সমাজকর্ম ১ম পত্র • সমাজকর্ম পেশার সমস্যা ও সম্ভাবনা
সমাজকর্ম ১ম পত্র প্রশ্ন
এশিয়ার দুটি দেশ ‘ক’ ও ‘খ’-এর সমাজকর্ম শিক্ষার তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
| ‘ক’ দেশ | ‘খ’ দেশ |
|---|---|
| ১৯২০ সাল থেকে সমাজকর্ম শিক্ষার উন্নয়ন শুরু। | ১৯৫২ সালে সমাজকর্ম শিক্ষার সূচনা। |
| ১৯৮৭ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় সার্টিফিকেট ব্যবস্থার মাধ্যমে সনদপ্রাপ্ত সমাজকর্মী তৈরি হচ্ছে। | ষাট বছর ধরে মাত্র একটি প্রতিষ্ঠান সমাজকর্ম শিক্ষা দিচ্ছে। |
| কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়েও সমাজকর্ম বিভাগ রয়েছে। | সমাজকর্মীদের নিবন্ধন বা লাইসেন্স দেওয়ার ব্যবস্থা নেই; অধিকাংশ মানুষ সমাজকর্ম ও সমাজবিজ্ঞানের পার্থক্য বোঝে না। |
- ক)(1)
কাউন্সিল অন সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন (CSWE) কোথায় প্রতিষ্ঠিত?
- খ)(2)
‘সমাজকর্ম শিক্ষায় অ্যাক্রিডিটেশন প্রয়োজন’ — ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকের ‘ক’ দেশের সমাজকর্ম শিক্ষা ব্যবস্থার বিবরণ দাও।
- ঘ)(4)
‘খ’ দেশে সমাজকর্ম শিক্ষা বিকাশ না পাওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করো এবং ‘ক’ দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে ‘খ’ দেশের জন্য করণীয় মূল্যায়ন করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর কাউন্সিল অন সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন (CSWE) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর অ্যাক্রিডিটেশন হলো কোনো শিক্ষা কার্যক্রমের মান যাচাই করে কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদন দেওয়ার ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পেশাগত সমাজকর্ম শিক্ষার একটি অভিন্ন মান বজায় থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে CSWE-এর অনুমোদন বাধ্যতামূলক হওয়ায় সেখানে শিক্ষার মান উন্নত। অ্যাক্রিডিটেশন না থাকলে শিক্ষার পেশাগত মান বজায় থাকে না এবং শিক্ষা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হতে পারে না।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ‘ক’ দেশটি জাপান, কারণ জাপানে ১৯২০ সাল থেকে সমাজকর্ম ও সমাজকল্যাণ শিক্ষার উন্নয়ন শুরু হয়েছে এবং ১৯৮৭ সাল থেকে রাষ্ট্রীয় সার্টিফিকেট ব্যবস্থার মাধ্যমে সনদপ্রাপ্ত সমাজকর্মী তৈরি হচ্ছে।
জাপানের সমাজকর্ম শিক্ষা ব্যবস্থা নিম্নরূপ: ১. দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে, এমনকি কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়েও সমাজকর্ম বিভাগ রয়েছে এবং সেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেওয়া হয়। ২. রাজধানী টোকিওতে ‘জাপান কলেজ অব সোশ্যাল ওয়ার্ক’ নামে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ৩. ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠিত পেশাগত সংগঠন Japanese Association of Schools of Social Work (JASSW) শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। ৪. বর্তমানে জাপানের সমাজকর্ম শিক্ষার মান উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ‘খ’ দেশটি শ্রীলংকা। সেখানে ১৯৫২ সালে সমাজকর্ম শিক্ষা শুরু হলেও দীর্ঘ সময় পরও তা সারাদেশে বিকশিত হয়নি।
বিকাশ না পাওয়ার কারণ: ১. ষাট বছর ধরে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ডেভেলপমেন্টের অন্তর্ভুক্ত শ্রীলংকা স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্কই একমাত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে সমাজকর্ম শিক্ষা দিয়ে আসছে। ২. সমাজকর্মীদের রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্স প্রদানের ব্যবস্থা নেই, ফলে পেশাগত মর্যাদা তৈরি হয়নি। ৩. অধিকাংশ মানুষ সমাজকর্ম ও সমাজবিজ্ঞানের পার্থক্য উপলব্ধি করতে পারে না। ৪. মাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞানের অধীনে বিশেষ ডিগ্রি কোর্স হিসেবে এটি পড়ানো হয়, স্বতন্ত্র বিভাগ হিসেবে নয়। ৫. ২০০৫ সালে স্নাতক ডিগ্রি এবং ২০০৮ সালে স্নাতকোত্তর কোর্স স্বীকৃতি পায়, অর্থাৎ বিলম্বে অগ্রগতি হয়েছে।
‘ক’ দেশের অভিজ্ঞতার আলোকে করণীয়: ১. জাপানের মতো রাষ্ট্রীয় সার্টিফিকেট বা লাইসেন্স ব্যবস্থা চালু করে সমাজকর্মীদের পেশাগত স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। ২. জাপানের মতো বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র সমাজকর্ম বিভাগ খোলা এবং শিক্ষাকে সম্প্রসারিত করা। ৩. JASSW-এর মতো শক্তিশালী পেশাগত সংগঠন গড়ে তোলা, যেমন শ্রীলংকার Association of Professional Social Workers একটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ৪. সমাজকর্ম ও সমাজবিজ্ঞানের পার্থক্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।
উপসংহারে বলা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক সম্প্রসারণ, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও শক্তিশালী পেশাগত সংগঠন গড়ে তুললেই ‘খ’ দেশ ‘ক’ দেশের মতো উন্নত সমাজকর্ম শিক্ষা ব্যবস্থা অর্জন করতে পারবে।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও