সাহিত্য পাঠ • সুচেতনা

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

শহরতলির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীটির পানি কারখানার বর্জ্যে কালো হয়ে গেছে। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী মিতা তার সহপাঠীদের নিয়ে নদী পরিষ্কারের অভিযান শুরু করে। স্থানীয়রা প্রথমে ঠাট্টা করলেও মিতা বলে, “আমরা হয়তো নদীকে পুরোপুরি পরিষ্কার দেখে যেতে পারব না, কিন্তু আমাদের পরের প্রজন্ম ঠিকই দেখবে। এই নদীর কাছে আমরা সবাই ঋণী।”

  1. ক)

    ‘সুচেতনা’ কবিতায় সুচেতনাকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?

    (1)
  2. খ)

    “মানুষ তবুও ঋণী পৃথিবীরই কাছে”—কথাটি বুঝিয়ে লেখো।

    (2)
  3. গ)

    মিতাদের উদ্যোগ ‘সুচেতনা’ কবিতার ‘ক্রমমুক্তি’র ধারণার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত? বিশ্লেষণ করো।

    (3)
  4. ঘ)

    কবি জীবনানন্দ দাশ উদ্দীপকের মিতার উদ্যোগকে কীভাবে মূল্যায়ন করতেন? ‘সুচেতনা’ কবিতার আলোকে তোমার মত দাও।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘সুচেতনা’ কবিতায় সুচেতনাকে বিকেলের নক্ষত্রের কাছে এক দূরতর দ্বীপের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পৃথিবীতে যুদ্ধ, রক্তপাত ও সংকট থাকা সত্ত্বেও কবি মনে করেন, মানুষের জীবন, অস্তিত্ব ও প্রাপ্তি এই পৃথিবীর কাছ থেকেই এসেছে। পৃথিবী মানুষকে আশ্রয়, প্রকৃতি ও জীবনের সৌন্দর্য দিয়েছে। তাই পৃথিবীর অসুখ বা দুর্দশা দেখে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। মানুষের দায়িত্ব হলো এই ঋণ স্বীকার করে পৃথিবীকে সুস্থ ও সুন্দর করে তোলা। কবি এখানে পৃথিবীর প্রতি মানুষের কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতার কথা বলেছেন।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর মিতাদের উদ্যোগ ‘সুচেতনা’ কবিতার ‘ক্রমমুক্তি’র ধারণার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। কবিতায় কবি বলেছেন, শুভ চেতনার আলো জ্বেলে এই পথেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি ঘটবে, আর এটি অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ। অর্থাৎ পৃথিবীর বিপর্যয় থেকে মুক্তি একদিনে আসে না, ধাপে ধাপে ও দীর্ঘ প্রচেষ্টায় আসে। উদ্দীপকে কারখানার বর্জ্যে নদী কালো হয়ে যাওয়া পৃথিবীর অসুখেরই একটি রূপ। মিতা ও তার সহপাঠীরা ঠাট্টা সহ্য করেও নদী পরিষ্কারের অভিযান শুরু করেছে। মিতা জানে, সে হয়তো নদীকে সম্পূর্ণ পরিষ্কার দেখে যেতে পারবে না, কিন্তু পরের প্রজন্ম দেখবে। এই ক্রমাগত প্রচেষ্টা ও ভবিষ্যৎ-বিশ্বাস কবিতার শুভ চেতনা ও ক্রমমুক্তির ভাবনারই বাস্তব প্রতিফলন।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি জীবনানন্দ দাশ মিতার উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করতেন বলে আমি মনে করি। ‘সুচেতনা’ কবিতায় কবি বলেছেন, পৃথিবী গভীর অসুখে আক্রান্ত, তবু মানুষ পৃথিবীর কাছে ঋণী। এই ঋণবোধ থেকেই পৃথিবীকে সুস্থ করার দায়িত্ব আসে। মিতা ঠিক এই বোধ থেকেই কথা বলেছে—“এই নদীর কাছে আমরা সবাই ঋণী”—এবং দূষিত নদী পরিষ্কারে নেমেছে। কবির মতে শুভ চেতনার আলো জ্বেলেই পৃথিবীর ক্রমমুক্তি সম্ভব, আর তা অনেক শতাব্দীর মনীষীর কাজ। মিতার উদ্যোগ ছোট হলেও তা সেই শুভ চেতনার আলো জ্বালানোর একটি ধাপ। স্থানীয়দের ঠাট্টা সত্ত্বেও সে থেমে যায়নি; এতে ‘ক্লান্ত ক্লান্তিহীন নাবিকে’র মতো অধ্যবসায় ফুটে ওঠে। তার পরের প্রজন্ম ফল দেখবে—এই বিশ্বাস কবির ‘ঢের দূর অন্তিম প্রভাতে’র আশাবাদের সঙ্গে মিলে যায়। যুদ্ধ-রক্তপাত বা সংকট শেষ সত্য নয় এবং শাশ্বত রাত্রির বুকেও অনন্ত সূর্যোদয় আছে—কবির এই প্রত্যয়ই মিতার কাজের প্রেরণা। তাই কবি মিতার উদ্যোগকে সুচেতনার আলো জ্বালানোর প্রয়াস হিসেবেই সমর্থন করতেন।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও