সাহিত্য পাঠ • নবান্ন

সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন

ব্যবসায়ে বড় লোকসানের পর শফিক সাহেব পুরোনো বন্ধু নাসিরের বাসায় যান মন খুলে কথা বলতে। কিন্তু তাঁর কথার মাঝেই নাসির বারবার ঘড়ি দেখে, ফোনে চোখ রাখে, একসময় হাই তোলে। শফিক সাহেব হঠাৎ থেমে যান। তিনি বলেন, “থাক ভাই, তোমার সময় নষ্ট করব না। বাকিটা আরেকদিন বলব।”

  1. ক)

    ‘নবান্ন’ কবিতা কোন ছন্দে রচিত?

    (1)
  2. খ)

    “বন্ধু, দোহাই, তুলোনাকে হাই, হইনু অপ্রগলভ”— কবি কেন একথা বলেছেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের নাসিরের আচরণে ‘নবান্ন’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    “গল্প অসমাপ্ত থেকে যাওয়াই ‘নবান্ন’ কবিতার বেদনাকে গভীর করেছে।”— উদ্দীপকের আলোকে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ‘নবান্ন’ কবিতা মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর কবি তাঁর পাকা ধান নষ্ট হওয়ার দুঃখের কথা বন্ধুকে বলছিলেন। কিন্তু বন্ধু হাই তুলে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় কবি বুঝতে পারেন যে তাঁর কষ্টের কথা শোনার ধৈর্য বন্ধুর নেই। তখন তিনি বন্ধুর কাছে অনুরোধ করে বলেন, হাই না তুলতে এবং নিজের বেশি কথা বলার জন্য ক্ষমা চান। ‘অপ্রগলভ’ শব্দে কবি নিজেকে সংযত ও বিনয়ী করে কথা থামিয়ে দেন। এতে তাঁর অভিমান ও বেদনা প্রকাশ পেয়েছে।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের নাসিরের আচরণে ‘নবান্ন’ কবিতার বন্ধুর অসহিষ্ণুতা ও উদাসীনতার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। কবিতায় কবি দাওয়ার খুঁটিতে ঠেস দিয়ে বসিয়ে বন্ধুকে ফসল হারানোর দুঃখের কথা শোনাচ্ছিলেন। কিন্তু একসময় বন্ধু হাই তুলে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন, ফলে কবি ‘তুচ্ছ ধানের গল্প’ বন্ধ করতে বাধ্য হন। উদ্দীপকে শফিক সাহেব বন্ধুর কাছে ব্যবসায়ের লোকসানের কষ্ট বলতে গেলে নাসির বারবার ঘড়ি দেখে ও ফোনে মনোযোগ দেয় এবং হাই তোলে। এতে শফিক সাহেব কথা অসমাপ্ত রেখে থেমে যান। দুই ক্ষেত্রেই বন্ধুর উদাসীনতা দুঃখী মানুষকে আরও একা করে তুলেছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর “গল্প অসমাপ্ত থেকে যাওয়াই ‘নবান্ন’ কবিতার বেদনাকে গভীর করেছে”— মন্তব্যটি যথার্থ। ‘নবান্ন’ কবিতার সূচনা হয় বন্ধুর সঙ্গে কবির সংলাপের ভঙ্গিতে। কবি ধীরে ধীরে নবান্নের আনন্দ, কৃষকের বছরব্যাপী শ্রম ও আশার কথা বলে চলেন। যখন তিনি ‘কালকে হঠাৎ—’ বলে মূল সর্বনাশের কথায় আসেন, তখনই বন্ধুর হাই তোলায় তিনি থেমে যান এবং ‘তুচ্ছ ধানের গল্প’ বন্ধ করেন। কেন মই পড়ল, কে ক্ষতি করল, তা বলা হয় না। এই না-বলা অংশই পাঠকের মনে প্রশ্ন ও বেদনা জাগিয়ে রাখে। পাঠ-পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার বাস্তবতা এক অসমাপ্ত গল্পে পরিণত হয়েছে। বেদনার রেশ টেনে নবান্নের আনন্দ মুছে দিয়ে কবিতাটি শেষ হয়। উদ্দীপকেও শফিক সাহেবের কথা অসমাপ্ত থেকে যায়, তাঁর ‘বাকিটা আরেকদিন বলব’ কথায় অভিমান ও একাকিত্ব স্পষ্ট হয়। অনাগ্রহী শ্রোতার কারণে কথা থেমে গেলেও না-বলা কষ্ট পাঠকের কাছে আরও ভারী হয়ে ওঠে। সুতরাং অসমাপ্ত গল্পের কাঠামোই কবিতার বেদনাকে গভীর করেছে— মন্তব্যটি সঠিক।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও