ১. বাহ্যিক মিল: আজহার সাহেব টাকার বিনিময়ে মাহবুব সাহেবের মেয়ে রুমার সঙ্গে নিজের ছেলের বিয়ে চেয়েছেন। বহিপীরও জমিদারি বাঁচানোর টাকা কর্জ দেওয়ার বিনিময়ে তাহেরাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চেয়েছেন। দুজনেই অন্যের বিপদকে নিজের প্রয়োজনে কাজে লাগাতে চেয়েছেন। ২. শর্তের প্রকৃতির পার্থক্য: আজহার সাহেব নতুন করে একটি বিয়ে দাবি করেছেন। কিন্তু বহিপীরের দাবি নিজের বিবাহিত স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া, যাকে তিনি কাবিনের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন বলে দায়িত্ব মনে করেন। বহিপীর বলেছেন, তিনি তাহেরাকে স্নেহ-মমতার পরিচয় দেওয়ার সুযোগ চান। এছাড়া তিনি টাকা কর্জ দিতে চেয়েছিলেন, দান নয়। ৩. পরিণতির পার্থক্য: হাতেম আলি শর্ত অস্বীকার করলে বহিপীর নিজের ভুল স্বীকার করে বলেন, ‘জমিদার সাহেব বিনা শর্তে আপনি টাকা পাইবেন।’ তিনি শর্ত তুলে নেন এবং হাশেম-তাহেরার চলে যাওয়াও মেনে নেন। উদ্দীপকে আজহার সাহেবের মধ্যে এমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। সুতরাং বাইরের মিল থাকলেও বহিপীরের শর্তের প্রকৃতি ও তাঁর শেষ আচরণ তাঁকে আজহার সাহেব থেকে আলাদা করেছে। তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও