সাহিত্য পাঠ • নূরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

আশির দশকের শেষ দিকে নদীভাঙা এলাকার ক্ষুধার্ত মানুষ ত্রাণের চাল লুট হতে দেখে চুপ করে ছিল। তখন কলেজছাত্র মিজান প্রতিটি পাড়ায় ঘুরে ঘুরে সবাইকে ডাকতে লাগল, “আমরা চুপ থাকলে অন্যায় আরও বাড়বে। সবাই একসঙ্গে উঠে দাঁড়াই।” তার ডাকে একে একে ঘুমন্ত মানুষ জেগে উঠল এবং দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে মিছিলে নামল। গ্রামের প্রবীণরা বলল, “এ যেন সেই পুরনো দিনের নেতার ডাক, যা মানুষের ঘুম ভাঙায়।”

  1. ক)

    ‘বাহে’ শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    “নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায় / যখন আমার কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যায়”—কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?

    (2)
  3. গ)

    মিজানের ডাক ও প্রবীণদের মন্তব্যে ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার যে চেতনা প্রকাশ পেয়েছে তা ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “মিজান ও নুরলদীনের ডাকের পেছনের পটভূমি ও প্রত্যাশা একই রকম নয়।”—উদ্দীপক ও কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘বাহে’ রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে ব্যবহৃত সম্বোধনবিশেষ।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর এখানে কবি বাক-স্বাধীনতা হরণের বেদনা প্রকাশ করেছেন। ১৯৭১ সালে বাঙালির মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল এবং কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। ‘কণ্ঠ বাজেয়াপ্ত’ কথাটির মাধ্যমে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়াকে বোঝানো হয়েছে। এমন দুঃসময়ে কবির মনে প্রতিবাদী নায়ক নুরলদীনের কথা জেগে ওঠে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিজানের ডাক ও প্রবীণদের মন্তব্যে ‘নুরলদীনের কথা মনে পড়ে যায়’ কবিতার জাগরণ ও সম্মিলিত প্রতিবাদের চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।

    কবিতায় কবি ঐতিহাসিক কৃষকনেতা নুরলদীনের ডাকের কথা বলেছেন। ১১৮৯ সনে নুরলদীন ডাক দিলে মানুষ জেগে উঠেছিল। কবি বিশ্বাস করেন, নুরলদীন আবার একদিন ডাক দেবেন—“জাগো, বাহে, কোনঠে সবায়?”—এবং অভাগা মানুষ জেগে উঠে অন্যায়কে ভাসিয়ে দেবে।

    উদ্দীপকে মিজান ত্রাণের চাল লুটের মতো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে দাঁড়ানোর ডাক দিয়েছে। তার ডাকে ঘুমন্ত মানুষ জেগে উঠে মিছিলে নেমেছে। প্রবীণরা এ ডাককে ‘পুরনো দিনের নেতার ডাক’ বলেছেন, যা কবিতার নুরলদীনের ডাকের কথাই মনে করিয়ে দেয়। তাই উভয় ক্ষেত্রেই জাগরণ ও সম্মিলিত প্রতিবাদের চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিজান ও নুরলদীনের ডাকের মধ্যে মিল থাকলেও পটভূমি ও প্রত্যাশার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে; তাই মন্তব্যটি যথার্থ।

    উদ্দীপকে মিজানের ডাকের পটভূমি স্থানীয় একটি অন্যায়—ত্রাণের চাল লুট ও দুর্নীতি। তার প্রত্যাশা হলো দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষকে সংগঠিত করে প্রতিকার আদায় করা। এটি একটি সীমিত, স্থানীয় ও তাৎক্ষণিক সংকটকেন্দ্রিক আন্দোলন।

    অন্যদিকে কবিতায় নুরলদীনের ডাকের পটভূমি আরও ব্যাপক। রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলে সামন্তবাদ ও সাম্রাজ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে কৃষকদের জাগিয়ে তুলেছিলেন তিনি। কবির হাতে সেই ডাক বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সঙ্গে মিশে গেছে। ১৯৭১-এর কালরাত, শকুনরূপী দালাল, লুট হওয়া স্বপ্ন ও বাজেয়াপ্ত কণ্ঠের মতো জাতীয় সংকটের বিপরীতে নুরলদীন চিরায়ত প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে ওঠেন। কবির প্রত্যাশা হলো, ভবিষ্যতেও যেকোনো অন্যায়ের মুখে নুরলদীন ডাক দেবেন এবং মানুষ পাহাড়ি ঢলের মতো সব অন্যায় ভাসিয়ে দেবে।

    উভয় ডাকের মূল সুর একই—ঘুমন্ত মানুষকে জাগানো। তবে মিজানের ডাক সীমিত পরিসরের, আর নুরলদীনের ডাক কবিতায় যুগোত্তীর্ণ ও সর্বব্যাপী। তাই পটভূমি ও প্রত্যাশার ব্যাপ্তিতে দুটি ডাকের পার্থক্য স্পষ্ট।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও