জীববিজ্ঞান • জীবের প্রজনন (Reproduction)
জীববিজ্ঞান প্রশ্ন
কৃষক রহিম মিয়ার ধানক্ষেতে বাতাসের সঙ্গে ধান ফুলের হালকা পরাগরেণু ভেসে এক ফুল থেকে অন্য ফুলে যায়। এসব ফুলের গর্ভমুণ্ড পালকের মতো শাখায়িত। অন্যদিকে তার বাড়ির পাশের শিমুল গাছের বড় বড় রঙিন ফুলে পাখি ও পতঙ্গ এসে বসে এবং এক গাছের পরাগরেণু অন্য গাছের ফুলে পৌঁছে দেয়।
- ক)(1)
পরাগায়ন কাকে বলে?
- খ)(2)
স্ব-পরাগায়নের ফলে উৎপন্ন উদ্ভিদে জিনগত বৈচিত্র্য কম হয় কেন?
- গ)(3)
ধান ফুলের পরাগায়নের মাধ্যম শনাক্ত কর এবং এ মাধ্যমে পরাগায়নের সুবিধার্থে ফুলের গঠনে যে পরিবর্তন দেখা যায় তা ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
উদ্দীপকের শিমুল গাছে সংঘটিত পরাগায়ন প্রক্রিয়াটি প্রজাতির টিকে থাকার জন্য উপকারী হলেও এর কিছু সীমাবদ্ধতা আছে — বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর ফুলের পরাগধানী থেকে পরাগরেণু একই ফুলের অথবা একই জাতের অন্য ফুলের গর্ভমুণ্ডে স্থানান্তরিত হওয়াকে পরাগায়ন বলে।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্ব-পরাগায়নে একই ফুলে বা একই গাছের ফুলের মধ্যে পরাগ সংযোগ ঘটে। ফলে একই ধরনের জিনসম্পন্ন জননকোষ মিলিত হয় এবং নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয় না। এতে উৎপন্ন বীজ ও গাছ মাতৃগাছের মতোই হয়, জিনগত বৈচিত্র্য কম থাকে। তাই প্রতিকূল পরিবেশে এদের অভিযোজন ক্ষমতা কমে যায়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের ধান ফুলের পরাগরেণু বাতাসের সাহায্যে স্থানান্তরিত হয়, তাই এর পরাগায়নের মাধ্যম বায়ু এবং এটি বায়ুপরাগী ফুল। বায়ুপরাগী ফুলের গঠনে নিম্নরূপ পরিবর্তন দেখা যায়: ১. ফুল ও পরাগরেণু হালকা হয়, ফলে সহজেই বাতাসে ভেসে যেতে পারে। ২. ফুলে মধুগ্রন্থি থাকে না এবং সুগন্ধও থাকে না, কারণ পতঙ্গ আকর্ষণের প্রয়োজন নেই। ৩. গর্ভমুণ্ড আঠালো, শাখায়িত ও কখনো পালকের মতো হয়, যা বাতাস থেকে সহজে পরাগরেণু ধরে রাখতে পারে। এই পরিবর্তনগুলোর কারণে ধান ফুলে বায়ুর মাধ্যমে পরাগায়ন সহজ হয়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকে শিমুল গাছের এক গাছের পরাগরেণু অন্য গাছের ফুলে পৌঁছাচ্ছে। একই প্রজাতির দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের ফুলের মধ্যে এ ধরনের পরাগ সংযোগকে পর-পরাগায়ন বলে। উপকারিতা: ১. দুটি ভিন্ন গুণসম্পন্ন গাছের মধ্যে পরাগায়ন ঘটে বলে উৎপন্ন বীজ ও গাছে নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়, ফলে জিনগত বৈচিত্র্য বাড়ে। ২. বীজের অঙ্কুরোদগমের হার বৃদ্ধি পায় এবং বীজ অধিক জীবনীশক্তিসম্পন্ন হয়। ৩. নতুন প্রজাতি সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষমতা বাড়ে। সীমাবদ্ধতা: ১. এটি বাহকনির্ভর প্রক্রিয়া, তাই বাহক না এলে পরাগায়নের নিশ্চয়তা থাকে না। ২. প্রচুর পরাগরেণুর অপচয় ঘটে। ৩. প্রজাতির চরিত্রগত বিশুদ্ধতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতএব, পর-পরাগায়ন বৈচিত্র্য ও অভিযোজন ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রজাতির টিকে থাকতে সাহায্য করে, তবে বাহকনির্ভরতা ও অপচয় এর সীমাবদ্ধতা।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও