তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি • তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি : বিশ্ব ও বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রশ্ন
একাদশ শ্রেণির ছাত্রী নাফিসা তার প্রকল্প প্রতিবেদনের জন্য ইন্টারনেটের তিনটি ওয়েবসাইট থেকে লেখা সংগ্রহ করে সেগুলো একত্র করে নিজের লেখা বলে জমা দেয়। তার বড় ভাই নাফিস আগের বছরের নিজের জমা দেওয়া প্রজেক্ট রিপোর্টটি কোনো উদ্ধৃতি ছাড়াই নতুন কোর্সে আবার জমা দেয়। শিক্ষক একটি সফটওয়্যারের সাহায্যে দুটি লেখাই যাচাই করে সমস্যা ধরে ফেলেন।
- ক)(1)
প্লেজিয়ারিজমের বাংলা পরিভাষা কী?
- খ)(2)
শিক্ষাক্ষেত্রে প্লেজিয়ারিজমকে জটিল সমস্যা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে নাফিসা ও নাফিসের কাজ প্লেজিয়ারিজমের কোন কোন ধরনের অন্তর্ভুক্ত? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
শিক্ষক কীভাবে নাফিসাদের কাজের সমস্যা শনাক্ত করেছেন এবং বাংলাদেশে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কী আইনি প্রতিকার পাওয়া যায়? বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্লেজিয়ারিজমের বাংলা পরিভাষা কুম্ভীলকবৃত্তি বা চৌর্যবৃত্তি।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো বিশ্লেষণ, মূল্যায়ন, সংশ্লেষণ বা নতুন ধারণা প্রবর্তনের মতো উচ্চতর চিন্তনদক্ষতা অর্জন করা। শিক্ষার্থী অন্যের লেখা কপি করলে নিজে চিন্তা বা পরিশ্রম করে না, ফলে এই দক্ষতা অর্জন বাধাগ্রস্ত হয়। এছাড়া এতে প্রকৃত লেখক স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত হন এবং নৈতিক অবক্ষয় ঘটে। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে প্লেজিয়ারিজমকে নীতিগতভাবে জটিল সমস্যা বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নাফিসার কাজ রিমিক্স (Remix) প্লেজিয়ারিজম। রিমিক্স প্লেজিয়ারিজমে একজন ব্যক্তি বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সবগুলো একত্র করে একটি ডকুমেন্ট তৈরি করে এবং সেটিকে নিজের তৈরি বলে দাবি করে। নাফিসা তিনটি ওয়েবসাইটের লেখা মিলিয়ে নিজের বলে জমা দিয়েছে।
নাফিসের কাজ রিসাইকেল (Recycle) প্লেজিয়ারিজম, যাকে স্ব-চৌর্যবৃত্তিও (self-plagiarism) বলে। এতে সঠিক উদ্ধৃতি ছাড়া নিজের পূর্ববর্তী কনটেন্ট বা ডকুমেন্ট থেকে ধার নেওয়া বা পুনর্ব্যবহার করা হয়। নাফিস উদ্ধৃতি ছাড়াই নিজের আগের রিপোর্ট আবার জমা দিয়েছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শনাক্তকরণ: শিক্ষক প্লেজিয়ারিজম চেকার সফটওয়্যার, যেমন Turnitin, Grammarly, Quetext ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন। এসব সফটওয়্যার জমা দেওয়া কনটেন্টকে ইন্টারনেটে বিদ্যমান কনটেন্টের সাথে তুলনা করে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত মিল শনাক্ত করে। এতে নাফিসার একত্র করা লেখা এবং নাফিসের পুনর্ব্যবহৃত অংশ ধরা পড়েছে। এ ধরনের সফটওয়্যার জমা দেওয়ার আগে সংশোধনের সুযোগও দেয়।
আইনি প্রতিকার: বাংলাদেশে আলাদা কোনো প্লেজিয়ারিজম আইন নেই, তবে কপিরাইট আইন আছে এবং এর আওতায় আইনি সহায়তা পাওয়া যায়। এছাড়া কোনো লেখক বা প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান সিভিল কোর্টে অভিযোগ দিয়ে মামলা করতে পারেন। ১৯০৮ সালের দেওয়ানি কার্যবিধি মৌলিক আইন হিসেবে কাজ করে, যার বিধিবিধানের ভিত্তিতেও অভিযোগ দায়ের করা যায়।
অতএব প্রযুক্তিগত যাচাই এবং বিদ্যমান আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে প্লেজিয়ারিজম শনাক্ত ও প্রতিকার সম্ভব; পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতন করাও জরুরি।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও