কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র • বাংলাদেশের কৃষি
কৃষি শিক্ষা ১ম পত্র প্রশ্ন
শিমুলপুর গ্রামের কৃষক জব্বার মিয়া এ বছর তার জমিতে পাট চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তিনি পাটের একাংশ স্থানীয় পাটকলে বিক্রি করেছেন, যেখানে তার ছেলেসহ গ্রামের অনেক যুবক কাজ করে। পাটকলে তৈরি পাটজাত দ্রব্য বিদেশে রফতানি হয়। এ ছাড়া জব্বার মিয়ার ঘরের চাল গোলপাতা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি এবং তার স্ত্রী রান্নায় খড় ও শুকনো ডালপালা ব্যবহার করেন। গ্রামের অনেকেই বলেন, "কৃষির উন্নতি হলেই দেশের উন্নতি হবে।"
- ক)(1)
কৃষি কী?
- খ)(2)
কৃষি শিল্পের কাঁচামালের উৎস- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে জব্বার মিয়ার পরিবার কৃষির কোন কোন গুরুত্বের সুফল ভোগ করছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"কৃষির উন্নতি হলেই দেশের উন্নতি হবে"- উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফসল ও অন্যান্য কৃষিজ সম্পদ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিকে কৃষি বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর যেকোনো শিল্পের প্রধান উপকরণ হলো কাঁচামাল। বাংলাদেশে পাট, আখ, তুলা, বাঁশ, চা, বেত, তামাক, রাবার ও পশুর চামড়ার মতো কৃষিজাত কাঁচামালের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন শিল্প গড়ে উঠেছে। যেমন পাট থেকে পাটকল, আখ থেকে চিনিকল এবং চামড়া থেকে চামড়াশিল্প হয়। কৃষি এসব কাঁচামাল নিয়মিত সরবরাহ করে বলেই শিল্প সচল থাকে। তাই কৃষিকে শিল্পের কাঁচামালের প্রধান উৎস বলা হয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে জব্বার মিয়ার পরিবার কৃষির বাসস্থানের উপকরণ সরবরাহ, জ্বালানি সরবরাহ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুফল ভোগ করছে।
১. বাসস্থানের উপকরণ: মানুষের মৌলিক চাহিদার একটি হলো বাসস্থান। কাঠ, বাঁশ, শণ, খড়, গোলপাতা, বেত ইত্যাদি ঘর তৈরির উপকরণ কৃষি থেকে আসে। উদ্দীপকে জব্বার মিয়ার ঘর গোলপাতা ও বাঁশ দিয়ে তৈরি, যা কৃষি খাতেরই অবদান।
২. জ্বালানি: গ্রামাঞ্চলে রান্নার জ্বালানির বেশিরভাগই পাতা, ডাল, খড়, ভূষি ইত্যাদি কৃষি খাত থেকে পাওয়া যায়। জব্বার মিয়ার স্ত্রী খড় ও শুকনো ডালপালা দিয়ে রান্না করেন।
৩. কর্মসংস্থান: কৃষিপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনের মাধ্যমে গ্রামে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়। উদ্দীপকে পাটকলে জব্বার মিয়ার ছেলেসহ গ্রামের যুবকরা কাজ করছে।
অতএব, জব্বার মিয়ার পরিবার কৃষির এই তিনটি গুরুত্বের সুফল ভোগ করছে। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। এখানকার প্রায় ৬২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই "কৃষির উন্নতি হলেই দেশের উন্নতি হবে"- উক্তিটি যথার্থ। নিচে উদ্দীপকের আলোকে তা বিশ্লেষণ করা হলো।
১. কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাস: উদ্দীপকে জব্বার মিয়া পাট চাষ করে আয় করছেন এবং পাটকলে গ্রামের যুবকরা কাজ পাচ্ছে। কৃষি খাত শ্রমশক্তির প্রায় ৪৫ শতাংশের কর্মসংস্থান করে, ফলে বেকারত্ব ও দারিদ্র্য কমে।
২. শিল্প সম্প্রসারণ: জব্বার মিয়ার পাট পাটকলের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। কৃষিজাত কাঁচামালের জোগান থাকলেই এ ধরনের শিল্প টিকে থাকে ও সম্প্রসারিত হয়।
৩. বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন: পাটজাত দ্রব্য রফতানি করে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। ২০১৫ সালে কৃষিজাত পণ্য রফতানি করে ৯৩৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জিত হয়েছে। এতে জাতীয় আয় ও রিজার্ভ বাড়ে।
৪. মৌলিক চাহিদা পূরণ: ঘরের উপকরণ ও জ্বালানি কৃষি থেকে পাওয়া যায়। উদ্দীপকের পরিবারটি তার প্রমাণ। এ ছাড়া খাদ্য, বস্ত্র, ঔষধ ও শিক্ষার উপকরণও কৃষি জোগায়, যা জনগণের জীবনমান উন্নত করে।
৫. অর্থনৈতিক উন্নয়ন: জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ কৃষি থেকে আসে। কৃষি খাতের সন্তোষজনক প্রবৃদ্ধি ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা সম্ভব নয়।
সুতরাং কৃষি কর্মসংস্থান, শিল্প, রফতানি ও মৌলিক চাহিদা পূরণ- সব ক্ষেত্রেই অগ্রণী ভূমিকা রাখে। তাই কৃষির উন্নতি হলে দেশের সার্বিক উন্নতি সম্ভব; উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও