ব্যবসায় উদ্যোগ • সফল উদ্যোক্তাদের জীবনী থেকে শিক্ষণীয়
ব্যবসায় উদ্যোগ প্রশ্ন
রোকেয়া খাতুন সিলেট শহরের একজন গৃহবধূ। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর পর তিন সন্তান নিয়ে তিনি অকূল পাথারে পড়েন। ব্যবসায়ের কোনো অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজের গহনা বিক্রি করে ত্রিশ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে বাড়ির সামনে একটি সেলাইয়ের দোকান শুরু করেন। প্রথমে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা কটাক্ষ করলেও তিনি পিছিয়ে যাননি। আজ তার দোকানে আটজন কর্মী কাজ করে।
- ক)(1)
শাহিদা বেগম কত সালে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কার পান?
- খ)(2)
শাহিদা বেগম নিতান্ত প্রয়োজনে ব্যবসায় শুরু করেন- ব্যাখ্যা করো।
- গ)(3)
রোকেয়া খাতুনের সাথে শাহিদা বেগমের মিলগুলো ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
‘দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রমই রোকেয়া খাতুনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি’- শাহিদা বেগমের জীবনীর আলোকে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শাহিদা বেগম ২০০৮ সালে এসএমই ফাউন্ডেশন থেকে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে পুরস্কার পান।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শাহিদা বেগম শখ বা পরিকল্পনা করে ব্যবসায় শুরু করেননি। ১৯৯৭ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর চার মেয়েকে নিয়ে তার সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। স্বামীর টেইলার্সের অবস্থাও ভালো ছিল না এবং সঞ্চয়ও শেষ হয়ে গিয়েছিল। তাই বাঁচার তাগিদে ও সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি গহনা বিক্রি করে ব্যবসায়ের হাল ধরেন। এ কারণেই বলা হয়, তিনি নিতান্ত প্রয়োজনে ব্যবসায় শুরু করেছিলেন।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর রোকেয়া খাতুনের সাথে শাহিদা বেগমের জীবনের বেশ কিছু মিল রয়েছে। ১. দুজনই গৃহবধূ ছিলেন এবং ব্যবসায়ের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই ব্যবসায়ে নামেন। ২. স্বামীর মৃত্যুর পর সংসারের প্রয়োজনেই দুজনকে ব্যবসায় শুরু করতে হয়। ৩. শাহিদা বেগম গহনা বিক্রি করে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে এবং রোকেয়া গহনা বিক্রি করে ত্রিশ হাজার টাকা দিয়ে ব্যবসায় শুরু করেন, অর্থাৎ দুজনেরই পুঁজি ছিল সামান্য। ৪. দুজনের ব্যবসায়ই সেলাই বা টেইলারিংভিত্তিক। ৫. শুরুতে আত্মীয়স্বজন ও সমাজের অনেকেই তাদের কাজকে ভালোভাবে নেননি, তবু তারা হাল ছাড়েননি। এসব মিলের কারণে রোকেয়া খাতুনকে শাহিদা বেগমের মতোই একজন সংগ্রামী নারী উদ্যোক্তা বলা যায়।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের রোকেয়া খাতুনের জীবন শাহিদা বেগমের জীবনের অনুরূপ। শাহিদা বেগমের সাফল্যের পেছনে দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রমই ছিল প্রধান শক্তি। নিচে বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হলো। ১. দৃঢ় মনোবল: স্বামীর মৃত্যুর পর শাহিদা চোখে অন্ধকার দেখলেও ভেঙে পড়েননি। পুরুষ ক্রেতা, পরিবার ও আত্মীয়স্বজন কাজটিকে ভালোভাবে না নিলেও তিনি কঠিন মনোবল নিয়ে পরিস্থিতি সামলান। রোকেয়াও কটাক্ষ উপেক্ষা করে দোকান চালিয়ে গেছেন। ২. পরিশ্রম ও শেখার আগ্রহ: শাহিদা দোকানের দুজন কর্মচারীর কাছে টেইলারিং শেখেন এবং কঠোর পরিশ্রমে কাজ চালিয়ে যান। রোকেয়াও অভিজ্ঞতা ছাড়া শুরু করে পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ আটজন কর্মীর দোকানের মালিক। ৩. আত্মবিশ্বাস: আত্মবিশ্বাসের ফলেই শাহিদা সাধারণ গৃহবধূ থেকে আধুনিক জেন্টস টেইলার্সের মালিক হয়ে ওঠেন। ৪. স্বীকৃতি: তার এ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৮ সালে তিনি এসএমই ফাউন্ডেশনের পুরস্কার পান। সুতরাং, পুঁজি কম ও অভিজ্ঞতাহীন হলেও দৃঢ় মনোবল ও পরিশ্রম থাকলেই সাফল্য আসে। তাই রোকেয়া খাতুনের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি এ দুটি গুণ- উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও