বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, দক্ষিণ বাংলার একটি উপজেলায় গত ২০ বছরে জনসংখ্যা দেড় গুণ হয়েছে, কিন্তু নতুন স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মসংস্থান সে হারে বাড়েনি। ফলে যুবকদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়েছে, অনেক শিশু বিদ্যালয় ছেড়ে কাজে যাচ্ছে এবং চাকরির জন্য তীব্র প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি জোরদার করেছে।
- ক)(1)
জৈবিক উপাদান কী?
- খ)(2)
জন্ম ও মৃত্যুহার হ্রাস কীভাবে সমাজকাঠামো পরিবর্তন করে? ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের কোন উপাদানের প্রভাব প্রকাশ পেয়েছে? ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের উপজেলায় সৃষ্ট সমস্যাগুলো সমাধানে প্রশাসনের গৃহীত কর্মসূচি কতটুকু যথেষ্ট? তোমার মতামত দাও।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জন্ম ও মৃত্যুহার, গড় আয়ু, জনসংখ্যার ঘনত্ব, জনসংখ্যার প্রকৃতি ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে গঠিত সামাজিক পরিবর্তনের উপাদানকে জৈবিক উপাদান বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর জন্ম ও মৃত্যুহার হ্রাস পেলে জনসংখ্যার আকার ও বয়সভিত্তিক গঠন বদলে যায়। পরিবারের আকার ছোট হয় এবং মানুষের গড় আয়ু বাড়ে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানের চাহিদার ধরন বদলায় এবং পরিবারে সন্তান লালনপালনের দৃষ্টিভঙ্গিও পাল্টায়। ফলে সমাজকাঠামোর পরিবর্তন ঘটে।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে সামাজিক পরিবর্তনের জৈবিক উপাদানের প্রভাব প্রকাশ পেয়েছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা হ্রাস, স্থানান্তর ও ঘনত্বের পরিবর্তন জৈবিক উপাদানের অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলো সামাজিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উদ্দীপকে উপজেলাটির জনসংখ্যা ২০ বছরে দেড় গুণ হয়েছে, কিন্তু স্কুল, হাসপাতাল ও কর্মসংস্থান সে অনুপাতে বাড়েনি। এর ফলে বেকারত্ব, শিশুশ্রম ও চাকরির তীব্র প্রতিযোগিতার মতো সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাঠ্যবইয়ে ঠিক এ ধরনের সমস্যার কথাই বলা হয়েছে।
অতএব উদ্দীপকে জৈবিক উপাদানের প্রভাব স্পষ্ট।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের উপজেলায় সমস্যার মূল কারণ হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সুযোগ-সুবিধা না বাড়া। এর ফলে বেকারত্ব, শিশুশ্রম ও কর্মসংস্থানে তীব্র প্রতিযোগিতা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রশাসন পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচি জোরদার করেছে। জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করলে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে এবং ভবিষ্যতে সমস্যার চাপ হ্রাস পায়। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। কিন্তু এই কর্মসূচি কেবল ভবিষ্যৎ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে, বর্তমানের বেকারত্ব, শিশুশ্রম এবং শিক্ষা-স্বাস্থ্যের ঘাটতি দূর করে না। তাই এটি একা যথেষ্ট নয়।
সমস্যার পূর্ণ সমাধানে এর পাশাপাশি নতুন স্কুল ও হাসপাতাল স্থাপন, যুবকদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং শিশুশ্রম রোধে সচেতনতা ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা দরকার।
সুতরাং প্রশাসনের কর্মসূচি সঠিক দিকে হলেও সার্বিক সমাধানের জন্য অন্যান্য উন্নয়নমূলক পদক্ষেপও আবশ্যক।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও