সাহিত্য পাঠ • সেই অস্ত্র
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
সীমান্তবর্তী একটি দেশ বছরের পর বছর তার বাজেটের বড় অংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধসরঞ্জাম তৈরিতে ব্যয় করছে। ফলে সেখানকার গ্রামের স্কুল ও হাসপাতালগুলো অবহেলিত, শিশুরা ভয়ে ভয়ে বড় হচ্ছে। দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুমাইয়া ভাবে, মানুষ যদি অস্ত্রের বদলে পরস্পরকে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধা করতে শিখত, তবে সীমান্তের দুই পারেই শিশুরা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারত। সে কলেজের দেয়ালিকায় লেখে, ‘সমঝোতা আর ভালোবাসাই পারে মানুষকে কাছে টানতে।’
- ক)(1)
‘সেই অস্ত্র’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
- খ)(2)
“আমাদের চেতনা জুড়ে তারা করবে না আর্তনাদ”— বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুমাইয়ার ভাবনার সাথে ‘সেই অস্ত্র’ কবিতার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের দেশটির কর্তাব্যক্তিরা যদি ‘সেই অস্ত্র’ কবিতায় কবির প্রত্যাশিত অস্ত্রকে গ্রহণ করত, তবে দেশটির পরিস্থিতিতে কী কী পরিবর্তন আসত? কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সেই অস্ত্র’ কবিতাটি অন্ত্যমিলহীন অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর আলোচ্য চরণে কবি যুদ্ধের শিকার মানুষের যন্ত্রণার স্মৃতি যেন আমাদের বিবেককে আর আচ্ছন্ন না করে, সেই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। হিরোশিমা-নাগাসাকির মতো ধ্বংসযজ্ঞে মৃত ও পঙ্গু মানুষের আর্তনাদ কবির মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। কবি চান, ভালোবাসার অস্ত্রের জয় হলে যুদ্ধ থাকবে না, আর যুদ্ধ না থাকলে নিরপরাধ মানুষের কান্নাও আমাদের চেতনাকে পীড়িত করবে না। এভাবে চরণটিতে কবির যুদ্ধবিরোধী মানবিক চেতনা প্রকাশ পেয়েছে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সুমাইয়ার ভাবনার সাথে ‘সেই অস্ত্র’ কবিতার মূল বক্তব্যের গভীর সাদৃশ্য রয়েছে। ‘সেই অস্ত্র’ কবিতায় আহসান হাবীব মারণাস্ত্রের বদলে ভালোবাসা নামের অমোঘ অস্ত্রকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছেন। কবি বিশ্বাস করেন, ভালোবাসা ঘৃণা, বিদ্বেষ ও আধিপত্যের লোভকে পরাজিত করে এবং মানুষকে বিচ্ছিন্ন না করে একত্র করে। উদ্দীপকে সুমাইয়াও অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিপরীতে বিশ্বাস, শ্রদ্ধা ও সমঝোতার মাধ্যমে মানুষকে কাছে টানার কথা ভেবেছে। তার ভাবনায় সীমান্তের দুই পারের শিশুদের নিরাপদ ঘুম কবিতার ‘পাখিরা নীড়ে ঘুমোবে’ চিত্রকল্পের সঙ্গে মিলে যায়। সুতরাং শান্তি ও ভালোবাসার প্রত্যাশায় উদ্দীপক ও কবিতা একসূত্রে গাঁথা।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সেই অস্ত্র’ কবিতায় কবির প্রত্যাশিত অস্ত্র হলো ভালোবাসা, যা ঘৃণা, বিদ্বেষ, অহংকার ও জাতিভিমানকে পরাজিত করে এবং আধিপত্যের লোভকে নিশ্চিহ্ন করে। উদ্দীপকের দেশটির কর্তাব্যক্তিরা যদি এই অস্ত্রকে গ্রহণ করত, তবে প্রথমত, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধসরঞ্জামের প্রতিযোগিতার প্রয়োজনই ফুরিয়ে যেত। কবির ভাষায়, এই অস্ত্র উত্তোলিত হলে পৃথিবীর যাবতীয় অস্ত্র আনত হয়। দ্বিতীয়ত, বাজেটের যে বিপুল অর্থ যুদ্ধের পেছনে ব্যয় হচ্ছে, তা স্কুল, হাসপাতাল ও গ্রামীণ উন্নয়নে ব্যবহার করা সম্ভব হতো; ফলে অবহেলিত জনপদ সুখ ও সমৃদ্ধির দিকে এগোত। তৃতীয়ত, সীমান্তে শত্রুতার বদলে মিতালী গড়ে উঠত, কারণ কবিতার ভাষায় এই অস্ত্র মানুষকে বিচ্ছিন্ন না করে ‘সমাবিষ্ট’ করে। চতুর্থত, শিশুরা ভয়মুক্ত হয়ে বেড়ে উঠত এবং কবির কল্পিত অরণ্য, নদী ও ফসলের মাঠের নিরাপত্তার মতোই মানবসমাজে স্থায়ী শান্তি বিরাজ করত। এভাবে ভালোবাসাকে গ্রহণ করলে উদ্দীপকের দেশটি ধ্বংসের পথ ছেড়ে মানবিক কল্যাণের পথে ফিরে আসত, যা কবিতার মর্মবাণীরই বাস্তব রূপ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও