সাহিত্য পাঠ • গহন কোন বনের ধারে
সাহিত্য পাঠ প্রশ্ন
খাগড়াছড়ির এক গ্রামে সুলতান সাহেব পাহাড়ের গা কেটে ও ঝোপজঙ্গল পুড়িয়ে রিসোর্ট বানানোর কাজ শুরু করেন। এতে বহু পাখির বাসা ও বন্যপ্রাণীর আশ্রয় নষ্ট হয়। কিছুদিনের মধ্যেই ক্ষুধার্ত বন্যহাতি ও সাপ লোকালয়ে ঢুকে ফসল ও গবাদিপশুর ক্ষতি করতে থাকে। গ্রামের প্রবীণ এক চাকমা বৃদ্ধ বললেন, 'আমরা তাদের ঘর কেড়েছি, তারা আমাদের উঠানে না এসে যাবে কোথায়?'
- ক)(1)
লেখকের বড়দা কোন জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন?
- খ)(2)
"দোষ আমাদের, সাপের নয়"- শোভা বুড়ো এ কথা বলেছিল কেন?
- গ)(3)
উদ্দীপকের সুলতান সাহেবের কাজ 'গহন কোন বনের ধারে' রচনার কার কাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
- ঘ)(4)
"মানুষ জঙ্গলের দেবতাকে মান্য করে না, তার রাজ্য তারা দখল করে নিচ্ছে। ফল ভালো হবে না।"- উদ্দীপকের আলোকে শোভা বুড়োর এই উক্তির যথার্থতা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর ও ব্যাখ্যা
- ক)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর লেখকের বড়দা শঙ্খচূড় সাপের জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিলেন।
- খ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর বড়দার একটি দুধেল গাই বনে চরতে গিয়ে সাপের কামড়ে মারা যায়। এতে রেগে গিয়ে তিনি সাপের জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দেন। শোভা বুড়োর মতে বনজঙ্গল জীবজন্তুর রাজ্য, সেখানে মানুষের কোনো একতিয়ার নেই। সাপ নিজের দখল এলাকায় থেকেছে এবং গরুটি সেই এলাকায় ঢুকেছিল। সাপ তার গর্তে থেকে আত্মরক্ষায় কামড় দিয়েছে। তাই শোভা বুড়ো সাপকে নয়, মানুষকেই দায়ী করেছিল।
- গ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর উদ্দীপকের সুলতান সাহেবের কাজ রচনার বড়দার কাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। রচনায় দেখা যায়, বড়দার একটি দুধেল গাই সাপের কামড়ে মারা গেলে তিনি রেগে গিয়ে শঙ্খচূড়ের জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দেন। চৈত্র মাসের শুকনো বনে অঢেল খরাপাতা ও ঘাসের কারণে মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং দুতিন ঘণ্টায় গোটা এলাকা সাফ হয়ে যায়। সেখানে সাপের ডিম, ছানা ও পাখির বাসা পুড়ে মরারও আশঙ্কা ছিল। উদ্দীপকে সুলতান সাহেবও নিজের স্বার্থে পাহাড়ের গা কেটে ও ঝোপজঙ্গল পুড়িয়ে বনের প্রাণীদের আশ্রয় নষ্ট করেছেন। উভয়ের কাজেই প্রাণীজগতের অধিকার উপেক্ষা করে মানুষের স্বার্থ ও আক্রোশকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই সুলতান সাহেবের কাজ বড়দার কাজের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
- ঘ)
AI-তৈরি নমুনা উত্তর শোভা বুড়োর উক্তিটি পরিবেশ ও প্রাণিজগতের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের এক গভীর সত্য প্রকাশ করেছে, যার যথার্থতা উদ্দীপকের ঘটনায় স্পষ্ট। রচনায় শোভা বুড়ো বড়দার জঙ্গল পোড়ানোর কাজকে সমর্থন করেনি। তার মতে বনজঙ্গল জীবজন্তুর রাজ্য এবং সেখানে জঙ্গলের নিয়ম মেনে চলাই উচিত। মানুষ সেই নিয়ম ভাঙলে এর ফল ভালো হয় না। উদ্দীপকে সুলতান সাহেব রিসোর্ট বানাতে গিয়ে পাহাড় কেটে ও জঙ্গল পুড়িয়ে বন্যপ্রাণীর আশ্রয় কেড়ে নিয়েছেন। ফলে খাদ্য ও আশ্রয় হারিয়ে হাতি ও সাপ লোকালয়ে ঢুকে ফসল ও গবাদিপশুর ক্ষতি করছে। চাকমা বৃদ্ধের কথায়ও একই বোধ ধ্বনিত হয়েছে। রচনার শেষ অংশেও দেখা যায়, পঞ্চাশ বছর পর পাহাড়ের সেই এলাকা আবাদ হয়ে গেছে এবং সাপখোপ, জন্তুজানোয়ার, পাখপাখালি সবই লাপাত্তা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, বন দখলের পরিণতি কেবল প্রাণীদের বিলুপ্তি নয়, মানুষের নিজের জীবনেও এর প্রভাব পড়ে। অতএব উদ্দীপকের ঘটনা শোভা বুড়োর উক্তির সত্যতাই প্রমাণ করে; উক্তিটি যথার্থ।
আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও