সাহিত্য পাঠ • নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথায় মুক্তিযোদ্ধা আজহার লিখেছেন, “একাত্তরে আমাদের গ্রামে পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোক রাতারাতি মুখোশ পরে ক্ষমতাধরদের পক্ষে নামল। আমাদের কথা বলার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হলো। তবু আমরা বিশ্বাস করতাম, এ অন্ধকার চিরকাল থাকবে না। সেই বিশ্বাসই আমাদের অস্ত্র হাতে তুলে নিতে শক্তি জুগিয়েছিল।”
- ক)(1)
‘নীলকক্সা’ শব্দের অর্থ কী?
- খ)(2)
“আমার দেশ ছেয়ে যায় দালালদেরই আলখাল্লায়”—কথাটি দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের আজহারের বর্ণনায় ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার কোন ঐতিহাসিক পটভূমি ফুটে উঠেছে? আলোচনা করো।
- ঘ)(4)
“জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?”—এই ডাকের তাৎপর্য উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নীলকক্সা’ শব্দের অর্থ দৃষ্টিসীমা অতিক্রমী।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর এ কথার মাধ্যমে কবি বুঝিয়েছেন, দেশ জুড়ে দালালদের প্রভাব ও আধিপত্য ছড়িয়ে পড়েছে। ‘আলখাল্লা’ এখানে ছদ্মবেশ বা মুখোশের প্রতীক। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী দালালরা পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগী হয়ে ক্ষমতার ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিল। তারা দেশ ও জনগণের শত্রুতা করে দেশকে গ্রাস করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের আজহারের বর্ণনায় ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন পটভূমি ফুটে উঠেছে।
পাঠ-পরিচিতি অনুযায়ী ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাত থেকে দীর্ঘ নয় মাস বাংলা মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। তখন শকুনরূপী দালালেরা আস্তানা গেড়েছিল এবং বাঙালি তার স্বপ্ন ও বাক-স্বাধীনতা হারিয়েছিল। কবিতায় ‘শকুন নেমে আসে’, ‘দালালদেরই আলখাল্লা’, ‘কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত’ প্রভৃতি চরণে এই পটভূমি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে আজহার একাত্তরে সেনাদের সঙ্গে স্থানীয় দালালদের মুখোশ পরে নামার এবং কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। এটি কবিতার বর্ণিত দালাল-আধিপত্য ও বাক-স্বাধীনতা হরণের চিত্রেরই অনুরূপ। অতএব উদ্দীপকে কবিতার মুক্তিযুদ্ধকালীন ঐতিহাসিক পটভূমিই ফুটে উঠেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর “জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?”—এই ডাকটি কবিতায় কেবল একটি ঐতিহাসিক আহ্বান নয়, চিরায়ত জাগরণ ও সম্মিলিত প্রতিরোধের প্রতীক।
কবিতায় ১১৮৯ সনে নুরলদীন ডাক দিয়েছিলেন এবং মানুষ জেগে উঠেছিল। ‘বাহে’ রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক সম্বোধন, আর ‘কোনঠে’ অর্থ ‘কোথায়’। আপন মাটির ভাষায় সবাইকে খুঁজে ফেরার এই আহ্বানে নুরলদীন সাধারণ মানুষেরই একজন হয়ে ওঠেন। কবির বিশ্বাস, দালালদের আধিপত্য, স্বপ্ন লুট ও কণ্ঠরোধের মতো সংকটে নুরলদীন আবার এই ডাক দেবেন এবং অভাগা মানুষ পাহাড়ি ঢলের মতো সব অন্যায় ভাসিয়ে দেবে।
উদ্দীপকে আজহারের সময়েও দালালরা মুখোশ পরে ক্ষমতাধরদের পক্ষে নেমেছিল এবং কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এমন দুঃসময়ে ‘অন্ধকার চিরকাল থাকবে না’—এই বিশ্বাসই তাঁকে অস্ত্র হাতে তুলে নেওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। এ বিশ্বাস আসলে কবিতার ওই ডাকেরই অন্তর্নিহিত সুর, যা নিষ্ক্রিয় মানুষকে সক্রিয় প্রতিরোধে উদ্বুদ্ধ করে।
অতএব বলা যায়, এই ডাকের তাৎপর্য হলো সংকটকালে ঘুমন্ত মানুষকে জাগিয়ে সম্মিলিত সংগ্রামে সামিল করা, যা কবিতায় যুগোত্তীর্ণ এবং উদ্দীপকে মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতায় রূপ পেয়েছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও