সহপাঠ • শব্দার্থ ও টীকা

সহপাঠ প্রশ্ন

নূরজাহান স্বামী মৌলভি আজিজের প্রতিটি কথা বিনা প্রশ্নে মেনে চলে। স্বামী যখন বলেন, অনাত্মীয় পুরুষের সামনে যাওয়া গুনাহ, তাতে কবরে আজাব হবে, তখন লজ্জা ও ভয়ে তার সারা শরীর অবশ হয়ে আসে। গ্রামের অন্য নারী-পুরুষেরাও লেখাপড়া না জানায় মৌলভির সব কথা চোখ বুজে বিশ্বাস করে। কেউ কোনো প্রশ্ন তোলে না।

  1. ক)

    'বেওয়া' শব্দের অর্থ কী?

    (1)
  2. খ)

    'গ্রামের লোকেরা যেন রহিমারই অন্য সংস্করণ' – কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    'গলা সীসার মতো অবশেষে লজ্জা আসে রহিমার সারা দেহে' – উদ্দীপকের নূরজাহানের পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্ক দেখিয়ে উপমাটি ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    'মজিদের ধর্মীয় আধিপত্য টিকে থাকার পেছনে গ্রামবাসীর অজ্ঞতা ও ভয়ই প্রধান কারণ' – উদ্দীপকের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর 'বেওয়া' শব্দের অর্থ বিধবা।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর রহিমা মজিদের স্ত্রী; সে মজিদের অনুগত, বাধ্য ও ধর্মভীরু, আর মজিদের ভয়ে সে ভীত। মজিদের চোখের ভাষা সে বোঝে। মহব্বতনগরের গ্রামবাসীও রহিমার মতোই ধর্মভীরু এবং মজিদের প্রতি অনুগত। অর্থাৎ রহিমা যেভাবে মজিদের কথায় সম্পূর্ণ আস্থা রেখে চলে, গ্রামের মানুষও একইভাবে মজিদকে মেনে চলে। এই সাদৃশ্য বোঝাতেই লেখক গ্রামের লোকদের রহিমার 'অন্য সংস্করণ' বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সীসা কঠিন ধাতু, কিন্তু আগুনে গললে তা পাত্রের সর্বত্র সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মজিদের উপদেশ-বাণী শোনার পর রহিমার সারা শরীরে লজ্জা ঠিক তেমনিভাবে ছড়িয়ে পড়ে – এটাই উপমাটির মর্ম।

    উপন্যাসে মজিদ ধর্মের দোহাই দিয়ে যখন রহিমাকে উপদেশ দেয়, তখন ধর্মভীরু ও অনুগত রহিমা নিজেকে অপরাধী ভেবে লজ্জায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। সে কোনো প্রতিবাদ করে না।

    উদ্দীপকে মৌলভি আজিজ যখন নূরজাহানকে কবরের আজাবের ভয় দেখান, তখন লজ্জা ও ভয়ে তার সারা শরীর অবশ হয়ে আসে। এখানেও ধর্মীয় উপদেশ-ভীতির কাছে একজন সরল নারীর আত্মসমর্পণ ফুটে উঠেছে। রহিমা ও নূরজাহান – উভয়ের ক্ষেত্রেই লজ্জা ও ভয় সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে তাদের নীরব আনুগত্যে পরিণত হয়েছে।

    তাই উপমাটি উদ্দীপকের নূরজাহানের পরিস্থিতিকেও যথার্থভাবে ব্যাখ্যা করে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উক্তিটি 'লালসালু' উপন্যাস ও উদ্দীপক – দুই ক্ষেত্রেই যথার্থ।

    মহব্বতনগরের গ্রামবাসী অধিকাংশই অশিক্ষিত; তাদের 'জাহেল', 'বে এলেম' বা 'আনপড়াহু' বলা হয়েছে। তারা ধর্মভীরু এবং ধর্মের কথা প্রশ্ন না করেই মেনে নেয়। মজিদ এই অজ্ঞতা ও ভয়কেই কাজে লাগিয়েছে। মিথ্যা মাজার প্রতিষ্ঠা করে, কবরের আজাব ও খোদার গজবের কথা বলে সে মানুষকে অনুগত রাখে। রহিমা ও গ্রামবাসী – সবাই একই ভয়ে মজিদের বশ। প্রশ্ন তোলার মতো জ্ঞান বা সাহস তাদের নেই বলেই মজিদের মিথ্যা প্রতিষ্ঠিত থাকে।

    উদ্দীপকেও নূরজাহান স্বামীর ধর্মীয় ভয়ের কাছে নিরুপায়। গ্রামের অন্যরা লেখাপড়া না জানার কারণে মৌলভির সব কথা চোখ বুজে বিশ্বাস করে, কেউ প্রশ্ন তোলে না। ফলে মৌলভির কর্তৃত্ব অক্ষুণ্ন থাকে।

    তবে মজিদের আধিপত্যের পেছনে তার নিজস্ব কূটকৌশল ও অভিনয়ও কার্যকর ছিল। কিন্তু সে কৌশল সফল হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে মূলত গ্রামবাসীর শিক্ষাহীনতা ও ভীতি থেকে।

    সুতরাং উক্তিটি যথার্থ। শিক্ষার অভাব ও ভয় থাকলে যে-কোনো ধর্মব্যবসায়ীর আধিপত্য টিকে যায় – উদ্দীপক ও উপন্যাস উভয়েই তা প্রমাণ করে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও