জীববিজ্ঞান • কোষ বিভাজন

জীববিজ্ঞান প্রশ্ন

একটি প্রাণীর দেহকোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা ২৪। এর শুক্রাশয়ের একটি জনন মাতৃকোষ বিভাজিত হয়ে শুক্রাণু সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে একটি শুক্রাণু একই প্রজাতির ডিম্বাণুর সাথে মিলিত হয়ে জাইগোট গঠন করে। একজন শিক্ষার্থী বলল, 'যদি জনন কোষের ক্রোমোজোম সংখ্যাও ২৪ হতো, তবে প্রজাতির বৈশিষ্ট্য বজায় থাকত না।'

  1. ক)

    হ্যাপ্লয়েড কোষ কাকে বলে?

    (1)
  2. খ)

    মিয়োসিস-২ কে সম বিভাজন বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের জনন মাতৃকোষটি থেকে কতটি শুক্রাণু সৃষ্টি হবে এবং প্রতিটিতে কয়টি করে ক্রোমোজোম থাকবে? জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা কত হবে? নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের শিক্ষার্থীর মন্তব্যটি যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর যে কোষে ক্রোমোজোমের সংখ্যা দেহকোষের অর্ধেক থাকে, অর্থাৎ ক্রোমোজোমের এক সেট থাকে, তাকে হ্যাপ্লয়েড (n) কোষ বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিয়োসিসের দ্বিতীয় বিভাজনটি মাইটোসিসের অনুরূপ। এ বিভাজনে প্রথম বিভাজনে সৃষ্ট দুটি কোষের প্রতিটি আবার বিভাজিত হয়, কিন্তু ক্রোমোজোম সংখ্যার কোনো পরিবর্তন হয় না। অপত্য কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা বিভাজনকারী কোষের সমান থাকে। তাই মিয়োসিস-২ কে সম বিভাজন বলা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর জনন মাতৃকোষটি মিয়োসিস বিভাজনে দুবার বিভাজিত হয়। প্রথম বিভাজনে ২টি এবং দ্বিতীয় বিভাজনে মোট ৪টি অপত্য কোষ সৃষ্টি হয়। অতএব ৪টি শুক্রাণু সৃষ্টি হবে।
    প্রথম বিভাজনে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায়। সুতরাং প্রতিটি শুক্রাণুতে ক্রোমোজোম থাকবে ২৪ ÷ ২ = ১২টি।
    ডিম্বাণুতেও ১২টি ক্রোমোজোম থাকবে। শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মিলনে সৃষ্ট জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা হবে ১২ + ১২ = ২৪টি, যা দেহকোষের ক্রোমোজোম সংখ্যার সমান।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর শিক্ষার্থীর মন্তব্যটি যথার্থ। কারণ মিয়োসিস না হলে জনন কোষে ক্রোমোজোম সংখ্যা দেহকোষের সমান ২৪টিই থাকত। বিশ্লেষণ নিচে দেওয়া হলো:
    ১. জাইগোটে ক্রোমোজোম বৃদ্ধি: শুক্রাণু (২৪) ও ডিম্বাণুর (২৪) মিলনে জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা হতো ৪৮, যা মাতৃজীবের দ্বিগুণ।
    ২. বংশপরম্পরায় দ্বিগুণ হওয়া: পরবর্তী প্রজন্মে ক্রোমোজোম সংখ্যা হতো ৯৬, তার পরের প্রজন্মে ১৯২। অর্থাৎ প্রতি প্রজন্মে এভাবে দ্বিগুণ হতে থাকত।
    ৩. বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন: ক্রোমোজোম জিন বহন করে এবং জিন বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। তাই ক্রোমোজোম সংখ্যা বদলে গেলে বংশধরদের বৈশিষ্ট্যে আমূল পরিবর্তন ঘটে যেত।
    মিয়োসিসের ফলে জনন কোষ হ্যাপ্লয়েড (১২) হয় এবং নিষেকে জাইগোট ডিপ্লয়েড (২৪) হয়। এভাবে ক্রোমোজোম সংখ্যা বংশপরম্পরায় একই থাকে এবং প্রজাতির বৈশিষ্ট্য টিকে থাকে। সুতরাং শিক্ষার্থীর মন্তব্য সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও