জীববিজ্ঞান ২য় পত্র • মানব জীবনের ধারাবাহিকতা
জীববিজ্ঞান ২য় পত্র প্রশ্ন
বারো বছরের নুসরাতের গত বছর প্রথমে স্তন বিকশিত হতে শুরু করে, এর কিছুদিন পর বগলে লোম গজায় এবং সম্প্রতি সে প্রথমবার রজঃস্রাব অনুভব করেছে। আজকাল সে ঘনঘন মেজাজ বদলায়, কখনো একা থাকতে চায়, সাজগোজের প্রতি আগ্রহী হয় এবং নিজেকে বড় মনে করে। তার মা বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত।
- ক)(1)
মেনার্চি কাকে বলে?
- খ)(2)
থেলার্চি ও পিউবার্চি বলতে কী বোঝায়?
- গ)(3)
উদ্দীপকে নুসরাতের যে পরিবর্তনগুলো ঘটেছে তাতে হরমোনের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
নুসরাতের আচরণগত পরিবর্তনের কারণ বিশ্লেষণ করে তার মায়ের করণীয় সম্পর্কে তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালে প্রথম রজঃচক্র শুরু হওয়াকে মেনার্চি (menarche) বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের স্তন বিকশিত, বড় ও উন্নত হতে শুরু করে। এটি মেয়েদের দেহের প্রথম পরিবর্তন, যাকে থেলার্চি (thelarche) বলে। অন্যদিকে, বগল ও শ্রোণিদেশে (পিউবিক অঞ্চলে) লোম গজাতে শুরু করাকে পিউবার্চি (pubarche) বলে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে নুসরাতের স্তন বিকাশ, লোম গজানো ও রজঃস্রাব শুরু হওয়া বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তন। মেয়েদের বয়ঃসন্ধি নিয়ন্ত্রণে নিম্নোক্ত হরমোনগুলো ভূমিকা রাখে:
১. সম্মুখ পিটুইটারির FSH: ডিম্বাশয়ের গ্রাফিয়ান ফলিকলকে প্রভাবিত করে রজঃচক্র শুরু করতে সাহায্য করে।
২. LH: ডিম্বাশয়ে কর্পাস লুটিয়াম সৃষ্টি, বৃদ্ধি ও স্থায়িত্বে ভূমিকা রাখে এবং প্রোজেস্টেরন ক্ষরণে উদ্বুদ্ধ করে।
৩. ডিম্বাশয়ের ইস্ট্রোজেন: গোনাডোট্রফিক হরমোনের প্রভাবে ডিম্বাশয় সক্রিয় হয়ে ইস্ট্রোজেন ক্ষরণ বাড়ায়, যা মুখ্য ও আনুষঙ্গিক জননাঙ্গ এবং গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশ ঘটায়।
৪. অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির ইস্ট্রোজেন: জননাঙ্গের বৃদ্ধি ও গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্য প্রকাশে কিছুটা সাহায্য করে।
৫. গ্রোথ হরমোন (GH): পেশির বৃদ্ধি ও শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নুসরাতের মেজাজের ঘনঘন পরিবর্তন, একাকী থাকার প্রবণতা, সাজগোজে আগ্রহ এবং নিজেকে বড় ভাবা বয়ঃসন্ধিকালীন মানসিক পরিবর্তনের লক্ষণ। বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের প্রভাবে দেহের পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিক পরিবর্তনও ঘটে। এ সময় মানসিক অস্থিরতা, চাঞ্চল্যভাব, লজ্জাবোধ, আত্মসচেতনতা, আবেগপ্রবণতা, আত্মকেন্দ্রিকতা, রূপচর্চায় আগ্রহ, স্বাধীন ও স্বনির্ভর হওয়ার ভাবনা এবং নিজেকে পূর্ণবয়স্ক ভাবার প্রবণতা দেখা দেয়। কাজেই নুসরাতের আচরণ অস্বাভাবিক নয়, এটি স্বাভাবিক জৈবিক প্রক্রিয়ারই অংশ।
মায়ের করণীয়: ১. মেয়েকে বকাঝকা না করে বন্ধুর মতো আচরণ করা। ২. রজঃস্রাব, দেহের পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া। ৩. পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করা। ৪. তার কৌতূহল ও আবেগ বুঝে ইতিবাচক কাজে (পড়াশোনা, খেলাধুলা) উৎসাহিত করা। এতে নুসরাত এই সময়কে আত্মবিশ্বাসের সাথে অতিক্রম করতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও