ইতিহাস ২য় পত্র • স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
শহরে ‘সুপার ফ্রেশ’ ও ‘সিটি মার্ট’ নামে দুটি বড় সুপারশপ প্রতিযোগিতা করত। ‘সিটি মার্ট’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ‘সুপার ফ্রেশ’ আর নতুন শাখা বা মজুতের প্রতিযোগিতায় আগ্রহী নেই। কিন্তু একচ্ছত্র বাজারে সে ছোট দোকানগুলোর দাম ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং দুর্বল দোকানদাররা তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। কেউ কেউ বলছেন, প্রতিযোগিতা না থাকায় এখন দোকানের শক্তি নির্ভর করছে অর্থের জোরের ওপর।
- ক)(1)
ন্যাটো কী?
- খ)(2)
নতুন উপনিবেশবাদ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির কোন প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
‘পৃথিবীতে কোন দেশ কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে তা সামরিক শক্তির চেয়ে অর্থনৈতিক শক্তির দ্বারা নির্ধারিত হবে’— উদ্দীপক ও সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির আলোকে যুক্তি দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ন্যাটো (NATO) হলো পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলোর গঠিত একটি সামরিক জোট, যার পূর্ণরূপ North Atlantic Treaty Organization।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির পর পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো এশিয়া, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার দুর্বল রাষ্ট্রগুলোর অর্থব্যবস্থাকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত হয়। সরাসরি রাজনৈতিক শাসন না করে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এ আগ্রাসন চালানো হয়। ঐতিহাসিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এ আগ্রাসনকেই নতুন উপনিবেশবাদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্তির পর বিশ্বরাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা এবং তৃতীয় বিশ্বের ওপর তার প্রভাব বিস্তারের প্রভাবটি প্রতিফলিত হয়েছে।
সোভিয়েত ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়ায় আদর্শগত দ্বন্দ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার দোসররা জয়ী হয়। বর্তমানে একক শক্তি হিসেবে আমেরিকাই বিশ্বরাজনীতির নিয়ন্ত্রা। রাশিয়া আর পরাশক্তির ভূমিকায় নেই। ‘সিটি মার্ট’ বন্ধ হওয়ার পর ‘সুপার ফ্রেশ’-এর একচ্ছত্র বাজার নিয়ন্ত্রণ অনেকটা এ চিত্রই তুলে ধরে। তৃতীয় বিশ্বের দুর্বল দেশগুলোর অর্থনীতি ও রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এবং তাদের নির্ভরশীলতা উদ্দীপকের দুর্বল দোকানদারদের নির্ভরশীলতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শেষ বাক্যে বাজারের শক্তি অর্থের জোরের ওপর নির্ভরশীল বলা হয়েছে। আমি মনে করি, উক্ত মন্তব্যটি যথার্থ। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তি এ কথার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
১. সামরিক শক্তি সত্ত্বেও পতন: সোভিয়েত ইউনিয়ন সামরিক শক্তিতে অপরাজেয় ছিল, ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন কমিয়ে সমরাস্ত্র ও আণবিক গবেষণায় সাধ্যাতীত ব্যয় করেছিল। কিন্তু শক্ত অর্থনৈতিক কাঠামো না থাকায় তা টিকে থাকতে পারেনি।
২. সামরিক শক্তিতে দীর্ঘস্থায়ী বিস্তার অসম্ভব: শুধু সামরিক শক্তির দ্বারা সাম্যবাদকে বিশ্বে বিস্তার করা গেলেও দীর্ঘস্থায়ী করা যায়নি। দীর্ঘস্থায়ী করতে দরকার শক্তিশালী অর্থনীতি।
৩. অর্থনৈতিক শক্তির উত্থান: অর্থনৈতিক ক্ষমতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশে সহায়তা করেছে। জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক প্রভাবও এখন বিশ্বরাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।
৪. অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা: ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে সোভিয়েত অর্থনীতি পাশ্চাত্যের মুখাপেক্ষী হয়ে শিল্পোন্নত দেশগুলোর কাছে সাহায্যের আবেদন জানায়। পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলো তৃতীয় বিশ্বের অর্থব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করে।সুতরাং আধুনিক বিশ্বে অর্থনৈতিক শক্তিই কোনো রাষ্ট্রের গুরুত্ব ও প্রভাব নির্ধারণ করে, মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও