রসায়ন • পর্যায় সারণি (Periodic Table)
রসায়ন প্রশ্ন
বিজ্ঞান মেলায় শিক্ষক মিজান সাহেব দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বললেন, "২০১৬ সাল পর্যন্ত 118টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছে। ধরো, প্রত্যেক মৌলের 3টি ভৌত ধর্ম (গলনাঙ্ক, স্ফুটনাঙ্ক, ঘনত্ব) ও 2টি রাসায়নিক ধর্ম (অক্সিজেন ও পানির সাথে বিক্রিয়া) তোমাদের মনে রাখতে হবে।" শিক্ষার্থী নাবিলা বলল, এত ধর্ম মনে রাখা অসম্ভব। শিক্ষক বললেন, "পর্যায় সারণি না থাকলে এই কাজ আরও কঠিন হতো। মেন্ডেলিফ তাঁর সারণিতে কিছু ঘর ফাঁকা রেখেছিলেন।"
- ক)(1)
মেন্ডেলিফের সময়ে কতটি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছিল?
- খ)(2)
গবেষণার ক্ষেত্রে পর্যায় সারণি সহায়ক কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপক অনুযায়ী মোট কতটি ধর্ম মনে রাখতে হতো তা নির্ণয় করো এবং পর্যায় সারণি কীভাবে এই কাজ সহজ করে তা ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"পর্যায় সারণি না থাকলে রসায়নের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হতো" — উদ্দীপক ও মেন্ডেলিফের ফাঁকা ঘরের আলোকে উক্তিটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেন্ডেলিফের সময়ে 63টি মৌল আবিষ্কৃত হয়েছিল।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কোনো বিজ্ঞানী বিশেষ প্রয়োজনে নতুন পদার্থ তৈরি করতে চাইলে আগে ধারণা করতে হয় পদার্থটির ধর্ম কেমন হবে এবং সেই ধর্মের জন্য কী ধরনের মৌল দরকার। মৌলগুলোর ধর্ম, গ্রুপ ও পর্যায়ভিত্তিক পরিবর্তনের ধারা পর্যায় সারণি থেকে জানা যায়। ফলে কোন মৌল ব্যবহার করলে কাঙ্ক্ষিত ধর্মের পদার্থ পাওয়া যাবে তা সহজে বোঝা যায়। তাই গবেষণায় পর্যায় সারণি সহায়ক।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রতিটি মৌলের ধর্ম = 3টি ভৌত + 2টি রাসায়নিক = 5টি।
মোট ধর্ম = টি।
এতগুলো ধর্ম আলাদাভাবে মনে রাখা অসম্ভব। পর্যায় সারণিতে মৌলগুলো 18টি গ্রুপ ও 7টি পর্যায়ে সাজানো। একই গ্রুপের মৌলগুলোর ধর্ম প্রায় একই রকম হয়। তাই প্রতিটি মৌলের ধর্ম আলাদা না শিখে প্রতিটি গ্রুপের সাধারণ ধর্ম জানলেই 118টি মৌলের ভৌত ও রাসায়নিক ধর্ম সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা পাওয়া যায়। এভাবে পর্যায় সারণি রসায়ন পাঠকে সহজ করে।
উত্তর: মোট 590টি ধর্ম।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি যথার্থ। কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো।
১. রসায়ন পাঠ: উদ্দীপক অনুযায়ী 118টি মৌলের জন্য 590টি ধর্ম মনে রাখতে হয়, যা প্রায় অসম্ভব। পর্যায় সারণি না থাকলে প্রতিটি মৌল আলাদাভাবে শিখতে হতো। পর্যায় সারণির 18টি গ্রুপ ও 7টি পর্যায়ের ধারা জানলে গ্রুপের সাধারণ ধর্ম থেকে মৌল ও তাদের যৌগের ধর্ম সম্পর্কে ধারণা করা যায়।
২. নতুন মৌলের আবিষ্কার: মেন্ডেলিফ তাঁর সময়ের আবিষ্কৃত 63টি মৌল সাজাতে গিয়ে কিছু ঘর ফাঁকা রেখেছিলেন এবং ঐ ঘরে বসবে এমন মৌলগুলোর ধর্ম সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। পরে মৌলগুলো আবিষ্কৃত হলে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক প্রমাণিত হয়। ফাঁকা ঘর ও ধারা না থাকলে অনুসন্ধানের দিক নির্ধারণ কঠিন হতো।
৩. গবেষণা: নতুন পদার্থ উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীকে আগে প্রয়োজনীয় মৌল ও ধর্ম সম্পর্কে ধারণা করতে হয়, যা পর্যায় সারণি থেকেই পাওয়া যায়।
সুতরাং শিক্ষা, নতুন মৌলের আবিষ্কার ও গবেষণা তিন ক্ষেত্রেই পর্যায় সারণির ভূমিকা অপরিসীম। এটি না থাকলে রসায়নের অগ্রগতি অবশ্যই বাধাগ্রস্ত হতো।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও