বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • জাতীয় সম্পদ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

শিমুলদের গ্রামে একটি সরকারি স্কুল ও পাকা রাস্তা আছে। শিমুলের বাবা রহিম সাহেবের নিজস্ব ধানি জমি ও একটি দোতলা বাড়ি আছে। তার ছোট ভাই করিম একজন দক্ষ প্রকৌশলী; তার দক্ষতা অন্যকে হস্তান্তর করা যায় না, কিন্তু তা কাজে লাগিয়ে তিনি প্রচুর আয় করেন। একদিন রহিম সাহেব বললেন, ‘শ্বাস নেওয়ার বাতাস আর আমার সুস্বাস্থ্যই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ।’

  1. ক)

    উপযোগ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    অপ্রাচুর্য বলতে কী বোঝায়? বাতাসের অপ্রাচুর্য নেই কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকে উল্লিখিত রহিম সাহেবের জমি-বাড়ি, করিমের দক্ষতা এবং স্কুল ও রাস্তা সম্পদের কোন কোন শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    ‘শ্বাস নেওয়ার বাতাস আর সুস্বাস্থ্যই সবচেয়ে বড় সম্পদ’—রহিম সাহেবের এই উক্তিটি সম্পদের বৈশিষ্ট্যের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মানুষের অভাব পূরণে কোনো দ্রব্যের ক্ষমতাকে উপযোগ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো দ্রব্য বা সেবার চাহিদার তুলনায় জোগান বা সরবরাহ কম হলে সেই দ্রব্যের অপ্রাচুর্য দেখা দেয়। যেমন খাদ্যের চাহিদার তুলনায় জোগান কম বলে খাদ্য পেতে দাম দিতে হয়। অন্যদিকে প্রকৃতিতে বাতাস অফুরন্ত এবং প্রয়োজনের তুলনায় এর সরবরাহ বেশি। তাই বাতাসের জন্য মানুষকে কোনো দাম দিতে হয় না। এ কারণে বাতাসের অপ্রাচুর্য নেই।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সম্পদকে ব্যক্তিগত, একান্ত ব্যক্তিগত, সমষ্টিগত, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক—এই পাঁচ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।

    রহিম সাহেবের ধানি জমি ও দোতলা বাড়ি তার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন এবং তিনি স্বাধীনভাবে তা ভোগ ও হস্তান্তর করতে পারেন। তাই এগুলো ব্যক্তিগত সম্পদ।

    করিমের দক্ষতা হস্তান্তরযোগ্য নয়, কিন্তু তা ব্যবহার করে তিনি আয় তথা সম্পদ সৃষ্টি করেন। তাই এটি একান্ত ব্যক্তিগত সম্পদ।

    সরকারি স্কুল ও পাকা রাস্তা সমাজের সকলে সম্মিলিতভাবে ভোগ করে এবং এগুলোর ওপর সকল নাগরিকের সমান অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। তাই এগুলো সমষ্টিগত সম্পদ।

    এই তিন ধরনের সম্পদ একত্রে দেশের জাতীয় সম্পদ গঠন করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো বস্তুকে প্রকৃত অর্থে সম্পদ বলতে হলে তার উপযোগ, অপ্রাচুর্য, বাহ্যিকতা ও হস্তান্তরযোগ্যতা—এই চারটি বৈশিষ্ট্যই থাকতে হবে।

    বাতাস: শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য বাতাসের উপযোগ আছে। কিন্তু প্রকৃতিতে বাতাস অফুরন্ত হওয়ায় এর অপ্রাচুর্য নেই, অর্থাৎ এর জন্য দাম দিতে হয় না। সব বৈশিষ্ট্য না থাকায় বাতাস অর্থনৈতিক অর্থে সম্পদ নয়।

    সুস্বাস্থ্য: স্বাস্থ্যের উপযোগ ও অপ্রাচুর্য আছে। কিন্তু এটি ব্যক্তির দেহের সাথে যুক্ত, অর্থাৎ বাহ্যিক নয় এবং অন্যের কাছে হস্তান্তরযোগ্যও নয়। তাই সাধারণভাবে স্বাস্থ্যকে সম্পদ বলা যায় না। তবে কেউ যদি স্বাস্থ্য প্রদর্শনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করতে পারেন, তবে তার ঐ বিশেষ স্বাস্থ্য সম্পদ বলে গণ্য হবে।

    উপসংহার: মানবজীবনে বাতাস ও সুস্বাস্থ্যের গুরুত্ব অনেক, তাই রহিম সাহেবের উক্তি জীবনের মূল্যবোধের দিক থেকে যথার্থ। কিন্তু সম্পদের চারটি বৈশিষ্ট্যের বিচারে বাতাস ও সাধারণ সুস্বাস্থ্য সম্পদ নয়; তাই অর্থনৈতিক দৃষ্টিতে উক্তিটি পুরোপুরি যথার্থ নয়।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও