বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • রাষ্ট্র, নাগরিকতা ও আইন
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
সাগরের বুকে অবস্থিত নীলদ্বীপে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করে। দ্বীপটির সীমানা সুনির্দিষ্ট এবং সেখানে নির্বাচিত একটি স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে। কিন্তু দ্বীপের প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি ও আইন-কানুন সবই পার্শ্ববর্তী একটি বৃহৎ দেশের নির্দেশে পরিচালিত হয়। নীলদ্বীপের কিছু তরুণ দাবি করছে, তারা একটি স্বাধীন রাষ্ট্র।
- ক)(1)
রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান কোনটি?
- খ)(2)
নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে নীলদ্বীপে রাষ্ট্রের কোন কোন উপাদানের উপস্থিতি রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
নীলদ্বীপকে কি স্বাধীন রাষ্ট্র বলা যায়? উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান হলো জনসমষ্টি। জনসমষ্টি ছাড়া রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর প্রত্যেক রাষ্ট্রই একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে, একে নির্দিষ্ট ভূখণ্ড বলে। ভূখণ্ড বলতে শুধু স্থলভাগ নয়, সমুদ্রসীমা ও আকাশসীমাকেও বোঝায়। জনগণের স্থায়ী বসবাসের জন্য এই ভূখণ্ডের ওপর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ থাকা আবশ্যক। ভূখণ্ড ছোট বা বড় হতে পারে, এমনকি কয়েকটি দ্বীপের সমষ্টিও হতে পারে, যেমন জাপান ও ইন্দোনেশিয়া।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রাষ্ট্রের চারটি উপাদান হলো জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। উদ্দীপকে নীলদ্বীপে তিনটি উপাদানের উপস্থিতি দেখা যায়।
১. জনসমষ্টি: দ্বীপে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করে, যা রাষ্ট্রের প্রাথমিক উপাদান। রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসংখ্যার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। স্যানম্যারিনোর মতো ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের জনসংখ্যাও কয়েক হাজার।
২. নির্দিষ্ট ভূখণ্ড: দ্বীপটির সীমানা সুনির্দিষ্ট, অর্থাৎ নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমারেখা আছে।
৩. সরকার: নির্বাচিত একটি স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে, যা সরকারের উপাদানটিকে নির্দেশ করে।
সুতরাং নীলদ্বীপে জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও সরকার এই তিনটি উপাদান বিদ্যমান। - ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর নীলদ্বীপকে স্বাধীন রাষ্ট্র বলা যায় না। কারণ রাষ্ট্র গঠনের জন্য জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, সরকার ও সার্বভৌমত্ব এই চারটি উপাদানের সবকটিই থাকা আবশ্যক।
উদ্দীপকে নীলদ্বীপে জনসমষ্টি, নির্দিষ্ট ভূখণ্ড ও সরকার আছে। কিন্তু এর প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্রনীতি ও আইন-কানুন পার্শ্ববর্তী বৃহৎ দেশের নির্দেশে চলে। অর্থাৎ বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ কোনো ক্ষেত্রেই দ্বীপটির চূড়ান্ত ও চরম ক্ষমতা নেই। সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের সেই বৈশিষ্ট্য, যার ফলে নিজের ইচ্ছা ছাড়া অন্য কোনো ইচ্ছার দ্বারা রাষ্ট্র আইনসঙ্গতভাবে আবদ্ধ নয়। বাহ্যিক সার্বভৌমত্বের অর্থ হলো রাষ্ট্র বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকবে। নীলদ্বীপ বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকায় এই শর্ত পূরণ হয়নি।
পাঠ্যবইয়ে বলা হয়েছে, জনসমষ্টি, ভূখণ্ড ও সরকার থাকা সত্ত্বেও সার্বভৌমত্ব না থাকলে তা রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচিত হবে না। সুতরাং সার্বভৌমত্বের অভাবে নীলদ্বীপ স্বাধীন রাষ্ট্র নয়।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও