বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় • বাংলাদেশের পরিবার কাঠামো ও সামাজিকীকরণ

বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন

রফিক ও মিনা দম্পতির ছেলে তানভীর একজন অটিস্টিক শিশু। তার জন্মের পর কিছু আত্মীয় তাকে পরিবারের বোঝা মনে করতেন। কিন্তু রফিক ও মিনা তাকে একটি বিশেষ বিদ্যালয়ে ভর্তি করান। সেখানে সে লেখাপড়ার পাশাপাশি গান ও খেলাধুলা শিখছে। সম্প্রতি সে শিশু অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সবাইকে অবাক করেছে।

  1. ক)

    বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মধ্যে যেকোনো দুই ধরনের শিশুর নাম লেখো।

    (1)
  2. খ)

    পরিবারে মানসিক নিরাপত্তার অভাব হলে শিশুর কী ক্ষতি হতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের আলোকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর প্রতি পরিবারের মনোভাবের পরিবর্তন ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    তানভীরের মতো শিশুরা যাতে স্বাধীন ও নিরাপদভাবে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজের কী কী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে তুমি মনে করো? বিশ্লেষণ করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মধ্যে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু অন্তর্ভুক্ত।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরিবার শিশুর দৈহিক প্রয়োজনের পাশাপাশি তার মানসিক নিরাপত্তা ও স্নেহ-ভালোবাসার দাবিও পূরণ করে। যদি শিশু পরিবারে মানসিক নিরাপত্তা না পায়, তবে তার মনে হতাশা, হীনম্মন্যতা ও আশঙ্কা সৃষ্টি হতে পারে। এতে তার সামাজিক বিকাশ ব্যাহত হয় এবং সে সমাজের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে খাপ খাইয়ে চলতে পারে না।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর একসময় আমাদের দেশে গ্রাম বা শহরে জন্মগ্রহণ করা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পরিবারের বোঝা ভাবা হতো। উদ্দীপকেও তানভীরের জন্মের পর কিছু আত্মীয় তাকে বোঝা মনে করতেন।

    বর্তমানে পরিবারের এ মনোভাবে অনেক পরিবর্তন এসেছে। এখন এসব শিশুর অধিকার সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা অধিক সচেতন। তাদের জন্য বিশেষ বিদ্যালয় গড়ে উঠেছে, বিনোদন কেন্দ্রে তারা গান, নাচ ও খেলাধুলা করছে এবং কেউ কেউ কারিগরি বিদ্যা ও হাতের কাজে পারদর্শী হচ্ছে। উদ্দীপকে রফিক ও মিনা তানভীরকে বিশেষ বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন এবং সে গান-খেলাধুলা শিখছে। ফলে সে শিশু অলিম্পিকে অংশ নিয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে। এটি প্রমাণ করে যে পরিবারের মনোভাব এখন বোঝা ভাবা থেকে অধিকার ও সম্ভাবনার স্বীকৃতিতে পরিবর্তিত হয়েছে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর তানভীরের মতো অটিস্টিক বা অন্যান্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর চাহিদার ধরন ও মাত্রা ভিন্ন হয়। তাই তাদের বিকাশের জন্য চাহিদা অনুযায়ী পরিবেশ উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন। যাতে তারা যথাসম্ভব স্বাধীন ও নিরাপদভাবে নিজের কাজ নিজে করতে পারে।

    পরিবারের পদক্ষেপ: (১) শিশুকে বোঝা না ভেবে অন্য শিশুর মতোই স্নেহ-ভালোবাসা ও মানসিক নিরাপত্তা দেওয়া, যাতে তার মধ্যে হতাশা ও হীনম্মন্যতা তৈরি না হয়। (২) তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সাধ্যমতো গৃহের পরিবেশ তার ব্যবহার-উপযোগী করা। (৩) তার আগ্রহ অনুযায়ী গান, খেলাধুলা বা হাতের কাজে উৎসাহ দেওয়া, যেমন তানভীরের ক্ষেত্রে হয়েছে।

    বিদ্যালয়ের পদক্ষেপ: (১) শিশুর বিশেষ চাহিদার ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী শিক্ষাদানের ব্যবস্থা করা। (২) বিদ্যালয়ের পরিবেশ তাদের চলাফেরা ও শিক্ষার উপযোগী করা। (৩) কারিগরি বিদ্যা ও হাতের কাজ শেখানোর সুযোগ রাখা।

    সমাজের পদক্ষেপ: (১) এসব শিশুকে দয়ার চোখে না দেখে সম্মান ও সমান সুযোগ দেওয়া। (২) বিনোদন কেন্দ্র ও প্রতিযোগিতায় তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা, যেমন শিশু অলিম্পিক।

    এভাবে পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে তানভীরের মতো শিশুরা স্বাধীনভাবে বেড়ে উঠে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে পারবে এবং সমাজের সক্রিয় সদস্য হয়ে উঠবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও