ইতিহাস ২য় পত্র • স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী বিশ্ব
ইতিহাস ২য় পত্র প্রশ্ন
বন্দরনগরীর একটি জাহাজ মেরামত কারখানার শ্রমিক নেতা সাদেক বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিকদের সংগঠিত করে একটি আন্দোলন গড়ে তোলেন। সরকারি দমননীতির মুখে তাকে কারাবন্দি করা হলে তার অনশন সবার দৃষ্টি কাড়ে। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ গোলটেবিল আলোচনায় বসে, তিনি মুক্তি পান এবং নির্বাচনে তার দল জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে।
- ক)(1)
লেস ওয়ালেসা কত খ্রিষ্টাব্দে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন?
- খ)(2)
‘অক্টোবরের বসন্ত’ বলতে কী বোঝ?
- গ)(3)
উদ্দীপকের শ্রমিক নেতার সাথে পাঠ্যবইয়ের কোন নেতার মিল আছে? তার আন্দোলনের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা কর।
- ঘ)(4)
‘সোভিয়েত নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তিলাভে পোল্যান্ড পূর্ব ইউরোপে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা নিয়েছিল’— বিশ্লেষণ কর।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেস ওয়ালেসা ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর স্টালিনবাদ উচ্ছেদের যুগে পূর্ব ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোতে উদারনীতির সরকার প্রবর্তিত হয়। পোল্যান্ডে এ উদার মনোভাবকে ‘অক্টোবরের বসন্ত’ বলা হয়। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের দাঙ্গা-হাঙ্গামার পর অক্টোবর মাসে গোমুলকাকে মর্যাদার সাথে ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করা হয়। মস্কোও পোল্যান্ডের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নেয়।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের শ্রমিক নেতা সাদেকের সাথে পাঠ্যবইয়ের পোল্যান্ডের শ্রমিক নেতা লেস ওয়ালেসার মিল আছে।
১৯৮০ খ্রিষ্টাব্দের আগস্টে ওয়ালেসা পোল্যান্ডের রাজনীতিতে শ্রমিক দলের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। জাহাজের ডকইয়ার্ডের শ্রমিকদের নিয়ে গঠিত দলের নাম ছিল সলিডারিটি এবং আন্দোলনের নাম Solidarity Movement। এ আন্দোলনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল পোল্যান্ডকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্ত করা এবং জনগণকে প্রস্তুত করে গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা লাভ করা। এছাড়া অর্থনীতিতে উদার নীতি, ব্যক্তিগত মালিকানায় উৎপাদনে উৎসাহ এবং বৈদেশিক মূলধন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও আন্দোলনের অংশ ছিল। উদ্দীপকের নেতার কর্মকাণ্ড একই উদ্দেশ্যের প্রতিফলন।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর মন্তব্যটি যথার্থ। উদ্দীপকে একটি শ্রমিক আন্দোলনের সফল পরিণতি দেখানো হয়েছে, যা পোল্যান্ডের ঘটনার সাথে মেলে। পোল্যান্ডের অভিজ্ঞতা পূর্ব ইউরোপের অন্যান্য দেশের জন্য দিকনির্দেশক হয়ে উঠেছিল।
১. রাশিয়াকে বাধ্য করা: ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাশিয়ার অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে দাঙ্গা-হাঙ্গামা হলে মস্কো গোমুলকাকে ক্ষমতায় বসায়, পোল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে এবং সেনাবাহিনী প্রধান রকোসভস্কিকে প্রত্যাহার করে নেয়।
২. হাঙ্গেরিকে অনুপ্রেরণা: পোল্যান্ডের আন্দোলনের সাফল্যে উৎসাহিত হয়ে হাঙ্গেরিতে ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে আন্দোলন শুরু হয়।
৩. সলিডারিটি আন্দোলন: ওয়ালেসার নেতৃত্বে শ্রমিকরা সোভিয়েতবিরোধী ও কৃষকবান্ধব দাবিতে সংগঠিত হয়। কৃষক পার্টির সাথে মৈত্রীর ফলে কমিউনিস্ট দল গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
৪. গণতান্ত্রিক রূপান্তর: সামরিক শাসন ও কারাবাস সত্ত্বেও গোলটেবিল আলোচনার মাধ্যমে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্বাচনে সলিডারিটি জয়ী হয় এবং কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়। এভাবে কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটে।পোল্যান্ডের এ ধারাবাহিক সাফল্য প্রমাণ করে, জনগণের দৃঢ়তা থাকলে একদলীয় শাসনকে পরাজিত করা যায়। তাই পূর্ব ইউরোপে পোল্যান্ডকে পথপ্রদর্শক বলা যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও