রসায়ন • আমাদের জীবনে রসায়ন (Chemistry in Our Lives)

রসায়ন প্রশ্ন

একটি সার কারখানায় 1 : 3 আয়তন অনুপাতে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন গ্যাসের মিশ্রণে লোহা (Fe) যোগ করে 450-550°C তাপমাত্রা ও 200-250 atm চাপে একটি গ্যাস উৎপাদন করা হয়। বিক্রিয়ার সময় তাপ নির্গত হয়। একদিন কারখানার একটি ব্যাচে 20 L নাইট্রোজেন ব্যবহার করা হলো (সব গ্যাস একই তাপমাত্রা ও চাপে মাপা)। কারখানা পরিদর্শনে আসা শিক্ষার্থী নিলয় বিদ্যালয়ের ল্যাবে একই গ্যাস তৈরি করতে 10.7 g অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইডের সাথে প্রয়োজনীয় পরিমাণ কলিচুন মিশিয়ে একটি টেস্টটিউবে উত্তপ্ত করল। [N = 14, H = 1, Cl = 35.5]

  1. ক)

    হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনে কোন প্রভাবক ব্যবহৃত হয়?

    (1)
  2. খ)

    হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনের বিক্রিয়াকে উভমুখী বিক্রিয়া বলা হয় কেন?

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের ব্যাচে 20 L নাইট্রোজেনের জন্য কত লিটার হাইড্রোজেন প্রয়োজন এবং বিক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হলে কত লিটার অ্যামোনিয়া পাওয়া যাবে? সমীকরণসহ নির্ণয় করো।

    (3)
  4. ঘ)

    নিলয়ের ল্যাবের পরীক্ষায় কত গ্রাম অ্যামোনিয়া পাওয়া যাবে তা নির্ণয় করো। এরপর যুক্তিসহ বিশ্লেষণ করো, কারখানায় ল্যাবের পদ্ধতি না নিয়ে হেবার পদ্ধতি কেন ব্যবহৃত হয়।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনে প্রভাবক হিসেবে লোহা (Fe) ব্যবহৃত হয়।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর এই বিক্রিয়ায় একদিকে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করে। অপরদিকে উৎপন্ন অ্যামোনিয়ার কিছু অংশ আবার ভেঙে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেনে পরিণত হয়। বিক্রিয়াটি একই সাথে সম্মুখ ও বিপরীত দুই দিকেই ঘটে বলে একে উভমুখী বিক্রিয়া বলা হয় এবং সমীকরণে উভমুখী তীর চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বিক্রিয়ার সমীকরণ: N2+3H2⇌2NH3N_2 + 3H_2 \rightleftharpoons 2NH_3
    1 : 3 অনুপাতে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন নেওয়া হয়, অর্থাৎ নাইট্রোজেনের তিন গুণ হাইড্রোজেন লাগে।
    প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন = 20×3=6020 \times 3 = 60 L।
    সমান তাপমাত্রা ও চাপে গ্যাসের আয়তন মোল সংখ্যার সমানুপাতিক। সমীকরণ অনুযায়ী 1 আয়তন N2N_2 থেকে 2 আয়তন NH3NH_3 পাওয়া যায়।
    সুতরাং অ্যামোনিয়া = 20×2=4020 \times 2 = 40 L (বিক্রিয়া সম্পূর্ণ ধরে)।
    উত্তর: হাইড্রোজেন 60 L এবং অ্যামোনিয়া 40 L।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর ল্যাবের বিক্রিয়া: 2NH4Cl+Ca(OH)2→Δ2NH3+CaCl2+2H2O2NH_4Cl + Ca(OH)_2 \xrightarrow{\Delta} 2NH_3 + CaCl_2 + 2H_2O
    NH4ClNH_4Cl এর মোলার ভর = 14+4×1+35.5=53.514 + 4 \times 1 + 35.5 = 53.5 g/mol।
    NH4ClNH_4Cl এর মোল = 10.753.5=0.2\frac{10.7}{53.5} = 0.2 mol।
    সমীকরণ অনুযায়ী 2 mol NH4ClNH_4Cl থেকে 2 mol NH3NH_3 পাওয়া যায়, তাই 0.2 mol NH3NH_3 পাওয়া যাবে।
    NH3NH_3 এর মোলার ভর = 14+3=1714 + 3 = 17 g/mol।
    অ্যামোনিয়ার ভর = 0.2×17=3.40.2 \times 17 = 3.4 g।
    উত্তর: 3.4 g অ্যামোনিয়া।
    বিশ্লেষণ: ল্যাবের পদ্ধতিতে প্রতি মোল অ্যামোনিয়ার জন্য এক মোল অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ও আধা মোল কলিচুন খরচ হয়, অর্থাৎ বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক কিনতে হয়, যা বড় পরিসরে ব্যয়বহুল। আর বিক্রিয়াটি ব্যাচ আকারে টেস্টটিউবে ঘটে, ফলে ক্রমাগত উৎপাদন সম্ভব নয়। হেবার পদ্ধতিতে কাঁচামাল নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন সহজলভ্য। লোহা প্রভাবক এবং নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও উচ্চ চাপ প্রয়োগ করে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রচুর অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা যায়। উভমুখী বিক্রিয়ায় যে গ্যাস অবিক্রিত থাকে তা পুনরায় ব্যবহার করা যায়। তাই বাণিজ্যিক উৎপাদনে হেবার পদ্ধতি লাভজনক, আর অল্প পরিমাণ গ্যাস দরকার হলে ল্যাবের পদ্ধতি উপযোগী।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও