গার্হস্থ্য বিজ্ঞান • শিশুর বিকাশ ও পারিবারিক পরিবেশ

গার্হস্থ্য বিজ্ঞান প্রশ্ন

নবম শ্রেণির ছাত্র তামিমের বাবা একজন রিকশাচালক ছিলেন। হঠাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় তার মৃত্যু হয়। পরিবারে আছেন মা, তামিম এবং পাঁচ বছর বয়সী ছোট বোন তিথি। মা সারাদিন কান্নাকাটি করেন, তিথির দিকে ঠিকমতো নজর দিতে পারেন না। সংসারে অভাব দেখা দেওয়ায় তিথির খাওয়া-দাওয়াও ঠিকমতো হয় না। সে আজকাল চুপচাপ থাকে ও রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না। তামিম এ পরিস্থিতিতে কী করবে বুঝতে পারছে না।

  1. ক)

    পারিবারিক বিপর্যয় বলতে কী বোঝায়?

    (1)
  2. খ)

    বাবার মৃত্যুতে পরিবারে আর্থিক সংকট প্রকট হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

    (2)
  3. গ)

    উদ্দীপকের পরিস্থিতিতে তিথির বিকাশে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে? ব্যাখ্যা করো।

    (3)
  4. ঘ)

    উদ্দীপকের সংকট মোকাবিলায় তামিমের কী কী করণীয় আছে? যুক্তিসহ মূল্যায়ন করো।

    (4)

উত্তর ও ব্যাখ্যা

  1. ক)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পরিবারের সদস্যদের জন্য কষ্টদায়ক ও স্বাভাবিক জীবন বিঘ্নিতকারী ঘটনা, যেমন মা বা বাবার মৃত্যু, গুরুতর অসুস্থতা, বিবাহ-বিচ্ছেদ ইত্যাদিকে পারিবারিক বিপর্যয় বলে।

  2. খ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর সাধারণত পরিবারে বাবাই উপার্জন করেন। বাবার মৃত্যুতে পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ হয়ে যায়। অথচ সন্তানদের ভরণ-পোষণ, চিকিৎসা ও লেখাপড়ার খরচ আগের মতোই থেকে যায়। আয় না থাকলে এসব ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। বিভিন্ন বয়সের শিশু থাকলে সংকট আরও বাড়ে। তাই বাবার মৃত্যুতে আর্থিক সংকট প্রকট হয়।

  3. গ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর বাবার মৃত্যুজনিত বিপর্যয় তিথির স্বাভাবিক বিকাশ বিঘ্নিত করছে। তার বিকাশে নিম্নলিখিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। ১. স্নেহবঞ্চনা: বাবার মৃত্যুতে সে স্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। মাও শোকে কাতর থাকায় তাকে যথেষ্ট সময় ও আদর দিতে পারছেন না। ২. যত্ন ও পুষ্টির অভাব: আর্থিক সংকটে তিথির খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো হচ্ছে না। এতে তার শারীরিক বৃদ্ধি ও মস্তিষ্কের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ৩. মানসিক সমস্যা: সে চুপচাপ ও অন্তর্মুখী হয়ে পড়ছে, ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছে। এ ধরনের মানসিক কষ্ট শারীরিক কষ্টে রূপ নিতে পারে এবং সে ভীত ও হতাশাগ্রস্ত হতে পারে। ৪. নিরাপত্তাহীনতা: বাবাকে হারানোর পর মাকেও হারানোর ভয় থেকে তার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হতে পারে।

  4. ঘ)

    AI-তৈরি নমুনা উত্তর পারিবারিক বিপর্যয়ে সদস্যরা একত্র হয়ে সংকট মোকাবিলা করলে সমস্যা অনেক কমে যায়। কিশোর বয়সের সন্তান হিসেবে তামিম এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার করণীয় ও যৌক্তিকতা নিচে দেওয়া হলো। ১. আয় বাড়ানো ও ব্যয় কমানো: প্রধান সমস্যা আর্থিক সংকট। তামিম পড়াশোনার পাশাপাশি আয় বাড়ানোর চেষ্টা করতে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে পারে। এতে তিথির খাবার ও প্রয়োজন মেটানো সহজ হবে। ২. পারিবারিক কাজে অংশ নেওয়া: ঘরের কাজ নিজে করলে ব্যয় কমে এবং মায়ের চাপও কমে। ৩. তিথির যত্ন ও সময় দেওয়া: তামিম তিথির দেখাশোনার দায়িত্ব নিলে এবং তার সাথে সময় কাটালে ও আদর করলে তিথি নিজেকে স্নেহবঞ্চিত মনে করবে না। তার একাকিত্ব ও নিরাপত্তাহীনতা কমবে। ৪. দুঃখ ভাগাভাগি ও ধৈর্য ধারণ: মায়ের সাথে কষ্ট ভাগ করে নিলে এবং ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করলে মা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবেন ও তিথির দিকে মনোযোগ দিতে পারবেন। ৫. নিজেকে প্রস্তুত করা: তামিম মানসিক চাপমুক্ত থেকে পরিস্থিতির ইতিবাচক দিক খুঁজবে এবং ভবিষ্যৎ পেশার জন্য নিজেকে তৈরি করতে লেখাপড়ায় আরও মনোযোগী হবে। এতে সে ভবিষ্যতে পরিবারের হাল ধরতে পারবে। সুতরাং এসব করণীয় পালন করলে তামিম নিজের পরিবারকে সংকট থেকে উত্তরণে কার্যকর সহায়তা করতে পারবে।

আরও প্রশ্ন অনুশীলন করতে অ্যাপে যাও