বাংলা ১ম পত্র • প্রত্যুপকার
বাংলা ১ম পত্র প্রশ্ন
ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিমের বিশ্বস্ত ও প্রিয়পাত্র ছিলেন মাস্টার ফজলুর রহমান। একদিন সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান হাত-পা বাঁধা এক ব্যক্তিকে ফজলুর রহমানের কাছে এনে বললেন, ‘একে আজ রাতে আপনার বাড়িতে আটকে রাখুন, কাল সকালে আমার কাছে হাজির করবেন।’ চেয়ারম্যানের রাগান্বিত চেহারা দেখে ফজলুর রহমান সারা রাত সতর্কভাবে পাহারা দিলেন। কথাপ্রসঙ্গে বন্দির বাড়ি জানতে চাইলে ফজলুর রহমান জানলেন, তিনি একসময় যে গ্রামে বিপদে আশ্রয় পেয়েছিলেন, বন্দি সেই গ্রামেরই লোক। তখন তিনি আবেগে সেই গ্রামের মঙ্গল কামনা করলেন।
- ক)(1)
আলী ইবনে আব্বাস কার প্রিয়পাত্র ছিলেন?
- খ)(2)
‘প্রত্যুপকার’ গল্পে আলী ইবনে আব্বাস বন্দিকে অতি সাবধানে রুদ্ধ করে রেখেছিলেন কেন? বুঝিয়ে লেখো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ফজলুর রহমানের আচরণে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
“উদ্দীপকের ফজলুর রহমান ও ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের আলী ইবনে আব্বাস— দুজনের কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ধরন একই নয়।”— মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলী ইবনে আব্বাস মামুন নামক খলিফার প্রিয়পাত্র ছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর খলিফা আলী ইবনে আব্বাসকে হস্তপদবদ্ধ বন্দিকে নিজের আলয়ে রুদ্ধ করে রাখার আদেশ দিয়েছিলেন। খলিফার ভাব দেখে বোঝা গিয়েছিল, তিনি ঐ ব্যক্তির ওপর অত্যন্ত ক্রুদ্ধ। বন্দি পালিয়ে গেলে আলী ইবনে আব্বাসকে খলিফার রোষে পড়তে হতো। এই ভয়ে তিনি বন্দিকে অতি সাবধানে আটকে রেখেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ফজলুর রহমানের আচরণে ‘প্রত্যুপকার’ গল্পের কৃতজ্ঞতাবোধ ও উপকারীর প্রতি শ্রদ্ধার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। গল্পে আলী ইবনে আব্বাস জানতে পারেন, বন্দির নিবাস ডেমাস্কাসে। তিনি তখন সেই নগরের ওপর ঈশ্বরের শুভদৃষ্টি কামনা করেন, কারণ ঐ অংশের এক অধিবাসী একসময় তাঁর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন। উদ্দীপকেও ফজলুর রহমান বিপদে যে গ্রামে আশ্রয় পেয়েছিলেন, বন্দি সেই গ্রামের লোক জেনে তিনি আবেগে সেই গ্রামের মঙ্গল কামনা করেছেন। দুজনের আচরণেই অতীত উপকারের স্মৃতি ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি আংশিক যথার্থ। দুজনই অতীতের উপকারের কথা স্মরণ করে সেই অঞ্চলের প্রতি কৃতজ্ঞ হয়েছেন, কিন্তু তাঁদের প্রকাশের ধরন ভিন্ন। ১. মিল: আলী ইবনে আব্বাস ডেমাস্কাসের শুভ কামনা করেছেন, কারণ সেখানকার এক ব্যক্তি তাঁকে প্রাণদান দিয়েছিলেন। ফজলুর রহমানও আশ্রয়দাতা গ্রামের মঙ্গল কামনা করেছেন। ২. পার্থক্য: আলী ইবনে আব্বাস কেবল শুভকামনায় থামেননি, সবিশেষ জানতে চাওয়ায় বন্দির কাছে বহু বছর আগের পুরো ঘটনা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন। গল্পে তিনি পদচ্যুত শাসনকর্তার আক্রমণ, প্রাণভয়ে এক সম্ভ্রান্ত লোকের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়া এবং এক মাস নিরাপদে থাকার কথা জানিয়েছেন। উদ্দীপকে ফজলুর রহমানের আচরণ কেবল আবেগে মঙ্গল কামনার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ৩. উপলব্ধি: গল্পে আলী ইবনে আব্বাসের বর্ণনা উপকারীর স্মৃতিকে গভীরভাবে ধরে রাখার পরিচয় দেয়, যা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। সুতরাং কৃতজ্ঞতার মূল ভাব এক হলেও প্রকাশের ধরনে পার্থক্য আছে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও